Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পঁচিশ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসব (ইফি)-র মঞ্চে এক মন্তব্য ঘিরে যে ঝড় উঠেছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি (Ranveer Singh Kantara case)। বলিউড তারকা রণবীর সিং ‘কান্তারা’ ছবির একটি দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে পরিচালক-অভিনেতা ঋষভ শেট্টি-র দৈব নৃত্যকে ‘ভূত’ বলে উল্লেখ করেছিলেন এমন অভিযোগে সরব হয় কর্ণাটকের তুলু সম্প্রদায়ের একাংশ। তাঁদের দাবি, এই মন্তব্যে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। সেই থেকেই শুরু আইনি জটিলতা, এফআইআর, এমনকি ফৌজদারি মামলার প্রক্রিয়াও।

মঞ্চ থেকে ভাইরাল ক্লিপ (Ranveer Singh Kantara case)
গোয়ার ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আলো-ঝলমলে মঞ্চে রণবীর সিং মূলত ঋষভ শেট্টির অভিনয়দক্ষতার প্রশংসাই করতে চেয়েছিলেন, এমনটাই তাঁর দাবি। কিন্তু একটি শব্দচয়ন, একটি তুলনা, একটি দৃশ্যের ব্যাখ্যা সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মুহূর্তেই প্রসঙ্গচ্যুত হয়ে ভাইরাল হয়ে যায়। দক্ষিণী চলচ্চিত্রমহল থেকে শুরু করে দেশজুড়ে বিতর্ক ছড়ায়। ‘কান্তারা’ ছবিতে যে দৈব নৃত্যের দৃশ্য রয়েছে, তা তুলু অঞ্চলের লোকবিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে সেই দৃশ্যকে হালকা ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে এই অভিযোগেই ক্ষুব্ধ হন অনেকেই।
ধর্মীয় অনুভূতি বনাম শিল্পীর স্বাধীনতা (Ranveer Singh Kantara case)
এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে এক চিরন্তন প্রশ্ন শিল্পীর বাক্স্বাধীনতার সীমা কোথায়? একটি পারফরম্যান্সের রূপক বা নাটকীয়তা বোঝাতে গিয়ে যদি ব্যবহৃত শব্দ কারও ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করে, তবে দায় কতটা শিল্পীর? রণবীরের বক্তব্য, তিনি কেবল একজন অভিনেতা হিসেবে অন্য একজন অভিনেতার কসরত ও পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগকারীদের মতে, লোকঐতিহ্যের দেব-সংক্রান্ত উপস্থাপনাকে ‘ভূত’ বলে ব্যঙ্গ করা অসম্মানজনক। এই টানাপোড়েনই আইনি লড়াইয়ের মূলে।
আইনি জটিলতা ও কর্ণাটক হাই কোর্ট (Ranveer Singh Kantara case)
বিতর্কের জেরে কর্ণাটকে রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। পরে ফৌজদারি মামলাও শুরু হয়। মামলা বাতিলের আবেদন জানিয়ে অভিনেতা কর্ণাটক হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি এম নাগপ্রসন্নের বেঞ্চে রণবীরের পক্ষের আইনজীবী যুক্তি দেন এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিকৃতি, যেখানে প্রশংসাকেই অপরাধের রং দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের তরফে দুটি আইনি নোটিস জারির প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়, অভিনেতার উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে আদালত কড়া মন্তব্যও করে “বলিউড তারকা বলেই কি এই মামলাকে জরুরি ভিত্তিতে শোনা হবে?” এই প্রশ্নে যেন তারকাখ্যাতির বিশেষ সুবিধা পাওয়ার প্রবণতাকেই খোঁচা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী মঙ্গলবার।
ক্ষমা প্রার্থনা ও তার সীমা (Ranveer Singh Kantara case)
গত ডিসেম্বরেই রণবীর সিং প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে জানান, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ঋষভ শেট্টির অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রশংসা করা। একজন অভিনেতা হিসেবে তিনি জানেন, এমন দৃশ্যে অভিনয় করতে কতখানি পরিশ্রম প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি দেশের বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তবুও ক্ষমা প্রার্থনায় বিতর্ক স্তিমিত হয়নি। কারণ, অনেকের মতে কেবল ‘উদ্দেশ্য ভালো ছিল’ বললেই দায়মুক্তি হয় না; জনসমক্ষে উচ্চারিত শব্দের সামাজিক অভিঘাতও বিবেচ্য।
আরও পড়ুন: Suniti Kum ar Chatterjee: মহাগ্রন্থের শতবর্ষ! ‘ও-ডি-বি-এল’এই বই বাঙালির আত্মপরিচয়ের শিকড়
তারকা-দায়িত্ব ও জনপরিসরের ভাষা
এই ঘটনাকে কেবল একটি মন্তব্যের ভুল বা অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বরং এটি দেখায়, আজকের ডিজিটাল জনপরিসরে তারকাদের প্রতিটি শব্দ কতখানি গুরুত্ব বহন করে। বলিউডের জনপ্রিয় মুখ হিসেবে রণবীর সিংয়ের বক্তব্য বহু মানুষের কাছে প্রভাবশালী। ফলে তাঁর মন্তব্যের ব্যাখ্যা বা ভুল ব্যাখ্যা দু’টিই সমানভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্যের প্রতি সংবেদনশীলতা এখন আগের চেয়ে বেশি আলোচিত। ‘কান্তারা’-র সাফল্যই প্রমাণ করেছে, স্থানীয় বিশ্বাস ও আচারও জাতীয় পরিসরে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।



