Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবস আর মাত্র কয়েক দিন দূরে (Republic Day)। গোটা দেশ যখন জাতীয় উৎসবের রঙে রাঙিয়ে উঠতে চলেছে, ঠিক সেই সময়েই রাজধানী দিল্লির নিরাপত্তা মানচিত্রে দেখা দিয়েছে এক গভীর ও জটিল আশঙ্কা। সাম্প্রতিক একটি অত্যন্ত গোপন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আশঙ্কা, এ বার হামলার ধরন হবে সম্পূর্ণ নতুন কম খরচের বিস্ফোরক, ড্রোন প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেটে সহজলভ্য রাসায়নিকের মারণ মিশেল। প্রজাতন্ত্র দিবস এবং ‘বিটিং দ্য রিট্রিট’ অনুষ্ঠানের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের উপর নজর রেখে জঙ্গিরা তাদের কৌশল বদলেছে বলেই মত গোয়েন্দাদের।

‘লো-কস্ট এক্সপ্লোসিভ’ (Republic Day)
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, প্রচলিত RDX বা সামরিক মানের বিস্ফোরকের বদলে এ বার জঙ্গিরা ব্যবহার করতে পারে তথাকথিত ‘লো-কস্ট এক্সপ্লোসিভ’ (Republic Day)। এই বিস্ফোরক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিকগুলি বাজারে বা অনলাইনে সহজেই পাওয়া যায়। ফলে নজরদারি এড়িয়ে সেগুলি সংগ্রহ করা তুলনামূলকভাবে অনেক সহজ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এই ধরনের বিস্ফোরকে ধাতব উপাদানের ব্যবহার অত্যন্ত কম। ফলে মেটাল ডিটেক্টর বা স্নিফার ডগ অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হতে পারে।
জঙ্গি প্রশিক্ষণের নতুন ক্লাসরুম (Republic Day)
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট (IS)-এর মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলি সোশ্যাল মিডিয়াকে কার্যত একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে। ‘ডু-ইট-ইয়োরসেলফ’ বা DIY পদ্ধতিতে বোমা বানানোর ভিডিও, ধাপে ধাপে নির্দেশিকা, এমনকি হামলার পরিকল্পনার ব্লু-প্রিন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মে। এই ডিজিটাল র্যাডিক্যালাইজেশন নতুন প্রজন্মের ‘লোন উলফ’ জঙ্গি তৈরির আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় ফাঁক (Republic Day)
গোয়েন্দাদের মতে, এ বার হামলার ক্ষেত্রে জঙ্গিরা প্রযুক্তির পাশাপাশি ছদ্মবেশের উপরও জোর দিচ্ছে। ভুয়ো পরিচয়পত্র, নকল পাস, এমনকি নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর উর্দি পরে VVIP জ়োনে ঢোকার পরিকল্পনাও করা হতে পারে। এর ফলে ‘ইনসাইড থ্রেট’ বা ভেতর থেকে হামলার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
‘অপারেশন সিঁদুর’ (Republic Day)
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ ‘অপারেশন সিঁদুর’। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে এই অপারেশনের বদলা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবা-র মতো পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনগুলি।তাদের তথাকথিত হিটলিস্টে রয়েছে, ভারতের বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র, বিখ্যাত ধর্মীয় স্থান, জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় VVIP ব্যক্তিত্বরা

একটি ‘টেস্ট রান’? (Republic Day)
গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণ নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে ফরিদাবাদের হোয়াইট কলার টেরর মডিউল-এর যোগসূত্র। গোয়েন্দাদের ধারণা, এটি ছিল আসন্ন বড় হামলার একটি ‘টেস্ট রান’ বা মহড়া। এই ঘটনার পর থেকেই প্রজাতন্ত্র দিবসকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বহুগুণ বেড়েছে।
ড্রোন হামলার আশঙ্কা (Republic Day)
শুধু স্থলপথ নয়, গোয়েন্দাদের মতে ড্রোন বা রিমোট-অপারেটেড সিস্টেম ব্যবহার করে আকাশপথে হামলার সম্ভাবনাও অত্যন্ত প্রবল। ছোট আকারের ড্রোনে বিস্ফোরক বেঁধে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় হামলা চালানো যেতে পারে যা আটকানো প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন। এর পাশাপাশি, নিত্যব্যবহার্য সামগ্রীর আড়ালে বোমা লুকিয়ে রাখার পুরোনো কিন্তু কার্যকর কৌশলও নতুন করে প্রয়োগ করা হতে পারে।

আরও পড়ুন:Folk Festival: ব্রাহ্মণ্য শিবের বাইরে বাংলার লোকশিবের আলাদা পরিচয়
হাই অ্যালার্ট দিল্লি
এই বহুমুখী ও হাই-টেক হুমকির মোকাবিলায় দিল্লি পুলিশ, আধা-সামরিক বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ‘হাই অ্যালার্ট’-এ রয়েছে। নজরদারি, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সমন্বয়ের উপর জোর দিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, উৎসবের আনন্দের ভিড়ে লুকিয়ে থাকা এই অদৃশ্য শত্রুকে কি পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব? প্রজাতন্ত্র দিবসের গর্ব ও মর্যাদা রক্ষা করতে দেশ আজ এক নিঃশব্দ কিন্তু ভয়ংকর পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে। সময়ই বলবে, সতর্কতা ও প্রস্তুতি এই সন্ত্রাসের ছায়াকে কতটা দূরে রাখতে পারে।



