Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এখন আর ইউক্রেনের সীমানায় আটকে নেই (Russias Frequent Attack)। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নাশকতা, সাইবার হামলা, ড্রোনের ব্যবহার এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘনের মতো ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ না হলেও কি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ‘শ্যাডো ওয়ার’?
জার্মানির মাটিতে ড্রোন হামলার অভিযোগ (Russias Frequent Attack)
জার্মানির লেপজিগ বিমানবন্দরকে ঘিরে ড্রোন হামলার অভিযোগ পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। জার্মানি-সহ ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেলপথ, সামরিক পরিকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নাশকতার অভিযোগ উঠছে। ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির একাংশের দাবি, এর পিছনে রুশ গুপ্তচর নেটওয়ার্কের যোগ থাকতে পারে। যদিও মস্কো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ন্যাটোর কড়া বার্তা, পাশে আমেরিকাও (Russias Frequent Attack)
এই পরিস্থিতিতে ন্যাটো রাশিয়াকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইউরোপীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, কোনও সদস্য দেশের উপর আক্রমণ হলে তা শুধু সেই দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে দেখা হবে না। ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় ইউরোপের পাশে দাঁড়াবে আমেরিকাও। ফলে ছোট আকারের নাশকতা বা হাইব্রিড হামলা কখন সরাসরি সামরিক সংঘাতে পরিণত হবে, তা নিয়েই বাড়ছে আশঙ্কা।
ইউরোপকে পিছনে ফেলছে (Russias Frequent Attack)
সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে সামরিক সক্ষমতা। ইউক্রেনকে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও অর্থ সাহায্য করতে গিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলির অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়া গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎপাদন বাড়িয়েছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে ইউরোপ কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন রয়েছে।
‘স্প্লিন্টারিং’ কৌশলে সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়েই চাপ?
রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরাসরি ন্যাটোর সঙ্গে যুদ্ধে না গিয়ে ছোট ছোট হামলা, সাইবার আক্রমণ, নাশকতা, বিভ্রান্তিমূলক প্রচার এবং গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে ইউরোপের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। এই কৌশলই ‘হাইব্রিড ওয়ার’-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর ফলে যুদ্ধের সীমারেখা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে—কোনটি অপরাধ, কোনটি গুপ্তচরবৃত্তি আর কোনটি সামরিক আগ্রাসন, তা নির্ধারণ করাও কঠিন হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Jeetu Kamal: বিতর্কের মাঝেই ‘বিগ বস’-এ জীতু কমল!
২০৩০-এর আগে কি সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কা?
ন্যাটো ইতিমধ্যেই ভবিষ্যৎ রুশ আগ্রাসনের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক। ইউরোপীয় দেশগুলি প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ, অস্ত্রের ঘাটতি এবং আমেরিকার উপর ইউরোপের দীর্ঘদিনের নির্ভরতা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে রাশিয়া-ইউরোপ সংঘাত এখনই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে পরিণত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে শ্যাডো ওয়ারের মাত্রা বাড়তে থাকলে একটি ছোট ঘটনা থেকেই বড় সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত হতে পারে—আর সেই আশঙ্কাই আজ ইউরোপের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।



