Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বীরভূম জেলার সাঁইথিয়ার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল স্থানীয় বাসিন্দারা (Sainthia News)। একটি বন্ধ বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হলো মা ও ছেলের রক্তাক্ত দেহ। মৃতদের নাম যথাক্রমে বানি রায় এবং তাঁর ছেলে জ্যোতির্ময় রায়।
জানা গিয়েছে, জ্যোতির্ময় স্থানীয়ভাবে কাঠের কাজ করতেন। তবে ব্যবসার অনিয়মিত আয় এবং বাজারে প্রচুর ধার দেনার চাপে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই আর্থিক চাপই হয়তো মা-ছেলের মৃত্যুর নেপথ্যে প্রধান কারণ।

ভয়াবহ দৃশ্য (Sainthia News)
খবর সূত্রে জানা যায় স্থানীয়দের বক্তব্য, শেষবার তাঁরা মা-ছেলেকে দেখেছিলেন আগের দিন বিকেলে। সকালে কোনও সাড়া-শব্দ না পেয়ে সন্দেহ হলে প্রতিবেশীরা জানালা দিয়ে উঁকি দেন। তখনই তাঁদের চোখে পড়ে রক্তাক্ত দেহ। খবর দেওয়া হয় থানায়, এবং পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে গলার নলি কাটা মৃতদেহ উদ্ধার করে।
তদন্তে নতুন প্রশ্ন (Sainthia News)
পুলিশ মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। আত্মহত্যা না কি অন্য কোনও অপরাধমূলক যোগ রয়েছে, সেই দিকেও তদন্ত চলছে। যদিও প্রাথমিক অনুমান, অর্থনৈতিক সংকট ও মানসিক চাপে জ্যোতির্ময় এই চরম পদক্ষেপ করেন।
সমাজের প্রতিক্রিয়া (Sainthia News)
এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা বানি রায়কে শান্ত-সরল মহিলা হিসেবে চিনতেন। অনেকেই মনে করছেন, গ্রামীণ জীবনে কাজের অনিশ্চয়তা, বেকারত্ব এবং ঋণের বোঝা পরিবারগুলোকে অস্বাভাবিক চাপে ফেলছে। মনোবিজ্ঞানীরাও মনে করছেন, গ্রামীণ ও ছোট শহরাঞ্চলে আর্থিক সংকটের কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।
মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি (Sainthia News)
একই সময়ে, পুরুলিয়া জেলার বান্দোয়ান ব্লকের লতাপাড়া গ্রামে ঘটেছে আরও এক ভয়াবহ ঘটনা। ভিন রাজ্যে সবজি বিক্রি করা আনন্দ গড়াই বাড়ি ফিরে দেখেন তাঁর স্ত্রী প্রিয়া গড়াই এবং তিন কন্যা বৈশাখী (১২), পল্লবী (১০) ও সৌরভী (৬) মেঝেতে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে।
তাঁদের দ্রুত বান্দোয়ান ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহগুলো পুরুলিয়ার সরকারি দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
দারিদ্র্যের অমানবিক পরিণতি
পাঁচজনের সংসার আনন্দ গড়াই প্রতিদিন সবজি বিক্রি করে চালাতেন। আর্থিক সংকট, দারিদ্র্য এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎই এই পরিবারের মৃত্যুর পিছনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, উৎসবের মরশুমে এমন করুণ ঘটনার অভিঘাত দীর্ঘদিন ধরে থেকে যাবে।
অসমে একই ধরণের ঘটনা
অসমের দারাং জেলার সিপাঝাড় থানার অন্তর্গত নরকালী মন্দির সংলগ্ন এলাকা থেকেও সম্প্রতি উদ্ধার হয়েছে এক পরিবারের তিন সদস্যের মৃতদেহ। ৫৫ বছরের দীপক নাথের দেহ বাড়ির পাঁচিলের পাশে পাওয়া যায়, আর ঘরের ভেতরে পাওয়া যায় তাঁর স্ত্রীর দেহ ও ১৩ বছরের সন্তানের টুকরো টুকরো মৃতদেহ।
সামাজিক সংকট
- অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা: অনিয়মিত কাজ, দারিদ্র্য এবং ঋণের বোঝা সাধারণ পরিবারকে অমানসিক চাপের মুখে ফেলছে।
- মানসিক স্বাস্থ্যের অভাব: গ্রামীণ ও ছোট শহরাঞ্চলে মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নেই বললেই চলে।
- সামাজিক সহায়তার অভাব: প্রতিবেশী ও পরিবারগুলো প্রায়ই সমস্যার গভীরতা বুঝতে পারেন না, ফলে চরম পরিণতি এড়ানো সম্ভব হয় না।



