Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হলদিয়ায় IOC-র গেট সংলগ্ন এলাকায় বিশ্বকর্মা পুজো আয়োজনকে কেন্দ্র করে তৈরি হল আইনি জটিলতা (Sayan Banerjee)। অভিযোগ, পুজোর সঙ্গে CITU-র সদস্যরা যুক্ত থাকায় পুলিশ প্রয়োজনীয় NOC বা অনুমতি দিচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার দাবি তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সংশ্লিষ্ট বিশ্বকর্মা পুজো কমিটি।
IOC-র অনুমতি থাকলেও পুলিশের NOC নিয়ে প্রশ্ন (Sayan Banerjee)
আইনজীবী সায়ন ব্যানার্জির বক্তব্য অনুযায়ী, হলদিয়া রিফাইনারির শ্রমিক ও কর্মচারীদের বিশ্বকর্মা পুজো উৎসব কমিটি পুজোর আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। IOC-র গেট সংলগ্ন এলাকায় পুজোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগোলেও পুলিশের তরফে NOC না দেওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়। কেন অনুমতি আটকে রাখা হল, তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনুমতির নির্দেশ (Sayan Banerjee)
মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন বলে দাবি করা হয়েছে। বক্তব্য অনুযায়ী, হলদিয়ার সংশ্লিষ্ট IC-কে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুজোর অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে আদালতের নির্দেশের পর বিশ্বকর্মা পুজো আয়োজনের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া জটিলতা অনেকটাই কাটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন (Sayan Banerjee)
আইনজীবী সায়ন ব্যানার্জির বক্তব্যের মূল সুর ছিল—ধর্ম পালন দেশের নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। কোনও সংগঠন বা রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে সেই অধিকার খর্ব করা যায় কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পুজোর অনুমতি পেতে যদি সাংবিধানিক আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান বনাম মাঠের বাস্তবতা (Sayan Banerjee)
এই ঘটনাকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারের নীতি নিয়েও সরব হয়েছেন সায়ন ব্যানার্জি। তাঁর বক্তব্য, একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বামপন্থীদের নবান্নে এসে বিশ্বকর্মা পুজোয় পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। অন্যদিকে হলদিয়ায় CITU-র সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের বিশ্বকর্মা পুজো করতে অনুমতির জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এখানেই তিনি সরকারের কথার সঙ্গে প্রশাসনিক বাস্তবতার মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন।

‘দ্বিচারিতা’ ও ‘হিপোক্রেসি’র অভিযোগ (Sayan Banerjee)
এই পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘দ্বিচারিতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন আইনজীবী। তাঁর প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিচয় বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে কি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনুমতি আটকে রাখা যায়? তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য এবং হলদিয়ার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে যদি এমন পার্থক্য থাকে, তাহলে তা সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ তৈরি করে।
আদালতের নির্দেশে নতুন বার্তা
হলদিয়ার এই ঘটনা শুধু একটি বিশ্বকর্মা পুজোর অনুমতি নিয়ে বিরোধ নয়, বরং প্রশাসন, রাজনৈতিক পরিচয় এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালতের নির্দেশের পর এখন দেখার, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুজোর অনুমতি দেওয়া হয় কি না। একইসঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেও নজর থাকবে।



