Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আর কয়েকদিন পরেই ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day 2026)। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় অনুষ্ঠানের জন্য রাজধানী দিল্লি ইতিমধ্যেই কার্যত নিরাপত্তার দুর্গে পরিণত হয়েছে। রাজপথে কুচকাওয়াজ, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি, বিদেশি অতিথি, তিন বাহিনীর সম্মিলিত শক্তি প্রদর্শন সব মিলিয়ে এই দিনটি ঘিরে থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতা।দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে মোতায়েন থাকবেন প্রায় ৫০ হাজার পুলিশকর্মী। এর পাশাপাশি থাকবে ৬৫ কোম্পানি আধা-সামরিক বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে। সন্দেহজনক কোনও ব্যক্তি বা বস্তু নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে ১১২ বা ১০৯০ নম্বরে ফোন করার আবেদন জানানো হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলিতে বিশেষ নজরদারি (Republic Day 2026)
প্রজাতন্ত্র দিবসের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দিল্লির প্রায় ৭০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- সেনা ভবন
- উদ্যোগ ভবন
- নির্মাণ ভবন
- বায়ুসেনা ভবন
- কাশ্মীর হাউস
- জাতীয় জাদুঘর
এই সমস্ত এলাকায় সিসিটিভি নজরদারি, কড়া তল্লাশি এবং নিয়মিত প্যাট্রোলিং চালানো হচ্ছে, যাতে কোনওভাবেই নিরাপত্তায় ফাঁক না থাকে।
আকাশপথে বিপদ এড়াতে অভিনব ব্যবস্থা (Republic Day 2026)
প্রজাতন্ত্র দিবসের অন্যতম আকর্ষণ হল বায়ুসেনার বিমান প্রদর্শনী। রাফাল, সুখোই-এর মতো আধুনিক যুদ্ধবিমান যখন দিল্লির আকাশে গর্জে ওঠে, তখন সামান্য একটি দুর্ঘটনাও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এই কারণেই প্রতি বছর বায়ুসেনা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে। দিল্লির আকাশে প্রচুর চিল, শকুন ও অন্যান্য বড় পাখি ওড়ে। বিমান ওড়ার সময় পাখির সঙ্গে ধাক্কা লাগার ঝুঁকি থাকে, যাকে বলা হয় বার্ড হিট। এই ঝুঁকি কমাতেই নেওয়া হয়েছে এক অভিনব অথচ কার্যকর ব্যবস্থা।
নিরাপত্তায় ‘মুরগি’ (Republic Day 2026)
হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হবে মুরগির মাংস। তাও আবার দুই-চার কেজি নয়, মোট ১২৭০ কেজি হাড়বিহীন মুরগির মাংস। এই মাংস কোনও ভোজের জন্য নয়। মূল উদ্দেশ্য, পাখিদের বিমানের উড়ানপথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা।

কীভাবে কাজ করে এই কৌশল? (Republic Day 2026)
দিল্লি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে, বায়ুসেনার বিমান করিডোর থেকে অনেকটা দূরে, ২০টি নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে নিয়মিতভাবে মুরগির মাংস ছড়ানো হবে। ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে মহড়া, প্রতিটি মাংসের টুকরোর ওজন ২০–৩০ গ্রাম পাখিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওই এলাকায় ধরে রাখাই লক্ষ্য ফলে বিমান যখন নিচু দিয়ে উড়বে, তখন পাখিরা খাবারের খোঁজে অন্যত্র ব্যস্ত থাকবে এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমবে।
মহিষের মাংস নয়, এবার কেন মুরগি? (Republic Day 2026)
পাখি ডাইভারশনের এই নীতি নতুন নয়। বহু বছর ধরেই প্রজাতন্ত্র দিবস ও বিমানঘাঁটির আশপাশে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে এই বছর প্রোটোকলে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে ব্যবহার করা হত মহিষের মাংস। কিন্তু প্রথমবারের মতো এবার তা বদলে দেওয়া হয়েছে হাড়বিহীন মুরগির মাংসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুরগির মাংস পাখিদের বেশি আকর্ষণ করে, হাড় না থাকায় ঝুঁকি কম, দ্রুত খাওয়া যায়, পাখিরা বেশি সময় থাকে।

পিক ফিডিং ও বিশেষ দিনগুলির পরিকল্পনা (Republic Day 2026)
জানা গিয়েছে, ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে ‘পিক ফিডিং’। অর্থাৎ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উড়ানগুলির সময় সর্বাধিক পরিমাণে মাংস ছড়ানো হবে। একদিনেই প্রায় ২৫৫ কেজি মুরগির মাংস ব্যবহার করা হবে, লক্ষ্য সর্বাধিক সংখ্যক পাখিকে বিমানের উড়ানপথ থেকে সরিয়ে রাখা।
আরও পড়ুন: Indo US : “পুরুষ কি গর্ভবতী হতে পারে?” প্রশ্নেই ভাইরাল ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক
কোন কোন এলাকাকে অগ্রাধিকার?
পাখির চলাচলের পুরনো তথ্য ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বেশ কিছু হটস্পট এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, লালকেল্লা, জামা মসজিদ, মান্ডি হাউস, দিল্লি গেট সংলগ্ন এলাকা এই সব জায়গায় পাখির সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এখানেই বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে।



