Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাড়ি ফিরেই নিজের পদক উৎসর্গ করলেন এক বিশেষ মানুষকে (Shivam Dube)।
নিজের পদক পরিয়ে দিলেন বাবাকে (Shivam Dube)
‘বাবা, ডান হাত নিবিড় করে ধরো আমার, ভয় দেখাচ্ছে কার্ট কোবেনের পোড়ো বাড়ি’ এই লাইনের সাথে পরিচয় এতদিনে প্রায় সকলের হয়ে গিয়েছে। গানের স্রষ্টা আর কেউ নন বাংলা রকের অন্যতম রকস্টার রূপম ইসলাম। যার দর্শন আজও শ্রোতাদের নাড়িয়ে দিতে পারে ভিতর থেকে। রক শব্দের প্রকৃত অর্থ এটাই বোধহয় যা মানুষকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। এই গানের জন্ম এক ভবঘুরে বাবা আর সন্তানের। যিনি কিনা তাঁর সন্তানের সাথে বেরিয়ে পড়ে, আমেরিকান প্রথা মেনে বার্বিকিউ-এর আগুন নেভায়। যাদের পথে গোলাপ থাকতে পারে আবার পাথরকুচিও থাকতে পারে। মাঝ রাস্তায় ভয় দেখায় কার্ট কোবেনের মৃত্যুবাড়ি। রাস্তায় নানান অপমানের সাক্ষী থাকে দুজন আর এই অপমানের মধ্যেই যেন লুয়ে আছে তাঁদের পুনরুত্থান (Shivam Dube)।
কাট টু হলিউড, অস্কারজয়ী হলিউড সুপারস্টার উইল স্মিথ অভিনীত বাস্তব কাহিনিভিত্তিক এক সংগ্রামী বাবার গল্প ‘দ্য পারসুইট অব হ্যাপিনেস’। যযেখানে এই অভিনেতা একমাত্র ছেলের জন্য সমস্ত প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেন। ছবিটিতে উইলের ছেলের চরিত্রে তার সত্যিকারের ছেলে জ্যাডেন স্মিথ অনবদ্য অভিনয় করেছেন। যা আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। প্রত্যেক সফল সনাতনের পিছনে থাকে বাবা বা মায়ের আত্মত্যাগ। সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নায়কদের পিছনেও রয়েছে এমন কিছু লুকিয়ে থাকা গল্প। সেই গল্পের সাক্ষী থেকেছে ক্রিকেটবিশ্ব।

বিশ্বজয় করে সদ্য বাড়ি ফিরেছেন শিবম দুবে। ভারতের বিশ্বজয়ে শিবম দুবের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। জয়ের আনন্দে নিজের পদক পরিয়ে দিলেন তাঁর বাবার গলায়। কারণ তিনি যেমন ভারতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তেমন তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ তাঁর বাবা । শিবমের আজ সফল হওয়ার পিছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। শিবমের বাবা রাজেশ দুবে নিজের ব্যবসার ক্ষতি করেও ছেলেকে সফল ক্রিকেটার বানাতে সব কিছু করেছেন। কঠোর পরিশ্রম আর কঠোর প্রশিক্ষণের পর তাঁকে কুল ডাউন রাখতে রাজেশ দুবে শিবমকে তেল মাসাজও দিয়েছেন (Shivam Dube)।

সেই শিবম আজ বিশ্বজয় করে ফিরেছেন। আর নিজের পদক বাবাকে পরিয়ে দেওয়ার কিছু ছবি পোস্ট করছেন। সেই সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘ইনি হলেন আমার জীবনের সত্যিকারের হিরো।’ প্রসঙ্গত শিবমের বাবা উত্তরপ্রদেশের থেকে কাজের সন্ধানে মুম্বই এসেছিলেন। শুরুতে তিনি ব্যবসা করতেন এবং পরে জিন্স ওয়াশিং ফ্যাক্টরি খোলেন। কিন্তু নিজের ছেলের ক্রিকেট কেরিয়ারের জন্য নিজের পুরো ব্যবসা লিজে দিতেও পিচ পা হননি।

আরও পড়ুন: Noida Fire: নয়ডার কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ইলেকট্রিক মিটার কারখানায় আগুন
মাত্র ৬ বছর বয়সে শিবম নিজের প্রতিভা দেখিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর বাবা সিদ্ধান্ত নেন ছেলেকে ক্রিকেটার বানানোর। একটি পিচ তৈরি করেছিলেন বাড়ির পিছনের অংশে। ঘন্টার পর ঘন্টা ছেলের অনুশীলনে নিজের সর্বস্ব দিয়েছেন তিনি। প্রতিদিন ৫০০ বল শিবমকে করতেন তিনি এবং এই কাজ তিনি করে গিয়েছেন ১০ বছর ধরে।
শিবমের যখন ১৪ বছর বয়স, তখন তাঁর বাবার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিবার বড় ঋণে জর্জরিত। ফলে শিবম ৫ বছর ক্রিকেট খেলতে পারেননি। ওজন বেড়ে ১১০ কেজি হয়ে যায় এবং তিনি চলে গিয়েছিলেন হতাশায়। কিন্তু রাজেশ দুবে হাল ছাড়েননি সেই কষ্টের সময়ে। এক বছরের মধ্যে শিবমের ওজন কমিয়ে ৭৫ কেজি করেছেন। আবার বাড়িতে ৮ ঘণ্টা অনুশীলন শুরু হয়। আজ সেই ফলাফলের সাক্ষী থেকেছে ক্রিকেটবিশ্ব। আর সেই কারণেই রাজেশ দুবে শিবমের জীবনের সবথেকে বড় হিরো (Shivam Dube)।


