Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে আইপিএল ফাইনালে পঞ্জাব কিংস। মঙ্গলবার আহমেদাবাদে আইপিএলের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হবে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং শ্রেয়স আইয়ারের (Shreyas Iyer) পঞ্জাব। আইপিএল যে নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে চলেছে, তা পঞ্জাবের জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয়ে গেল। রবিবার আহমেদাবাদে বৃষ্টি বিঘ্নিত কোয়ালিফায়ার-টু ম্যাচে মুম্বইকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করলে পঞ্জাব। এই প্রথম মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ২০০ রান তাড়া করে জিতল কোনও দল। গতবার অধিনায়ক হিসেবে কেকেআর কে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। এবছর পঞ্জাবকেও ফাইনালে তুললেন শ্রেয়স (Shreyas Iyer)।

বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণেই এই কোয়ালিফায়ার-টু এবং ফাইনাল ম্যাচ ইডেন গার্ডেন্স থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। যা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। কিন্তু সেই বৃষ্টির ভ্রুকুটি এড়ানো গেল না। বৃষ্টির কারণে রবিবার দু’ঘণ্টারও বেশি পরে রাত ৯.৪৫ মিনিটে শুরু হয় কোয়ালিফায়ার-টু ম্যাচ। টসে জিতে প্রথমে মুম্বইকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন পাঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়স (Shreyas Iyer)। কিন্তু পঞ্জাবের বোলাররা সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি। ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান তোলে মুম্বই।
গত এলিমিনেটর ম্যাচে গুজরাতের বিরুদ্ধে ৮১ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেছিলেন রোহিত শর্মা। গত ম্যাচের মতো রবিবারও শুরুতেই পঞ্জাব তাঁর ক্যাচ মিস করায় জীবনদান পান রোহিত। গত ম্যাচে তাঁর ব্যাটই মুম্বইকে জয় এনে দেয়। কিন্তু এদিন তা হয়নি। ৭ বলে মাত্র ৮ রান করে স্টোইনিসের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রোহিত।
দুরন্ত কামব্যাক মুম্বইয়ের ব্যাটিং অর্ডারের
যদিও প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দুরন্তভাবে কামব্যাক করে মুম্বইয়ের ব্যাটিং অর্ডার। গুজরাতের মতো রবিবারে বিধ্বংসী মেজাজে পাওয়া যায় মুম্বইয়ের ওপেনার জনি বেয়ারস্টোকে। ২৪ বলে ৩৮ রান করেন মুম্বইয়ের ইংলিশ ওপেনার। এরপর তিলক বার্মা এবং সূর্যকুমার যাদব মুম্বইয়ের রানকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দেন। আর্ষদীপ, জুসবেন্দ্র চাহাল, ওমরজাই, কাইল জেমিসনদের রীতিমতো ২২ গজের শাসন করলেন এই দুই ব্যাটার। ২৯ বলে জোড়া বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৪ রান করেন তিলক। আরও আক্রমণাত্মক ছিলেন সূর্য। ২৬ বলে চার বাউন্ডারি ও তিন ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৪ রান করেন তিনি।

সূর্যকে ফেরাল চাহাল। এবং জেমিসনের শিকার হয়ে ফেরেন তিলক। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাট হাতে দলকে সাহায্য করতে পারেনি অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া।১৩ বলে ১৫ রান করে ওমরজাইয়ের শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। শেষে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে ১৮ বলে ৭ বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে মুম্বইকে ২০০ রানের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন নমন ধীর। ওমরজাই তাঁকে না ফেরালে স্কোরবোর্ডে মুম্বই আরও বেশি রান তুলতে পারতো। শেষে ৮ রান করে অপরাজিতা থেকে যান রাজ বাওয়া। পঞ্জাবের হয়ে ওমরজাই ২টি এবং জেমিসন, চাহাল, স্টোইনিস ও বিজয় কুমার একটি করে উইকেট নেন।
২০৪ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার প্রভসিমরান সিংয়ের (৬) উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা খায় পঞ্জাব। তাঁকে ফেরান বোল্ট। চলতি আইপিএলে দুরন্ত ফরমে থাকা প্রিয়ান্স আর্য শুরুটা ভালো করলেও বেশি দূর এগোতে পারেননি। ১০ বলে ২০ রান করে অশ্বিনী কুমারের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ৫৫ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে ফাইনালে ওঠার রাস্তা রীতিমতো কঠিন করে ফেলেছিল পঞ্জাব। কিন্তু জস ইঙ্গলিশ ও অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer) খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলেন। ২১ বলে ৫ বাউন্ডারি ও দুই ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৮ রান করেন ইঙ্গলিশ। ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই তাঁকে সাজঘরে ফেরান মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক।
একমাত্র অধিনায়ক হিসাবে আইপিএলে অনন্য নজির (Shreyas Iyer)
পরিসংখ্যান বলছে, ২০০ রান তাড়া করে মুম্বইকে হারাতে পারেনি কোনও দলই। এবার ব্যাট হাতে অবতীর্ণ হয়ে সেই অসাধ্যসাধনই করলেন পঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়স (Shreyas Iyer)। নেহাল ওয়াধেরাকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের কঠিন রাস্তাকে সহজ করলেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সঠিক সময়ে জ্বলে ওঠে অধিননায়কচিত ইনিংস খেলে পঞ্জাবকে পৌঁছে দিলেন ফাইনালে। চতুর্থ উইকেটে শ্রেয়স-নেহালের ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ পঞ্জাবের ফাইনালে ওঠা সহজ করে দেয়। যখন মনে হচ্ছিল এই জুটিই জিতিয়ে মাঠ ছাড়বে, তখনই হাফ সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা নেহালকে ফিরিয়ে বড়সড় ব্রেক-থ্রু দেন অশ্বিনী কুমার। শেষে ২৯ বলে চার বাউন্ডারি ও জোড়া ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৮ রান করে আউট হন নেহাল। ১৫.৪ ওভারের মাথায় নেহাল যখন আউট হন তখন পঞ্জাবের রান ৪ উইকেটে ১৫৬।

আরও পড়ুন: IPL 2025: ন’বছর পর আইপিএল ফাইনালে বেঙ্গালুরু, ব্যাটে-বলে অনবদ্য আরসিবি
জয়ের জন্য তখনও দরকার ২৬ বলে ৪৮ রান। জুটি ভাঙলেও ম্যাচের সেরা শ্রেয়সকে (Shreyas Iyer) লক্ষ্য থেকে টলাতে পারেননি মুম্বইয়ের বোলাররা। শেষে ৪১ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ৮ ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৮৭ রানের দুরন্ত ও ম্যাচ উইনিং ইনিংস খেলে পঞ্জাবকে ফাইনালে তুলেই মাঠ ছাড়েন অপরাজিত শ্রেয়স আইয়ার।কঠিন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ জিতিয়ে ট্রফির কাছে নিয়ে গেলেন। গত ম্যাচ হেরে বলেছিলেন যুদ্ধ শেষ হয়নি। সেটাই রবিবার প্রমাণ করলেন শ্রেয়স (Shreyas Iyer)। ২ রান করে শশাঙ্ক সিং রানআউট হলেও শ্রেয়সের সঙ্গে ২ রান করে অপরাজিত থেকে যান স্টোইনিস। এক ওভার বাকি থাকতেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফাইনালে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মুখোমুখি হওয়া নিশ্চিত করে ফেলে পঞ্জাব। মুম্বইয়ের হয়ে অশ্বিনী কুমার দু’টি এবং বোল্ট ও হার্দিক একটি করে উইকেট পান।
ম্যাচ হেরে মাঠেই রীতিমতো হতাশায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। দলের হারের সব দায়ও তুলে নিলেন নিজের কাঁধেই। সেই সঙ্গে এই ফলাফলের জন্য পঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের (Shreyas Iyer) ব্যাটিংকেও কৃতিত্ব দিলেন। হার্দিক বলেন, ‘এই হারের সব দায় আমার। তবে শ্রেয়স (Shreyas Iyer) যেভাবে ব্যাট করল, তা এক কথায় অসাধারণ। দলের প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে ও সফল হয়েছে। এই মাঠে ২০৩ রান বড় স্কোর নয়। তাই বোলারদের কাজটা সহজ ছিল না। পঞ্জাবের ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই আমাদের ওপর চাপ ধরে রেখেছিল। তাই আমাদের বোলাররা খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি।’


