Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বই-পত্রিকার আকার যত বড় হচ্ছে, ততই যেন কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে অল্প কথায় গভীর কিছু বলার ক্ষমতা (Soham Kar)। সেই জায়গা থেকেই ‘দাঁড়াবার জায়গা’-র প্রকাশিত সোহম করের ‘ল্যাম্পপোস্ট’ আলাদা করে নজর কাড়ে। বইটির শুরুতেই পুস্তিকার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। রামমোহন, বিদ্যাসাগর থেকে রবীন্দ্রনাথ—বাংলা গদ্যের ইতিহাসে এমন বহু গুরুত্বপূর্ণ লেখা রয়েছে, যার আয়তন ছিল তুলনায় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। সেই ‘মিনিম্যাল রাইটিং’-এর ধারাকেই যেন নতুন করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা এই প্রকাশনায়।

২৫টি কবিতা, অথচ কোনও নাম নেই (Soham Kar)
‘ল্যাম্পপোস্ট’-এর বিশেষত্ব শুধু তার আকারে নয়, বিন্যাসেও। বইটিতে রয়েছে ২৫টি কবিতা, কিন্তু কোনও কবিতার আলাদা শিরোনাম নেই। প্রতিটি কবিতা শুধু একটি সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত। ফলে পাঠককে কোনও নামের পূর্বনির্ধারিত অর্থের মধ্যে ঢুকতে হয় না। একরঙা প্রচ্ছদে কালো রেখায় আঁকা অপেক্ষমাণ একটি বেঞ্চ এবং তার পাশে ল্যাম্পপোস্ট—এই দৃশ্যটিই যেন গোটা বইয়ের আবহ তৈরি করে।
শহরের রাস্তায় মিশে যায় ব্যক্তিগত স্মৃতি (Soham Kar)
কবিতাগুলিতে কলকাতা শুধু পটভূমি নয়, একেবারে জীবন্ত চরিত্র। ফেভারিট কেবিন, কলেজ স্ট্রিটের মেস, যাদবপুর, আমহার্স্ট স্ট্রিট, মেট্রো স্টেশন—চেনা শহরের নানা জায়গা ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে মিশে যায়। কোথাও বন্ধুত্ব, কোথাও প্রেম, কোথাও অপ্রেম, আবার কোথাও শুধুই অপেক্ষা। ফলে শহরের রাস্তা আসলে হয়ে ওঠে মানুষের ভিতরের রাস্তা।
প্রেমের পাশাপাশি আছে অনুপস্থিতির দীর্ঘ ছায়া (Soham Kar)
‘ল্যাম্পপোস্ট’-এর প্রেম খুব সরল কোনও প্রেমকাহিনি নয়। সেখানে সন্দেহ আছে, দূরত্ব আছে, যোগাযোগ না রাখার অভিমান আছে। আবার আছে ফিরে আসার সম্ভাবনা। ২৪ নম্বর কবিতায় কয়েক মাস পর একটি মেয়ের ফিরে আসার কথা যেন অতীতের কোনও অসমাপ্ত সম্পর্ককে আবার সামনে এনে দাঁড় করায়। কিন্তু ফিরে আসার মধ্যেও অস্বস্তি থেকে যায়—সম্পর্ক কি সত্যিই আগের জায়গায় ফিরতে পারে?
নভেম্বর, মেট্রো আর প্রতিদিনের একঘেয়ে জীবন (Soham Kar)
২৫ নম্বর কবিতায় শীতের সকাল, মেট্রোর অপেক্ষা, রিকশা, বাড়ি ফেরা, খাওয়া-ঘুম এবং সিগারেট খাওয়ার জায়গা খোঁজার মতো সাধারণ মুহূর্তগুলো এক অন্য অর্থ পায়। প্রয়োজন না থাকলেও মানুষ প্রতিদিন কোথাও যায়, কোনও না কোনও কারণ খোঁজে। এই যাতায়াতের মধ্যেই জীবনের একঘেয়েমি এবং অস্তিত্বের প্রশ্ন ধরা পড়ে।
আরও পড়ুন: Black Durga: গৌরবর্ণা নন, কৃষ্ণবর্ণা দেবী! বেলেঘাটার ‘কালো দুর্গা’র রহস্য জানেন
যে আলো আলো দিতে পারেনি, তার কাছেও কি গল্প থাকে?
উৎসর্গ, “রাস্তার যে আলোটা কোনওদিন আলো দিতে পারলো না” সম্ভবত বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। আলো এখানে শুধু আলোকিত করার প্রতীক নয়; বরং এমন এক প্রত্যাশা, যা পূর্ণ হয়নি। বেঞ্চ, রাস্তা, ল্যাম্পপোস্ট, মেট্রো, নভেম্বর, সব মিলিয়ে সোহম করের কবিতাগুলি শহুরে জীবনের ছোট ছোট দৃশ্য থেকে তৈরি করে অনুপস্থিতি, অপেক্ষা, স্মৃতি এবং একাকিত্বের এক মেদহীন কাব্যভাষা। সংক্ষিপ্ত বলেই যার প্রতিটি দৃশ্য আরও দীর্ঘ সময় পাঠকের ভিতরে থেকে যায়।



