Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: লাদাখের রাজধানী লেহ-তে (Sonam Wangchuk) বর্তমানে চাপা উত্তেজনা। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হিংসা, প্রাণহানি এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর এলাকাজুড়ে জারি রয়েছে কারফিউ। এই অশান্তির কেন্দ্রে উঠে এসেছেন লাদাখের বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার, তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-এর আওতায় গ্রেফতার করেছে প্রশাসন।
দীর্ঘদিন ধরেই চলছে আন্দোলন (Sonam Wangchuk)
লাদাখে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্তির (Sonam Wangchuk) দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে আন্দোলন। এই দাবির পক্ষে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে জনসমর্থন অর্জন করেন ওয়াংচুক। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ছাত্র, যুব সমাজ, নাগরিকদের এক বৃহৎ অংশ রাস্তায় নামে। কিন্তু বুধবার হঠাৎ করেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
সংঘর্ষে প্রাণ হারান অন্তত চারজন (Sonam Wangchuk)
আন্দোলনের উত্তেজনা গিয়ে পড়ে লেহের বিজেপি পার্টি অফিস (Sonam Wangchuk) এবং কিছু সরকারি দপ্তরের উপর। বিক্ষোভকারীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। নিরাপত্তা বাহিনী কড়া ব্যবস্থা নিলে সংঘর্ষে প্রাণ হারান অন্তত চারজন, আহত হন আরও অনেকে।
সোনম ওয়াংচুকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়
এই ঘটনার পরে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সোনম ওয়াংচুকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, তাঁর বক্তব্যে প্রভাবিত হয়েই উত্তেজিত জনতা হিংসার পথে হাঁটে। এমনকি, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে-তিনি ‘আরব বসন্ত’-এর ধাঁচে আন্দোলনকে উস্কে দিয়েছেন।
লাইসেন্স বাতিল
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন সোনম ওয়াংচুক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান SECMOL-এর FCRA লাইসেন্স বাতিল করে দেয় কেন্দ্র। বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা CBI।
আরও পড়ুন: US Tariff War : ওষুধ আমদানিতে ১০০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক, কতটা প্রভাব ভারতের ঔষধ রপ্তানিতে ?
প্রশাসনের দাবি, তারা লেহ অ্যাপেক্স বডি এবং কারগিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছে। পূর্ণ রাজ্যের দাবি এবং ষষ্ঠ তফসিল সংক্রান্ত আলোচনা ইতিমধ্যেই HPC-তে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে কিছু “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” ব্যক্তির হস্তক্ষেপে শান্তিপূর্ণ আলোচনা ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি সোনম ওয়াংচুক হিংসায় উস্কানি দিয়েছেন, নাকি তাঁকে নিশানা করে আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা চলছে? তাঁর ভবিষ্যৎ কী হবে, কিংবা তাঁকে জেলে নিয়ে যাওয়া হবে নাকি গৃহবন্দি রাখা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।


