Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফিচ রেটিংসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সঙ্গীত শিল্পে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনতে চলেছে (Artificial Intelligence)। তবে এই পরিবর্তন সবদিক থেকে ইতিবাচক নয়। AI-নির্মিত সঙ্গীত ক্রমে শিল্পীদের তৈরি মৌলিক কনটেন্টের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে রয়্যালটি-নির্ভর সঙ্গীত মেধাস্বত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা শিল্পী, কপিরাইটধারী ও বিনিয়োগকারীদের আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
ক্রমশ মুছে যাচ্ছে কি (Artificial Intelligence)
ফিচ রেটিংসের বিশ্লেষণ জানাচ্ছে, AI এখন গানের সুর, লিরিক্স এমনকি শিল্পীর কণ্ঠস্বরও নিখুঁতভাবে অনুকরণ করতে পারছে। ফলে বাস্তব শিল্পী ও কৃত্রিম সঙ্গীতের মধ্যে পার্থক্য করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে শ্রোতারা যদি AI-সৃষ্ট গানকেই বেশি প্রাধান্য দেন, তবে মানব শিল্পীদের মৌলিক সৃষ্টির বাজার সংকুচিত হবে এবং রয়্যালটি আয় কমে যাবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি সঙ্গীত শিল্পের আর্থিক কাঠামোকেই নাড়িয়ে দিতে পারে।
কপিরাইট রক্ষায় কঠোর নীতির দাবি (Artificial Intelligence)
প্রতিবেদনটি জোর দিয়ে বলছে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন কঠোর ও স্পষ্ট নীতিমালা। শিল্পী ও প্রযোজনা সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই কপিরাইট সুরক্ষার দাবিতে আইন প্রণয়নের দাবি তুলছে। ফিচ রেটিংসের ভাষায়, “প্রায় সব বড় কোম্পানি ও শিল্পী AI-নিয়ন্ত্রিত কপিরাইট সুরক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।”
AI নকলের বিরুদ্ধে অভিযান (Artificial Intelligence)
Spotify ইতিমধ্যেই AI সঙ্গীত নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা নতুন অ্যান্টি-ইমপারসনেশন নীতিমালা প্রয়োগ করছে, যাতে AI কোনও শিল্পীর কণ্ঠস্বর বা স্টাইল নকল করে গান প্রকাশ করতে না পারে। একই সঙ্গে স্প্যাম ট্র্যাক, ডুপ্লিকেট কনটেন্ট ও মাস আপলোড শনাক্ত করতে উন্নত ফিল্টার ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর উদ্দেশ্য শ্রোতাদের কাছে স্পষ্টভাবে জানানো কোন গান আসল শিল্পীর আর কোনটি AI-নির্মিত।
প্রযুক্তির ব্যাবহারে গান তৈরি? (Artificial Intelligence)
ফিচ রেটিংস জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কিছু মিউজিক সার্ভিস প্রোভাইডার নিজেরাই AI-নির্মিত গান তৈরি করতে পারে। এতে তাদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং সেই গানগুলির রয়্যালটি অধিকারও নিজেরাই রাখতে পারবে। এটি মানব শিল্পীদের জন্য এক নতুন প্রতিযোগিতা ও আর্থিক চাপে রূপ নেবে।
টিকে থাকার চাবিকাঠি কী? (Artificial Intelligence)
প্রতিবেদনটির মতে, সঙ্গীত শিল্পের রাজস্বের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বহুমুখীকরণ অত্যন্ত জরুরি। সঙ্গীতের ধরণ, দেশ, শিল্পী ও সময়কাল সবই মেধাস্বত্ব থেকে প্রাপ্ত আয়ের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
‘AI কনটেন্ট’ ট্যাগ ও সীমিত প্রাধান্য
AI-নির্মিত ট্র্যাকগুলিকে আলাদা ক্যাটাগরিতে রাখা বা ‘AI কনটেন্ট’ হিসেবে লেবেল করা যেতে পারে। একই সঙ্গে এই গানগুলিকে রিকমেন্ডেশন অ্যালগরিদমে কম প্রাধান্য দেওয়া উচিত, যাতে মানব শিল্পীদের মৌলিক সৃষ্টিই বেশি প্রচার পায়।
আরও পড়ুন: Artificial Intelligence Job: ফ্রেশারদের জন্য কি ফের খুলছে আইটি সংস্থার দরজা?
এখনই পদক্ষেপের সময়
ফিচ রেটিংসের মতে, যদি এখনই নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে আগামী দশকে AI-সৃষ্ট সঙ্গীত শিল্পের সৃজনশীলতা, আয় এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতার ভারসাম্যকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেবে। মানব শিল্পীদের সুরক্ষার জন্য দরকার শক্তিশালী কপিরাইট আইন এবং স্বচ্ছ প্রযুক্তিনির্ভর নীতিমালা।



