Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে জোড়া ঘূর্ণিঝড় (South Asia Natural Disaster 2025), অস্বাভাবিক প্রবল বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশ। ২৫ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর-এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ডে মিলে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে মালয়েশিয়ার অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। গত সপ্তাহে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হয়ে ওঠে ঘূর্ণিঝড় ‘সেনিয়ার’। তার ক্ষতচিহ্ন শুকোতে না শুকোতেই আবারও সৃষ্টি হয় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘দিটওয়া’। দুই ঘূর্ণিঝড়ের পরপর আঘাতে উপকূলবর্তী দেশগুলিতে দেখা দিয়েছে অমানবিক ধ্বংসযজ্ঞ।
শ্রীলঙ্কা: দিটওয়ার তাণ্ডবে অগণিত প্রাণহানি (South Asia Natural Disaster 2025)
দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ঘূর্ণিঝড় দিটওয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ ধাক্কা (South Asia Natural Disaster 2025) খেয়েছে শ্রীলঙ্কা। সেখানে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৩৩০–এর বেশি। ক্যান্ডি জেলায় পরিস্থিতি সবথেকে করুণ-প্রায় ৯০ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। বাদুল্লা, নুওয়ারা এলিয়া এবং মাতালে-এই তিন অঞ্চলেও বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত। সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বহু এলাকায় উদ্ধারকার্যে প্রচণ্ড সমস্যা তৈরি হয়েছে। ভারত ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজে হাত বাড়িয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ দল শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয়েছে, যারা ত্রাণ সরবরাহের পাশাপাশি আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে এনেছে।

ইন্দোনেশিয়া: সেনিয়ার পর বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষতি (South Asia Natural Disaster 2025)
ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ারের প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বর্ষণ ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা (South Asia Natural Disaster 2025) ডেকে আনে। সুমাত্রা দ্বীপের উত্তর, পশ্চিম এবং আচেহ-এই তিন প্রদেশ সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত। উত্তর সুমাত্রায় দু’শোরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে; শতাধিক এখনো নিখোঁজ। আচেহ এবং পশ্চিম সুমাত্রাতেও মিলিয়ে কয়েকশো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। শুধুমাত্র বন্যার জলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৫ লক্ষেরও বেশি। বহু গ্রাম ভেসে গিয়েছে, রাস্তা-ঘাট ধসে পড়েছে, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহ দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল।
থাইল্যান্ড: দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার ভয়াবহতা
দক্ষিণ থাইল্যান্ডের পরিস্থিতিও কম গুরুতর নয়। সেখানে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১৭০–এর উপরে পৌঁছে গেছে। সবচেয়ে বিপর্যস্ত অঞ্চল সোংখলা, যেখানে একশোরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। অন্তত আটটি প্রদেশ কার্যত ডুবে গিয়েছে। সেখানেও দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে, কিন্তু প্রবল স্রোত এবং কাদা জমে যাওয়ায় উদ্ধারকার্যে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: 2 December Horoscope: অঘ্রাণের ত্রয়োদশীতে কার দিন শুভ? কী বলছে আজকের গ্রহসংযোগ?
বিপর্যয়
দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে পরপর দুটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ায় যে বিপুল জলীয়বাষ্প ও নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে, তার ফলেই এত বড় মাত্রায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।


