Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘কট ইন প্রভিডেন্স’ শো-এর জনপ্রিয় বিচারক ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও (Judge Frank Caprio Death) প্রয়াত হয়েছেন। বুধবার, ৮৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। বিচারক ক্যাপ্রিও-র অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলা হয়, “দীর্ঘ এবং সাহসী লড়াইয়ের পর বিচারক ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও পৃথিবীকে বিদায় জানিয়েছেন।” তাঁর ছেলে-ও তাঁর প্রয়াণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জীবনের শেষ সময়ে প্রার্থনার আবেদন (Judge Frank Caprio Death)
মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তিনি একটি ভিডিও বার্তা (Judge Frank Caprio Death) দেন, যেখানে অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “গত বছর আপনাদের প্রার্থনায় আমি কঠিন সময় পেরিয়ে এসেছিলাম। এবার আবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। অনুরোধ করব, আমার জন্য আবার প্রার্থনা করবেন।” তিনি আরও বলেন, “আমি প্রার্থনার শক্তিতে বিশ্বাস করি।”ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল, “এই কঠিন লড়াইয়ে, আপনাদের প্রার্থনা আমার মনোবল বাড়াবে।”
দীর্ঘ রোগভোগ (Judge Frank Caprio Death)
২০২৩ সালে বিচারক ক্যাপ্রিও নিজেই ঘোষণা করেন যে তিনি অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত। রোড আইল্যান্ড এবং বোস্টনের হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। ২০২৪ সালে তিনি জানান, তাঁর রেডিয়েশন থেরাপি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয়।
কে ছিলেন ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও?
১৯৩৬ সালের ২৪ নভেম্বর, রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্স শহরে ইতালিয়ান-আমেরিকান অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও। ছাত্রাবস্থায়ই তিনি বাসন মাজার কাজ এবং জুতো পালিশ করে অর্থ উপার্জন করতেন। তিনি সেন্ট্রাল হাই স্কুল থেকে স্নাতক হন, যেখানে তিনি একজন চ্যাম্পিয়ন কুস্তিগীর ছিলেন। পরে প্রভিডেন্স কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি এবং সাফোক ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল থেকে আইন বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সেই সময়ে তিনি আমেরিকান সরকার বিষয়ে শিক্ষকতাও করতেন।
“বিশ্বের সবচেয়ে দয়ালু বিচারক”
১৯৮৫ সাল থেকে ২০২৩ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত তিনি প্রভিডেন্স মিউনিসিপাল কোর্টের চিফ জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মামলার রায় দেওয়ার সময় তাঁর সহানুভূতিশীল মনোভাব, হাস্যরস এবং মানবিকতার জন্য তাঁকে “বিশ্বের সবচেয়ে দয়ালু বিচারক”-এর উপাধি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: Thursday Horoscope: লক্ষ্মীবারে কাদের হাতে আসবে টাকা?
বিচারক ক্যাপ্রিও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিক সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। অবসর গ্রহণের পরে তাঁর নামেই আদালতের নামকরণ করা হয়-“দ্য চিফ জজ ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও কোর্টরুম“। তিনি ছিলেন তাঁর স্ত্রী জয়েস ই. ক্যাপ্রিওর ৬০ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গী। বর্তমানে ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিওর পাঁচ জন সন্তান, সাত জন নাতি-নাতনি এবং দুই জন প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী আছেন।


