Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি আনার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যের বিপুল জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাতে পুলিশের কর্মীসংখ্যা বাড়ানো যে অত্যন্ত জরুরি, তা স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল পুলিশের বর্তমান কর্মীসংখ্যার ঘাটতি এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টিও।
প্রায় ১১ কোটি মানুষের রাজ্য, পুলিশের দায়িত্ব বহুমুখী (Suvendu Adhikari)
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশের দায়িত্বের ব্যাপকতা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, প্রায় ১১ কোটি মানুষের পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। রাজ্যের একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে জঙ্গলমহল, আবার রয়েছে সুন্দরবনের দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল। পাশাপাশি প্রায় ২২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ সীমান্ত এবং ভুটান ও নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকাতেও নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাতে হয় পুলিশকে(Suvendu Adhikari)।
শুধু সীমান্তবর্তী অঞ্চল নয়, কলকাতার মতো মহানগরের পাশাপাশি শিলিগুড়ি ও আসানসোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে পুলিশের। রাজ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার গ্রাম পঞ্চায়েত, ৩৪০-র বেশি ব্লক এবং ১২০-র বেশি পুরসভা ও কর্পোরেশন রয়েছে। ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি এবং ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশি দায়িত্ব যে অন্য মাত্রার, সেই বিষয়টিই তুলে ধরেন তিনি।
প্রতি লক্ষে পুলিশকর্মীর সংখ্যা কম, উদ্বেগ মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
পুলিশের কর্মীসংখ্যার পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গোটা দেশে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশের গড় সংখ্যা প্রায় ১৫৫। অথচ পশ্চিমবঙ্গে অনুমোদিত পুলিশকর্মীর সংখ্যা প্রতি লক্ষে মাত্র ১০৫। এই ব্যবধান রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, শুধু কর্মীসংখ্যা বাড়ালেই হবে না, পুলিশের পরিকাঠামো, আধুনিক সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ এবং পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রেও উন্নতি প্রয়োজন।
৪৬ হাজার শূন্যপদ পূরণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জোর
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে অনুমোদিত পুলিশকর্মীর পদের মধ্যে প্রায় ৪৬ হাজার পদ এখনও শূন্য রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে থাকার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোথাও শারীরিক পরীক্ষা শেষ হলেও লিখিত পরীক্ষা হয়নি, কোথাও লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও ইন্টারভিউ বাকি রয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগের অন্যান্য ধাপ শেষ হলেও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছে।



