Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রায় ছয় মাস আগে এক মর্মান্তিক (Tamanna Khatun) ঘটনায় নাবালিকা কন্যাকে হারিয়েছিলেন তিনি। রাজনৈতিক বিজয়োৎসবের সময় ছোড়া বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল কিশোরী তামান্না খাতুনের। সেই ঘটনার পর থেকে ন্যায়বিচারের আশায় দিন কাটলেও, এখনও সব অভিযুক্ত ধরা না পড়ায় চরম মানসিক চাপে ভুগছিলেন তাঁর মা সাবিনা ইয়াসমিন। সেই চাপ আর আশঙ্কার মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
শারীরিক অবস্থার অবনতি (Tamanna Khatun)
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা উৎকণ্ঠা ও ভয়ের (Tamanna Khatun) কারণেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। বর্তমানে তিনি নদিয়ার শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
ফিরে দেখা (Tamanna Khatun)
ঘটনাটি ফিরে দেখা (Tamanna Khatun) যাক। চলতি বছরের ২৩ জুন নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন তৃণমূলের বিজয় মিছিলে ছোড়া বোমায় প্রাণ হারায় তামান্না। বিপুল ভোটে জয় পান তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ। সেই আনন্দ মিছিলই মুহূর্তে রূপ নেয় শোকের ঘটনায়। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হলেও, পরিবারের অভিযোগ-সব অভিযুক্ত এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

হুমকি ও হামলার আশঙ্কা
তামান্নার পরিবারের বক্তব্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই তাঁরা অসন্তুষ্ট। তাঁদের আশঙ্কা, যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই জামিনে মুক্তি পেতে পারেন। তাতে আবারও হুমকি ও হামলার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে নানা ভাবে চাপ ও ভয় দেখানো হচ্ছে। এই অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতাই তামান্নার মাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে।

আতঙ্কের মধ্যেই এক রাতে অসুস্থ
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই আতঙ্কের মধ্যেই এক রাতে খাবার পর অতিরিক্ত কয়েকটি ঘুমের ওষুধ খেয়ে নেন তিনি। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাঁকে পলাশীর একটি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার গুরুত্ব বুঝে তাঁকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি এখন রয়েছেন।

আরও পড়ুন: Khaleda Zia: খালেদা জিয়ার মৃত্যু যুগের অবসান: প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নরমে-গরমে সম্পর্ক রাখেন বেগম
তামান্নার কাকা রবিউল শেখ জানান, মেয়ের মৃত্যুর পর থেকেই সাবিনা ইয়াসমিন শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। নিয়মিত চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু মামলার অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে ভয় তাঁকে আরও দুর্বল করে তোলে। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।


