Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এক যুগের অবসান হল। দীর্ঘ অসুস্থতার পর মঙ্গলবার ৮০ বছর বয়সে তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ভারতও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৫ সালে ঢাকায় তাঁর সঙ্গে হওয়া “উষ্ণ সাক্ষাৎ”-এর কথা স্মরণ করেন(Khaleda Zia)।
তাঁর আমলেই টানাপোড়েন সবচেয়ে বেশি (Khaleda Zia)
খালেদা জিয়া ১৯৯১–১৯৯৬ এবং ২০০১–২০০৬—এই দুই মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর শাসনকালে তিনি ভারতের তিন প্রধানমন্ত্রী—পি ভি নরসিমা রাও, অটলবিহারী বাজপেয়ী ও মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে কাজ করেন। তবে তাঁর সময়েই ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন সবচেয়ে বেশি ছিল। সীমান্তে বিদ্রোহ, জলবণ্টন, বাণিজ্য ঘাটতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়।

২০০১–২০০৬-এ পরিস্থিতি জটিল হয় (Khaleda Zia)
২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপি জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে জোট গড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। ভারত অভিযোগ তোলে, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়া একাধিকবার উলফা ও এনডিএফবির মতো সংগঠনকে “স্বাধীনতাকামী” বলে মন্তব্য করেন। তিনি ভারতের জন্য বাংলাদেশ হয়ে স্থলপথ ট্রানজিটেরও বিরোধিতা করেন এবং ১৯৭২ সালের ভারত–বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তিকে “শৃঙ্খল” বলেও আক্রমণ করেন।

সম্পর্ক সব সময় খারাপ ছিল না (Khaleda Zia)
তবে সম্পর্ক সব সময় খারাপ ছিল না। ২০০৬ সালে তিনি ভারতের সঙ্গে সংশোধিত বাণিজ্য চুক্তি ও মাদক পাচারবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ২০১২ সালে নয়াদিল্লি সফরে এসে তিনি “নতুন যুগের” আশার কথা বলেন এবং সন্ত্রাসে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার না করার আশ্বাস দেন। পরে তিনি ট্রানজিটের প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেন।

ভারতবিরোধী অবস্থানে পরিবর্তন (Khaleda Zia)
সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির ভারতবিরোধী অবস্থানেও পরিবর্তন দেখা যায়। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলটি “সমতা ও পারস্পরিক সম্মান”-এর ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক চায় বলে জানায়। বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়ার দলের এই অবস্থান পরিবর্তন বাস্তব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন।



