Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ১৯৮৩, ২০১১, ২০২৫, বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল বারবার হার মানিয়ে দিয়েছে টানটান চিত্রনাট্যের প্লটকেও (World Cup Sem-Final)। জার্সিতে লেগে থাকা মাটি প্রমাণ দিয়েছে হার না মানা লড়াইয়ের।
সময় বদলেছে, জেদ বদলায়নি (World Cup Sem-Final)
মেয়েদের বিশ্বকাপে গতকাল অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ভারত। লীগ পর্যায়ে ভারতকে হারিয়ে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। একটা সময়ে ভারতের স্কোর ৫৯ রানে ২ উইকেট। আবারও স্বপ্নভঙ্গের ভয় তখন সমর্থকদের মনে। কিন্তু হাল না ছেড়ে মাটি কামড়ে লড়াই চালিয়ে যান হারমনপ্রীত কৌর ও জেমাইমা রদ্রিগেস। স্বপ্ন সত্যি হলো তাদের হাত ধরেই। অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল টিম ইন্ডিয়া (World Cup Sem-Final)।
২০১১ সালের ২ এপ্রিল, ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। মুখোমুখি ভারত ও শ্রীলঙ্কা। মহেন্দ্র সিং ধোনির ছয়ে ভারত ODI বিশ্বকাপ জেতে। ভাঙে ২৮ বছরের খরা। নেপথ্যের নায়ক গৌতম গম্ভীর। তার আগে সেমিফাইনালে মুখোমুখি চির প্রতিদ্ধন্ধী পাকিস্তান। আয়োজক ভারত। অত্যাধিক মানসিক চাপ নিয়েও শচীনের অনবদ্য ৮৫ রানের ইনিংস। ভারত জয় ছিনিয়ে পৌঁছে যায় ফাইনালে (World Cup Sem-Final)।

১৯৮৩-র বিশ্বকাপে ভারত অপ্রত্যাশিত ভাবে হারিয়ে দেয় ইংল্যান্ডকে। প্রথমে ব্যাট করে ৬০ ওভারে ২১৩ করে ইংরেজরা। গ্রুপের ম্যাচে ভারতকে ২০০-র ওপরে রান তুলতে বেশ বেগ পেতে হয়। ৫০ রানের মধ্যে দুই ওপেনার গাওস্কর ও শ্রীকান্তকে হারিয়ে বিপত্তি তৈরি হয় এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও। তবে ভাল বোলিং-এর পর মোহিন্দর অমরনাথের ৪৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এ বারের জয়ের পথে কোনও বাধা তৈরি হতে দেয়নি। যোগ্য সঙ্গ দেন সন্দীপ পটেল। যশপাল শর্মা, সন্দিপ পটেলদের দুর্দান্ত ইনিংস ইংরেজদের হারিয়ে বিশ্বকাপের দরজা খুলে দেয় ভারতের জন্য। কাট টু ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর। স্থান নভি মুম্বইয়ে ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়াম। জেমাইমা রদ্রিগেজ চার মেরে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দলকে ফাইনালে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন: Palak Chicken: আসছে শীত, নৈশভোজে থাকুক পালং চিকেন, জেনে নিন সহজ রেসিপি
তিনটে আলাদা টাইম-লাইন, আলাদা দল, আলাদা প্রতিপক্ষ কিন্তু একটা জিনিস এক, আর সেটা হলো হার না মানার অদম্য জেদ। জার্সিতে লেগে থাকা মাটি প্রমাণ হয়ে থাকবে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নেওয়া ইতিহাসের। সবকটা ইনিংসে রয়েছে কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে শান্তভাবে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়ার গল্প। বছর বদলেছে কিন্তু লড়াই বদলায়নি। ১৯৮৩ সালের মোহিন্দর অমরনাথ, যশপাল শর্মা, সন্দিপ পটেলদের যেমন মনে রাখবে তেমনই মনে রাখবে শচীন, ধোনি, গম্ভীর, যুবরাজদের ঠিক সেই ভাবেই ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে হরমনপ্রীত কৌর ও জেমাইমা রদ্রিগেসের নাম। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সৃষ্টি হওয়া এক অনন্য রূপকথা যা কোনও থ্রিলার সিনেমার প্লটকেও হার মানাতে পারে (World Cup Sem-Final)।


