Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
বিশেষ প্রতিবেদন এয়ণ চক্রবর্তী: কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে জল্পনা চলছেই (TMC)। এরই মধ্যে কলকাতা পুরসভার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল পুর প্রতিনিধি বিশ্বরূপ দে-র দলত্যাগের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ তাৎপর্যের বিষয়, তিনি দল ছাড়ার ঘোষণা করেন সেই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর, যার মূল বার্তাই ছিল, “আমরা বেইমান নই”। এই ঘটনাকে ঘিরে বিরোধীরা তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে। বিশেষ করে কংগ্রেস এই ঘটনাকে সামনে এনে শাসকদলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কটাক্ষের সুর আরও চড়িয়েছে।

আমরা বেইমান নই’ (TMC)
বৃহস্পতিবার তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষের উদ্যোগে একটি কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পোস্টারে বড় অক্ষরে লেখা ছিল, ”আমরা বেইমান নই”। এই কর্মসূচিকে অনেকেই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দলের প্রতি আনুগত্যের বার্তা হিসেবে দেখছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসার পর এই কর্মসূচির রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর বাড়ছে জল্পনা (TMC)
এর আগের দিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, কেউ কেউ নিজেদের “আসল তৃণমূল” বলে দাবি করছেন, আবার কেউ “কালিঘাটের তৃণমূল” বলে কটাক্ষ করছেন। সেই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা শুরু হয়। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নাম উঠে আসে, অন্যদিকে কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়দের অবস্থান নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। এই আবহেই কুণাল ঘোষ নিজের বক্তব্যে বলেন, তাঁরা মাঠে নেমে কর্মসূচি করছেন এবং দলের প্রতি অনুগত রয়েছেন। সেই কারণেই “আমরা বেইমান নই” বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন।
কর্মসূচি শেষ হতেই দলত্যাগের ঘোষণা (TMC)
রাজনৈতিক নাটকীয়তা আরও বেড়ে যায় যখন ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকা প্রাক্তন তৃণমূল পুর প্রতিনিধি বিশ্বরূপ দে সভা শেষ হওয়ার পরই দল ছাড়ার ঘোষণা করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— দলের অভ্যন্তরে কি অসন্তোষ আরও গভীর হচ্ছে? নাকি এটি শুধুই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত? যদিও বিশ্বরূপ দে তাঁর বক্তব্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, তবে তাঁর দলত্যাগকে ঘিরে জল্পনা থামেনি।
কংগ্রেসের পাল্টা আক্রমণ (TMC)
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন রায় চৌধুরী বলেন, যারা আজ “আমরা বেইমান নই” বলছেন, অতীতে তাঁরাই কংগ্রেস ভেঙে নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছিলেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের বহু নেতা-কর্মীকে দলে নিয়ে এবং সংগঠন দুর্বল করেই তৃণমূল নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছিল। তাঁর বক্তব্য, আজ যারা আনুগত্যের কথা বলছেন, তাঁদের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কি আরও প্রকট হচ্ছে?
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের বিভিন্ন নেতার প্রকাশ্য মন্তব্য, পাল্টা মন্তব্য এবং সামাজিক মাধ্যমে পরোক্ষ আক্রমণ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, দলের বিভিন্ন অংশের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে আসায় বিরোধীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং সব ধরনের বিভ্রান্তি দূর করা হবে।

আরও পড়ুন : Taratala Compensation: মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
২১ জুলাইয়ের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
২১ জুলাইয়ের শহীদ দিবস তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি। তার আগে দলের অন্দরে একের পর এক বিতর্ক এবং দলত্যাগের ঘটনাকে ঘিরে বিরোধীরা শাসকদলকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে তৃণমূল নেতৃত্ব কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং কর্মীদের একজোট রাখে, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।



