Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বর্ষবরণের রাতে বন্ধুবান্ধবের (TMC Leader Death) সঙ্গে পিকনিক করতে বেরিয়ে প্রাণ হারালেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের এক নেতা। বুধবার গভীর রাতে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত যুবনেতার নাম নব্যেন্দু ঘোষ (৩৭)। তিনি যুব তৃণমূলের উত্তর দিনাজপুর জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যেই দু’জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এই খুন রাজনৈতিক কারণে না কি ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে-তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক করছিলেন নব্যেন্দু (TMC Leader Death)
স্থানীয় সূত্রের খবর, বর্ষশেষের রাতে রায়গঞ্জের (TMC Leader Death) মোহনবাটি বাজার সংলগ্ন এলাকায় নিজের বাড়ির কাছেই বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক করছিলেন নব্যেন্দু। ঠিক সেই সময় বাইকে চেপে কয়েক জন যুবক ঘটনাস্থলে এসে তাঁর উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। আচমকা এই আক্রমণে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য তৈরি (TMC Leader Death)
ঘটনার খবর ছড়াতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা (TMC Leader Death) ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়। বর্ষবরণের রাতে এমন হত্যাকাণ্ডে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায়, ঘটনার সময় ও প্রেক্ষাপট ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে।
পরিকল্পিত হত্যা!
নব্যেন্দুর পরিবার এই হত্যাকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছে। তাঁর মা জানান, বুধবার রাতে বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে ছেলে তাঁকে জড়িয়ে ধরে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ বলেছিল। তাঁর কথায়, ইদানীং নব্যেন্দু রাজনীতির সক্রিয় কর্মসূচিতে বিশেষ যেতেন না। দোকানদারির কাজ করতেন এবং পরিবারের সঙ্গেই বেশি সময় কাটাতেন। কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল বলে তাঁদের জানা নেই। তাই এই হত্যার পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেই পরিবারের ধারণা। নিহত নেতার বাবাও একই সুরে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, রাত ১২টার কিছু আগে ছেলে বাড়িতে এসে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে পিকনিকে যায়। এর পরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। কেন এমন হল, বা কারা এর সঙ্গে যুক্ত-সে বিষয়ে পরিবার সম্পূর্ণ অন্ধকারে।
আরও পড়ুন: Mohan Bhagwat: ‘ভারত সবার’ দেরাদুনে বর্ণবিদ্বেষে ছাত্রমৃত্যুর পর কি ঐক্যের ডাক
পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নব্যেন্দুর কাছে দেড় লক্ষ টাকা দামের একটি দামি মোবাইল ফোন ছিল। লুটপাটের উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছিল কি না, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে-তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রায়গঞ্জ থানার আধিকারিকরা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তে নেমেছেন। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দু’জনকে গ্রেফতার করা হলেও, মূল চক্রী ও হত্যার উদ্দেশ্য জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।


