Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেরাদুনে ত্রিপুরার পড়ুয়া অ্যাঞ্জেল চাকমার মৃত্যু শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধের ঘটনা নয় (Mohan Bhagwat), এটি আধুনিক ভারতের বুকে লুকিয়ে থাকা গভীর সামাজিক ব্যাধির নির্মম বহিঃপ্রকাশ। অভিযোগ, বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়ে গণপিটুনি ও ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান বছর চব্বিশের এই তরুণ। তাঁর শেষ কথাগুলি “আমি চিনা নই, ভারতের নাগরিক” আজ গোটা দেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই মৃত্যু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে আমরা কি সত্যিই বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের দেশ, না কি চেহারা, ভাষা ও পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের সমাজ?

দেরাদুনের সেই রক্তাক্ত রাত (Mohan Bhagwat)
ঘটনাটি ঘটে গত ৯ ডিসেম্বর। ত্রিপুরার বাসিন্দা অ্যাঞ্জেল চাকমা দেরাদুনের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। সেদিন তিনি তাঁর দাদা মাইকেল চাকমার সঙ্গে বাজারে যান প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন মদ্যপ যুবক তাঁদের উদ্দেশে কটূক্তি করতে শুরু করে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দা হওয়ায় তাঁদের ‘চিনা নাগরিক’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, আচমকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় চাকমা ভাইদের উপর। ছুরির কোপ, লোহার রডের আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অ্যাঞ্জেল। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
“আমি চিনা নই, আমি ভারতীয়” (Mohan Bhagwat)
অ্যাঞ্জেলের মৃত্যুর আগে উচ্চারিত বাক্যটি আজ প্রতীক হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র গায়ের রং বা মুখের গড়নের জন্য একজন ভারতীয় নাগরিককে নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে হবে এই বাস্তবতা ভয়াবহ। উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই মূল ভূখণ্ডে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন। অ্যাঞ্জেলের মৃত্যু সেই বেদনারই চরম রূপ।

দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ (Mohan Bhagwat)
এই ঘটনার পর দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সমাজকর্মী, ছাত্র সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলি। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ সভা ও মোমবাতি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্ন উঠতে থাকে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা কতটা ব্যর্থ হলে এমন ঘটনা ঘটে?
মোহন ভাগবতের কণ্ঠে ঐক্যের বার্তা (Mohan Bhagwat)
এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই মুখ খুললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত। বুধবার ছত্তিশগড়ের সোনপারি গ্রামে এক সভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ভারত সবার। জাতি, সম্পদ, ভাষা বা অঞ্চল দিয়ে মানুষকে বিচার করা উচিত নয়।” ভাগবত জোর দিয়ে বলেন, সমাজে সম্প্রীতি গড়তে হলে প্রথমে মন থেকে বিচ্ছিন্নতা ও বৈষম্যের মনোভাব দূর করতে হবে। তাঁর মতে, সকলকে সমান বলে বিবেচনা করাই প্রকৃত সামাজিক ঐক্যের ভিত্তি।
ধর্মীয় স্থান ও সামাজিক সুযোগ (Mohan Bhagwat)
আরএসএস প্রধান তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ধর্মীয় স্থান ও জনসাধারণের সুযোগ-সুবিধা সকলের জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত। ভেদাভেদ ভুলে সকলকে অন্তর্ভুক্ত করাই সংঘাত কমানোর পথ। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ সমাজকে ভাঙে না, বরং ঐক্যের ভিত মজবুত করে।
প্রতিবেশী দেশ ও বৃহত্তর প্রেক্ষাপট (Mohan Bhagwat)
ভাগবত এদিন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, সমস্যা যেখানেই হোক ব্যক্তিগত জীবন হোক বা জাতীয় স্তর আলোচনা ও গঠনমূলক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সবসময় ফল মিলবে না, কিন্তু সমাধানের চিন্তা বন্ধ করা যাবে না।
আরও পড়ুন: Iran: ইরানে মুদ্রার রেকর্ড দরপতন: জনরোষ দেশের বিভিন্ন শহরে, উঠছে খোমেইনি বিরোধী স্লোগান
একটি নাম, একটি দায়
অ্যাঞ্জেল চাকমার মৃত্যু আমাদের সামনে এক কঠিন আয়না ধরেছে। প্রশ্নটা শুধু দেরাদুন বা উত্তরাখণ্ডের নয়, প্রশ্নটা গোটা দেশের মানসিকতার। একজন ভারতীয় নাগরিককে তাঁর ভারতীয়ত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হলে, সেখানে রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিক সবারই দায় থেকে যায়।



