Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের আমলা ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের বদলির মামলায় কমিশনের ক্ষমতা ও এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কল্যাণ ও এজি। যুক্তিসঙ্গত কারণেই বদলি বলে পাল্টা দাবি কমিশনের(Transfer Case)। কল্যাণের এই জনস্বার্থ মামলা করার এক্তিয়ার নিয়েও এদিন আদালতে প্রশ্ন তুলল কমিশন। বুধবার ফের এই মামলার শুনানি।
স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা (Transfer Case)
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই একাধিক আইপিএস আইএএস সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এমনকি স্বরাষ্ট্রসচিব, মুখ্যসচিবকেও স্থানান্তরিত করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের একাধিক আমলা ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিককে তামিলনাড়ুতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। যত ইচ্ছে ভাবে আমাদের এই স্থানান্তরিত করার কমিশনের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা কল্যাণের মুখে (Transfer Case)
সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। এদিন শুনানিতে মুখ্যসচিব, তিন মাস হল দায়িত্ব নেওয়া কলকাতার সিপি, পঞ্চায়েত দফতরের সচিব, পুলিশ কর্তা জাভেদ শামিমকে সরিয়ে দেওয়ার পিছনে কী কারণ সেই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কার কথা এদিন শোনা যায় কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও। আদালতে তিনি বলেন, ‘১৩ জন পুলিশ অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগকে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। যদি কোনও বিপর্যয় হয় তাহলে কে সামাল দেবে?’
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ক্ষমতা প্রয়োগ? (Transfer Case)
সওয়ালে কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ মিনা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত নন, অথচ তাঁকে অন্য রাজ্যে তামিলনাড়ুতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। রাজ্যের সমস্ত সমস্যা দেখেন মুখ্যসচিব। তাঁকে পর্যন্ত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশন কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?’
নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারির পর কেন অপসারণ?
‘এসআইআর শুরুর সময় থেকে কমিশন অফিসারদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। তখন এই অফিসারদের কাজ নিয়ে কোনরকম অভিযোগ বা অসন্তোষ প্রকাশ করেনি কমিশন। তাহলে নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পরই সেই অফিসারদের কেন অপসারণ করা হচ্ছে? কী এমন হল? পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া আর কোনও রাজ্যে এরকম ঘটনা ঘটেনি।’
কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন এজি-র (Transfer Case)
অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তও এদিন শুনানিতে কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সওয়ালে এজি বলেন, ‘কমিশনের দুটো কাজ। এক ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা এবং দুই, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সংগঠিত করা। ভোটার তালিকা প্রস্তুত নিয়ে কমিশনের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট।বিচারকদের উপর দায়িত্ব দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট। নির্বাচনের কাজে যুক্ত নন, এমন আধিকারিকদের অপসারণ করার সর্বোচ্চ ক্ষমতা কমিশনকে কি দেওয়া হয়েছে?’
‘অনেক যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে’
জবাবে কমিশনের আইনজীবী আদালতে বলেন, ‘কমিশনের অবাধ ক্ষমতা নেই, এটা ঠিক। কোনও সাংবিধানিক সংস্থার প্রচুর ক্ষমতা থাকে না। তবে কোনও কিছু পরিচালনার জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা রয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এর পিছনে অনেক যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে।’
‘অন্য রাজ্যেও অফিসার বদলি’ (Transfer Case)
‘অন্য যে সমস্ত রাজ্যে ভোট হচ্ছে, সব রাজ্যের পরিস্থিতি এক নয়। সেখানেও অফিসারদের অন্যত্র বদলি করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। যে সব রাজ্যে নির্বাচন হচ্ছে সেখানে অফিসারদের বদলির তালিকা আমরা দিচ্ছি। পাঁচ রাজ্যের ভোটের জন্য বিভিন্ন রাজ্য থেকে অফিসার নিয়ে আসা হয়েছে, সেই তালিকাও আমরা দিচ্ছি।’
আরও পড়ুন: Hamza House: লিয়ারি নয় ধুরন্ধরের হামজা আলির বাড়িটি আসলে কোথায় জানেন?
কল্যাণের জনস্বার্খ মামলা নিয়ে প্রশ্ন কমিশনের (Transfer Case)
শুধু তাই নয়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই জনস্বার্থ মামলা করা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। কমিশনের দাবি, ‘এই জনস্বার্থ মামলাটি যে আইনজীবী করেছেন, তিনি রাজ্য সরকারের হয়ে মামলা করেন। রাজ্য সরকারের আইনজীবীদের প্যানেল রয়েছে। একজন সরকারি আইনজীবী জনস্বার্থ মামলা করতে পারেন না।’ বুধবার আবারও এই মামলার শুনানি হবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে।



