Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কঠোর অভিবাসন নীতি ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তুলেছেন (Trumps Migration Freeze)। নিজের সোশাল মিডিয়া ট্রুথ সোশালে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকেই অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে। এই ঘোষণার পরই জল্পনা বাড়ছে, কারণ তিনি নির্দিষ্ট করে কোনও দেশের নাম উল্লেখ করেননি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প যে দেশগুলিকে টার্গেট করছেন, সেই তালিকায় ভারতও কি থাকতে পারে?
ট্রাম্পের বক্তব্যে অভিবাসন নীতি (Trumps Migration Freeze)
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে অভিবাসন নীতিকে তিনি আবারও “আমেরিকা ফার্স্ট” দৃষ্টিভঙ্গিতে পুনর্নির্মাণ করতে চান বলে স্পষ্ট। তিনি দাবি করেছেন, “তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব।” “বাইডেনের ‘অটোপেন’ স্বাক্ষরিত অবৈধ প্রবেশাধিকার বাতিল করা হবে।” “যাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল সম্পদ নন বা আমেরিকাকে ভালোবাসেন না, তাঁদের অপসারণ করা হবে।” “অভিবাসীদের সব ফেডারেল সুবিধা এবং ভর্তুকি বন্ধ করা হবে।” এই ঘোষণা নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; বরং তিনি এক ধরণের ‘রিভার্স মাইগ্রেশন’–এর ডাক দিচ্ছেন যা আমেরিকার জনসংখ্যাগত এবং অর্থনৈতিক ভিত্তিকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিতে পারে।

‘তৃতীয় বিশ্ব’ শব্দটি কোথা থেকে এলো? (Trumps Migration Freeze)
ট্রাম্পের বক্তব্যের জটিলতা এখানেই “তৃতীয় বিশ্ব” কারা? শব্দটির উৎপত্তি ঠান্ডা যুদ্ধের সময়। ঠান্ডা যুদ্ধের তিন ভাগ ১৯৫২ সালে ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী অ্যালফ্রেড সৌভি তাঁর প্রবন্ধে বিশ্বকে তিন ভাগে ভাগ করেছিলেন, প্রথম বিশ্ব: আমেরিকা–নেতৃত্বাধীন পশ্চিমী শক্তি, যার মধ্যে ইউরোপ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দ্বিতীয় বিশ্ব: সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তার পূর্ব ইউরোপীয় মিত্ররা, সঙ্গে কিউবা ও চিন, তৃতীয় বিশ্ব: উপনিবেশমুক্ত, উন্নয়নশীল, রাজনৈতিকভাবে অনির্ধারিত দেশগুলো এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, পরবর্তীকালে “তৃতীয় বিশ্ব” শব্দটি ব্যবহার হয় প্রধানত দারিদ্র্যপীড়িত উন্নয়নশীল দেশগুলিকে বোঝাতে।কিন্তু সমস্যা বাকি রয়ে যায়, মার্কিন প্রশাসনের কাছে কোথাও ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ বলে কোনও সরকারি তালিকাই নেই।
ভারত কি সেই তালিকায় পড়তে পারে? (Trumps Migration Freeze)
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন এটাই। যদিও সৌভির শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী ভারত একসময় ‘তৃতীয় বিশ্ব’ হিসেবে বিবেচিত হত, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত, বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির একটি, আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র, প্রযুক্তি ও প্রতিভার অন্যতম প্রধান উৎস, মার্কিন আইটি খাতে ভারতীয় অভিবাসীর পরিমাণ সর্বোচ্চ, ফলে ট্রাম্প যদি তাঁর ঘোষণাকে বাস্তব নীতিতে রূপ দিতে চান, তাহলে ভারতকে বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্ত করা উভয় ক্ষেত্রেই মার্কিন নীতির ওপর গভীর প্রভাব পড়বে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়, যদিও ট্রাম্পের বক্তব্যে যে রাজনৈতিক বার্তা লুকিয়ে আছে, তা ভারতীয় ভিসা ও অভিবাসন প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলতে পারে।
নীতির সম্ভাব্য প্রভাব (Trumps Migration Freeze)
ট্রাম্পের এই বক্তব্য বাস্তবায়িত হলে, তার প্রভাব বহুস্তরীয় হবে।
১. মার্কিন অর্থনীতিতে আঘাত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিখাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যপরিসেবা এসব ক্ষেত্রে অভিবাসীদের ভূমিকা অপরিসীম।
অভিবাসন স্থগিত হলে দক্ষ কর্মীর যোগান কমে যাবে।
২. বৈশ্বিক কূটনীতিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি
উন্নয়নশীল দেশগুলো এটিকে বৈষম্যমূলক নীতি হিসেবে দেখবে। কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
৩. আমেরিকার অভ্যন্তরে সামাজিক অস্থিরতা
বিদেশি-বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের পুনরুত্থান হতে পারে, যা আমেরিকার বহু জাতিগোষ্ঠীর জন্য উদ্বেগের কারণ।
৪. অভিবাসীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা
লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী, কর্মী, গবেষক এই নীতির ফলে ভিসা নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগে পড়বেন।

আরও পড়ুন: Donald Trump: অভিবাসন নীতি নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প
বাস্তবায়ন সম্ভব, নাকি নির্বাচনী কৌশল?
ট্রাম্পের বক্তব্য সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে রাজনৈতিক বার্তা হতে পারে। “আমেরিকা ফার্স্ট” পরিচিত স্লোগানকে পুনরায় উস্কে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এমন বার্তা আসতে পারে। বাস্তব সমস্যা হল, “তৃতীয় বিশ্বের দেশ” বলতে কী বোঝানো হচ্ছে তা অস্পষ্ট, কংগ্রেসে অভিবাসন আইন পাস করানো কঠিন, ব্যবসায়িক লবি ও প্রযুক্তিখাতের প্রবল বিরোধিতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা, ফলে এটি কার্যকর করা যতটা সহজ শোনা যাচ্ছে, বাস্তবে তা তার থেকে অনেক বেশি জটিল।



