Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: লাদাখে রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে (Ladakh Protest) বুধবারের দিনটা ইতিহাস হয়ে থাকল অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির জন্য। সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করে লেহ শহরে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবিতে।
লাঠিচার্জ করতে হয় (Ladakh Protest)
তবে দিনের অগ্রভাগে শান্তিপূর্ণ হলেও, বিকেলের দিকে আন্দোলন (Ladakh Protest) হঠাৎই হিংসাত্মক চেহারা নেয়। বিক্ষোভকারীরা আগুন লাগিয়ে দেয় বিজেপির পার্টি অফিসে, জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়িও। সংঘর্ষ বাধে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুঁড়তে এবং লাঠিচার্জ করতে হয়।
মৃত্যু হয়েছে চারজনের (Ladakh Protest)
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই হিংসার জেরে মৃত্যু (Ladakh Protest) হয়েছে চারজনের। আহতের সংখ্যা অন্তত ৮০, যার মধ্যে প্রায় ৪০ জন পুলিশ কর্মী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন জারি করেছে কার্ফু। সন্ধ্যা গড়াতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানায়, বিকেল ৪টার পর থেকে কোনও নতুন হিংসার খবর নেই, পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।
হিংসার পক্ষে নন
এই ঘটনার পরেই একদিকে যেমন কেন্দ্র সতর্ক করেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক ভিডিও ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে, অন্যদিকে আন্দোলনের মুখ সোনম ওয়াংচুক নিজেই জানিয়ে দিলেন, তিনি কোনও হিংসার পক্ষে নন। বুধবারের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সোনম বলেন, “আজকের দিনটা লাদাখের জন্য দুঃখের, আমার জন্যও সবচেয়ে দুঃখজনক দিন। আমরা সবসময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথেই থেকেছি, কিন্তু এই হিংসা আমাদের সেই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিল।”
অনশন প্রত্যাহারের ঘোষণা
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে অনশন ও পদযাত্রার মাধ্যমে আন্দোলন চলেছে-লেহ থেকে দিল্লি পর্যন্ত সেই বার্তা ছিল অহিংস। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলির ব্যর্থতা এবং যুব সমাজের ক্ষোভ এই হিংসার জন্ম দিয়েছে বলে মত সোনমের। এমনকি এদিনই তিনি নিজের অনশন প্রত্যাহারের ঘোষণাও করেন।
সোনম ওয়াংচুকের দিকেই অভিযোগের আঙুল
তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সরাসরি সোনম ওয়াংচুকের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে। তাদের দাবি, সোনমের উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরেই উত্তেজিত জনতা আন্দোলনের রাস্তা থেকে সরে গিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দফতরে হামলা চালায়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হিংসার পেছনে রয়েছে ‘ইচ্ছাকৃত’ পরিকল্পনা।
আরও পড়ুন: College Street Waterlogged: জলযন্ত্রণায় ডুবল কলেজস্ট্রিট, বইপাড়ায় বইয়ের মড়ক!
গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
উল্লেখ্য, ৬ অক্টোবর কেন্দ্রের সঙ্গে লাদাখের প্রতিনিধিদলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। তার আগেই এই বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, উত্তপ্ত লাদাখে শান্তি ফেরাতে কেন্দ্র কতটা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, আর সোনম ওয়াংচুকের ভূমিকা কীভাবে বিশ্লেষণ করা হয় সরকারি মহলে।


