Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইজরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, সংঘর্ষ-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতা বিষয়ে জাতিসংঘের পরবর্তী বার্ষিক অধিবেশনে ইজরায়েলের সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীকে (Israel Defense Forces) কালো তালিকাভুক্ত করা হতে পারে(UN Chief Warns Israel) । গত সোমবার, ১১ অগস্ট ইজরায়েলের জাতিসংঘস্থ রাষ্ট্রদূত ড্যানি দাননের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে মহাসচিব লিখেছেন—“জাতিসংঘের ধারাবাহিকভাবে নথিবদ্ধ উদ্বেগের প্রেক্ষিতে আমি ইজরায়েলি সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীকে ‘নোটিশে’ রাখছি; পরবর্তী রির্পোটিং চক্রে তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।”
চিঠিতে বলা হয়েছে, ইজরায়েলি বাহিনীর দ্বারা ফিলিস্তিনি বন্দিদের উপর বিভিন্ন কারাগার, একটি আটকে রাখার কেন্দ্র ও একটি সামরিক ঘাঁটিতে সংঘটিত যৌন সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য জাতিসংঘের কাছে রয়েছে(UN Chief Warns Israel) । একই সঙ্গে, জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের ধারাবাহিকভাবে প্রবেশাধিকার না দেওয়ায় ঘটনাগুলোর ধরণ, প্রবণতা ও পদ্ধতিগততা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গুতেরেস ইজরায়েলকে অবিলম্বে সকলধরনের যৌন সহিংসতা বন্ধ করতে, স্বাধীন তদন্ত চালাতে এবং জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের সুযোগ দিতে আহ্বান জানান।
ইজরায়েলের কঠোর অস্বীকার (UN Chief Warns Israel)
চিঠির জবাবে রাষ্ট্রদূত দানন অভিযোগগুলোকে “পক্ষপাতদুষ্ট প্রকাশনার উপর দাঁড়ানো ভিত্তিহীন দাবি” বলে মন্তব্য করেন এবং জাতিসংঘকে হামাসের যৌন সহিংসতার দিকে মনোযোগ দিতে আহ্বান জানান। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ধারাবাহিকভাবে পদ্ধতিগত নির্যাতনের অভিযোগ নাকচ করেছে।
ইজরায়েলে প্যালেস্টাইনের বন্দিদের অত্যাচার (UN Chief Warns Israel)
২০২৪ সালে ইজরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম প্রকাশিত এক বিস্তৃত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৭ অক্টোবরের পর ফিলিস্তিনি আটকিদের ওপর বিভিন্ন জেলখানা ও আটককেন্দ্রে মারধর, অমানবিক আচরণ, অপমান এবং যৌন সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে; এগুলো যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, তারও ইঙ্গিত মেলে সংগৃহীত সাক্ষ্য থেকে। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী ও কারাগার কর্তৃপক্ষ তখনই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল(UN Chief Warns Israel) ।
নেগেভ মরুভূমির স্দে টাইমান আটককেন্দ্র নিয়ে বিশেষভাবে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তদন্তমূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ও মানবাধিকারকর্মীদের আবেদনে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সেখানে পরিবর্তন আনা হয়; একই বছর জুনে ইজরায়েলের সুপ্রিম কোর্টও স্দে টাইমানের বন্দিদের অবস্থার তথ্য আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেয়—যদিও কেন্দ্রটি বন্ধের নির্দেশ দেয়নি। এছাড়া নেগেভের কেটসিওত, পশ্চিম তীরের নিকট মেগিডো ও গিলবোয়া, এবং জেরুজালেমের এটজিয়নসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখা হয়—এমন প্রেক্ষাপটেই জাতিসংঘের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা এসেছে।
জাতিসংঘের কমিশন ও বিশেষ প্রতিনিধিদের পর্যবেক্ষণ (UN Chief Warns Israel)
চলতি বছরের মার্চে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল-নিযুক্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারি জানায়, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইজরায়েলের যৌন, প্রজনন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ব্যবহার বেড়েছে; বন্দিশিবিরে পোশাক খুলে তল্লাশি, অপমান, জেনিটাল নির্যাতন ইত্যাদির অভিযোগ উঠে আসে(UN Chief Warns Israel) । কমিশন স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধ্বংসকে কেন্দ্র করে ‘গণহত্যামূলক কাজের’ কথাও বলে—যা ইজরায়েল জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘ একইসঙ্গে হামাসের বিরুদ্ধেও যৌন সহিংসতার অভিযোগ নথিবদ্ধ করেছে(UN Chief Warns Israel)। মহাসচিবের সাম্প্রতিক ব্রিফিং ও আগের রিপোর্টগুলোতে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ও পরে জিম্মিদের বন্দিদশায় যৌন সহিংসতার “স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য” তথ্য পাওয়া গেছে এবং এ সহিংসতা চলছে—এ অভিযোগ হামাস অস্বীকার করেছে।

‘ব্ল্যাকলিস্টিং’ হলে এর অর্থ কী (UN Chief Warns Israel)
প্রতি বছর মহাসচিবের অফিস ‘সংঘর্ষ-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতা’ নিয়ে যে তালিকা প্রকাশ করে, সেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে “বিশ্বাসযোগ্য সন্দেহভাজন” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়(UN Chief Warns Israel) । তালিকাভুক্তি কেবল প্রতীকী নিন্দা নয়; এতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা, পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্টিং বাড়ে, নীতি-সংস্কার ও জবাবদিহির জন্য চাপ তৈরি হয়, এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক-নৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়। চলতি সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থাপিত নথিতে ইজরায়েল ও রাশিয়া—দুই দেশের বাহিনী নিয়েই ‘প্যাটার্ন’ বা পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিতসহ সতর্কতা এসেছে।
ইজরায়েলের ভেতরে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া (UN Chief Warns Israel)
গত বছর ও এ বছরে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় সৈন্যদের বিরুদ্ধে আটক ফিলিস্তিনিদের নির্যাতনের অভিযোগে সামরিক তদন্ত শুরু হয়—যদিও অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার ও আইনি সহায়তা সংগঠনগুলো তদন্তের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলে(UN Chief Warns Israel) । মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক মান মেনে স্বাধীন, পক্ষপাতশূন্য ও সময়াবদ্ধ তদন্ত ছাড়া দায় নিরূপণ সম্ভব নয়।
মানবিক ক্ষেত্রের চিত্র (UN Chief Warns Israel)
গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইজরায়েলি ও ফিলিস্তিনি উভয় পক্ষের বেসামরিক মানুষের ওপর যৌন সহিংসতার আশঙ্কা বাড়ছে—এমন সতর্কবার্তা এসেছে জাতিসংঘের বিভিন্ন দপ্তর থেকে(UN Chief Warns Israel) । ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি থিম্যাটিক রিপোর্টে দেখানো হয়, সামরিক-চালিত আটক সুবিধাগুলোতে মারধর, অপমান, এবং যৌন সহিংসতার ঝুঁকি সম্পর্কে বহু সাক্ষ্য জমা পড়েছে। একইসঙ্গে কিছু মুক্তিপ্রাপ্ত জিম্মিও বন্দিদশায় যৌন সহিংসতার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।

আরও পড়ুন : SC On Stray Dogs : দিল্লি থেকে পথকুকুর সরানোর নির্দেশ ঘিরে তোলপাড়, খতিয়ে দেখার আশ্বাস প্রধান বিচারপতির
প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পথ (UN Chief Warns Israel)
জাতিসংঘের সতর্কবার্তার পর ইজরায়েলি প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া—অভিযোগ অস্বীকার ও হামাসের অপরাধের দিকে দৃষ্টি ফেরানো(UN Chief Warns Israel) । তবে মহাসচিবের অফিস বলছে, তালিকাভুক্তি এড়াতে হলে ইজরায়েলকে তিনটি জিনিস নিশ্চিত করতে হবে—(১) অবিলম্বে যৌন সহিংসতা বন্ধ, (২) আভ্যন্তরীণ ও স্বাধীন তদন্তে সুনির্দিষ্ট জবাবদিহি, (৩) জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার। নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থাপিত সাম্প্রতিক নথি অনুযায়ী, এসব বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি না হলে পরবর্তী রিপোর্টিং চক্রে তালিকাভুক্তির ঝুঁকি বহাল থাকবে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, তালিকাভুক্তির হুমকি কেবল শাস্তিমূলক নয়; এটি ভুক্তভোগীদের কণ্ঠকে স্বীকৃতি দেওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ত্বরান্বিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীন রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতাগুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি উপায়। ইজরায়েলি পক্ষের বক্তব্য, যুদ্ধকালীন অনিয়ম যদি কোথাও ঘটে থাকে, তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং সেগুলো নিয়ে যথাযথ তদন্ত চলছে; রাষ্ট্র বা বাহিনীর নীতিতে ‘পদ্ধতিগত নির্যাতন’ নেই(UN Chief Warns Israel) । অপর দিকে, ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক অধিকারগোষ্ঠীগুলোর দাবি—অভিযোগগুলো এত বিস্তৃত ও সাযুজ্যপূর্ণ যে এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা যায় না; বরং এটিকে নীতিগত ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত।
সব মিলিয়ে, ১১ অগস্টের চিঠির পর কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়লেও—এই ইস্যুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে বন্দিশিবির ও আটককেন্দ্রের ভেতরের মানবাধিকার পরিস্থিতি(UN Chief Warns Israel)। পরবর্তী জাতিসংঘ প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই ইজরায়েল কি তদন্ত ও প্রবেশাধিকার বাড়াবে, নাকি ‘তালিকা’-য় নাম ওঠার সম্ভাবনা আরও জোরাল হবে—আন্তর্জাতিক মহল এখন সেই দিকেই নজর রাখছে।


