Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : আমেরিকা ও চিনের শুল্কযুদ্ধ নতুন মাত্রায় পৌঁছল (US China Tariff War)। সোমবার হোয়াইট হাউসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চিনকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
চাইলে চিনকে ধ্বংস করতে পারি (US China Tariff War)
ট্রাম্পের দাবি, তাঁর হাতে এমন কিছু “অসাধারণ তাস” রয়েছে যা খেললে চিনের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। প্রেসিডেন্টের স্পষ্ট মন্তব্য—“ওদের হাতে কিছু তাস আছে। আমাদের কাছেও তাস রয়েছে। আমি সেগুলি খেলতে চাই না। যদি খেলি, চিন ধ্বংস হয়ে যাবে।” তবে একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বেজিঙের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেও তিনি আগ্রহী।
শুল্কযুদ্ধের মূল কারণ ‘চুম্বক’ (US China Tariff War)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশঙ্কা করছেন, উদ্ভূত বাণিজ্য সংঘাতের আবহে চিন আমেরিকায় চুম্বক রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে(US China Tariff War)। এ নিয়েই তাঁর হুঁশিয়ারি—“আমাদের চুম্বক দিতেই হবে ওদের। যদি না দেয়, আমরা ওদের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপাব।”
উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে চুম্বকের একচেটিয়া দখল রয়েছে চিনের। সিএনবিসি-র তথ্য অনুসারে, বৈশ্বিক চাহিদার ৯০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করে বেজিং। এপ্রিল মাসে সাময়িকভাবে আমেরিকায় চুম্বক রফতানি কমালেও জুন থেকে আবার রফতানি বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুনে আমেরিকায় চুম্বক রফতানি ৬৬ শতাংশ এবং জুলাইয়ে আরও ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন : Israel Palestine Conflict : দক্ষিণ গাজার হাসপাতালে ইজরায়েলি বোমা হামলায় নিহত ৪ সাংবাদিক সহ অন্তত ১৫
বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দরকষাকষি (US China Tariff War)
বর্তমানে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে নতুন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে (US China Tariff War)। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই চিনা প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে পৌঁছতে পারে। সেই প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের (Donald J. Trump) হুঁশিয়ারি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকের মতে, আলোচনার আগে চাপ তৈরি করতেই বেজিঙের উদ্দেশে এমন বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

আরও পড়ুন : Delhi High Court : প্রধানমন্ত্রী মোদির স্নাতক ডিগ্রি প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নেই, জানাল দিল্লি হাইকোর্ট
পাল্টা ‘বোয়িং তাস’ (US China Tariff War)
চিনের ‘চুম্বক তাস’-এর পাল্টায় ট্রাম্প আমেরিকার ‘বোয়িং তাস’-এর কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, চুম্বক রফতানি বন্ধ করার পরে ওয়াশিংটনও ইচ্ছাকৃত ভাবে বোয়িং বিমানের যন্ত্রাংশ চিনে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। এর জেরে ২০০টি বিমান মাটিতে বসে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
শুল্কযুদ্ধের আবহে ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে চিনের প্রতি কড়া বার্তা। আসন্ন বাণিজ্য আলোচনায় এর প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা থাকলেও বিশ্ববাজারে নতুন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।


