Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ৩ জানুয়ারির গভীর রাতে একের পর এক বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস (Colombia)। মার্কিন বিশেষ বাহিনীর আকস্মিক অভিযানে গ্রেপ্তার হন সে দেশের রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী। তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন তৈরি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি দাবি করেন, নিকোলাস মাদুরো একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মাদক কার্টেলের প্রধান এবং তাঁর প্রত্যক্ষ মদতেই আমেরিকায় ভয়াবহ মাদক মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এই অভিযোগের ভিত কতটা শক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে।

ট্রাম্পের বক্তব্য (Colombia)
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলা থেকেই নাকি বিপুল পরিমাণ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে দেশটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই অভিযোগ নতুন নয়। লাতিন আমেরিকার বামপন্থী সরকারগুলিকে ‘অপরাধী রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা আগেও দেখা গেছে মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে। কিন্তু সরকারি রিপোর্ট ও পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, এই বক্তব্য একপেশে এবং বহু ক্ষেত্রেই বাস্তবতাবিবর্জিত।
পরিসংখ্যান কী বলছে? (Colombia)
২০২৪ সালের ‘ন্যাশনাল সার্ভে অন ড্রাগ ইউজ অ্যান্ড হেলথ’ অনুযায়ী, গাঁজা বাদ দিয়েও প্রায় ২ কোটি ৭৭ লক্ষ মার্কিন নাগরিক নিয়মিত অবৈধ মাদক সেবন করেন। যা ১২ বছরের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যার প্রায় ৯.৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক অবৈধ মাদক সেবনকারী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে। এই ভয়াবহ সংকট কোনও একক দেশের কারণে নয়, বরং বহু দশকের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল।
কোন মাদক সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে? (Colombia)
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদকগুলির মধ্যে রয়েছে, এমডিএমএ, এলএসডি ও এক্সট্যাসির মতো হ্যালুসিনোজেন, ফেন্টানিলসহ সিন্থেটিক ওপিওয়েড, কোকেন ও ক্র্যাক, মেথামফেটামিন, হেরোইন, বিশেষ করে ফেন্টানিল সংকট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ জন আমেরিকানের মৃত্যু হচ্ছে এই মাদক সেবনের কারণে। শুধু ২০২৪ সালেই প্রায় ৮১ হাজার মানুষ ওভারডোজে মারা গেছেন, যার ৭০–৮০ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী সিন্থেটিক ওপিওয়েড।
তাহলে মাদক আসে কোথা থেকে? (Colombia)
এই প্রশ্নের উত্তর দেয় মার্কিন প্রশাসনেরই সংস্থা। ডিইএ-এর ২০২৫ সালের ‘ন্যাশনাল ড্রাগ থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট’ রিপোর্ট স্পষ্ট করে জানাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা অধিকাংশ অবৈধ মাদক আসে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে। এই চোরাচালানের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সিনালোয়া কার্টেল, কার্টেল জালিস্কো নিউভা জেনারাসিওন (CJNG), ভেনেজুয়েলার নাম এখানে গৌণ, মুখ্য নয়।
মাদক পাচারের আধুনিক রুট ও কৌশল (Colombia)
মাদক পাচারের ক্ষেত্রে এখন আর কেবল পুরনো পথ ব্যবহার করা হয় না। ব্যবহৃত হচ্ছে, সীমান্তের নিচে তৈরি সুড়ঙ্গ, ড্রোন, বৈধ সীমান্ত প্রবেশপথ দিয়ে গাড়ি ও ট্রাকে লুকিয়ে বহন, প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগর হয়ে নৌপথ, সীমান্ত পেরোনোর পর এই মাদক ছড়িয়ে পড়ে ফিনিক্স, ডালাস, আটলান্টা, শিকাগোর মতো বড় শহরে জাতীয় সড়ক ও আন্তঃরাজ্য হাইওয়ে ব্যবহার করে।
আরও পড়ুন: Sweater Tips: শীতে একই সোয়েটার কতদিন পরা উচিত?
দায় কার?
বাস্তবতা হল, দীর্ঘদিন ধরেই মেক্সিকো ও কলম্বিয়াভিত্তিক কার্টেলগুলিই আন্তর্জাতিক মাদক বাণিজ্যের প্রধান নিয়ন্ত্রক। ভেনেজুয়েলা কোনও কোনও ক্ষেত্রে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, একে ‘মূল উৎস’ বলা তথ্যগতভাবে বিভ্রান্তিকর। তবু রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ভেনেজুয়েলাকে সামনে এনে পুরো দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠছে কূটনৈতিক মহলে।



