Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক নীরব কিন্তু ঐতিহাসিক পরিবর্তন চলছে(Indo Afghan)। পাকিস্তানের প্রভাব থেকে সরে এসে আফগানিস্তান এখন ধীরে ধীরে ভারতের দিকে ঝুঁকছে—আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু ইরানের চাবাহার বন্দর(Chabahar Port) ।
পাক নির্ভরতা কমাচ্ছেন আফগানরা (Indo Afghan)
দুই দশকের বেশি সময় ধরে নানা নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ এবং বাধার পরও ভারত যে চাবাহারে বিনিয়োগ চালিয়ে গেছে, তার ফল এখন স্পষ্ট। ভারত-ইরান-আফগানিস্তান বাণিজ্য করিডর তৈরি হচ্ছে এবং সেটি পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে চলছে। গত তিন মাসে কাবুল বার্তা দিয়েছে—আফগানিস্তান আর পাকিস্তানের ওপর নির্ভর করতে চায় না। তালিবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাক্কি এবং বাণিজ্যমন্ত্রী নুরউদ্দিন আজিজির দিল্লি সফর এই নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
ভারতের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চায় আফগানিস্তান (Indo Afghan)
আজিজির বক্তব্য আরও স্পষ্ট— পাকিস্তানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্থির, রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় যা আফগান অর্থনীতিকে এক অর্থে সমস্যায় ফেলে রেখেছে। তাই আফগানিস্তান ভারতকে চায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে। বিনিয়োগ আকর্ষণে আফগানিস্তান ভারতীয় কোম্পানিকে দিচ্ছে পাঁচ বছরের কর ছাড়, বিনামূল্যে জমি, দ্রুত ছাড়পত্র এবং কম শুল্ক সুবিধা। ইতিমধ্যেই নিম্নমানের পাকিস্তানি ওষুধ নিষিদ্ধ করে ভারতীয় ওষুধ বাজারে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
দিল্লি-কাবুল বাণিজ্য পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ (Indo Afghan)
এদিকে চাবাহার বন্দরে দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়ন, মালবাহী টার্মিনাল, কোল্ড স্টোরেজ এবং আকাশপথে দিল্লি-কাবুল বাণিজ্য পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ এই করিডরকে আরও কার্যকর করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য ইতিমধ্যেই ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে—যেখানে শুকনো ফল, জাফরান, কার্পেট আসছে আফগানিস্তান থেকে, আর ভারত পাঠাচ্ছে ওষুধ, যন্ত্রপাতি, খাদ্যশস্য ও মেডিক্যাল সরঞ্জাম।
আরও পড়ুন: SSC HC: দাগি না হয়েও যোগ্য তালিকায় নেই: হাইকোর্টে এবার ২০১৬-র গ্রুপ-সি ও ডি কর্মীদের একাংশ
নিয়ন্ত্রণ ভাঙছে চাবাহার
এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য কৌশলগত আঘাত। দীর্ঘদিন ধরে ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে ইসলামাবাদ আফগানিস্তানের বাণিজ্য পথ নিয়ন্ত্রণ করেছে। এখন চাবাহার সেই নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলেও দিকটি স্পষ্ট— আফগানিস্তান আর পাকিস্তানের ছায়ায় থাকতে রাজি নয়। আর ভারত, সেই দরজা খুলে দিতে প্রস্তুত।



