Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সর্বশেষ উত্তেজনা তৈরি হয় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে বসার আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন। জানান তা না হলে আগের চেয়েও ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে(US Iran)।
ইরানকে হুমকি ট্রাম্পের (US Iran)
সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, “ইরান দ্রুত আলোচনায় এলে সবার জন্য ভালো হবে কোনও পারমাণবিক অস্ত্র নয়। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।” তিনি জুন ২০২৫-এ ইরানের পারমাণবিক গবেষণাক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন, “পরবর্তী হামলা আরও ভয়াবহ হবে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের দিকে একটি বড় মার্কিন নৌবহর এগোচ্ছে।
‘মার্কিন হামলার জবাব পাবে সহযোগীরাও’ (US Iran)
এর জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি শামখানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরান শুধু মার্কিন নয়, ইসরায়েল ও সহযোগী দেশগুলোকেও লক্ষ্য করবে। বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, ইরানের সেনাবাহিনী যেকোনও আগ্রাসনের জবাবে তাৎক্ষণিক ও কড়া প্রতিক্রিয়া দিতে প্রস্তুত। তবে তিনি বলেন, হুমকি ছাড়া সমতার ভিত্তিতে আলোচনা হলে ইরান কূটনীতির পথ খোলা রাখে।
ইরান ঘিরছে আমেরিকা! (US Iran)
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নেতৃত্বাধীন একটি স্ট্রাইক গ্রুপ ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এতে রয়েছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার ও একটি পারমাণবিক সাবমেরিন। অঞ্চলজুড়ে নজরদারি বিমান ও ড্রোনের তৎপরতাও বেড়েছে।
গভীর অভ্যন্তরীণ সঙ্কটে ইরান (US Iran)
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান গভীর অভ্যন্তরীণ সঙ্কটে পড়েছে। দেশটির মুদ্রা রিয়াল রেকর্ড দরপতনে পৌঁছেছে এবং ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও গ্রেফতার হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন নিষেধাজ্ঞা ও আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব মিলিয়ে কূটনীতি ও সংঘাতের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য, যেখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তই বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।



