Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতি নিয়ে আইনি লড়াই ক্রমশ জটিল হচ্ছে(US Tariff War)। ফেডারেল সার্কিটের আপিল আদালত তাঁর শুল্ক আরোপকে ‘ক্ষমতার সীমালঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করার পর এবার ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে দ্রুত শুনানির আবেদন জানাল। প্রশাসনের দাবি, নিম্ন আদালতের এই রায়ের ফলে বিদেশি বাণিজ্য আলোচনায় আমেরিকার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে।
আপিল আদালতের রায় ও বিতর্ক (US Tariff War)
ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৭ সালের পর থেকে প্রায় সব দেশের উপর ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে(US Tariff War)। ভারতের ক্ষেত্রে শুল্কের হার পৌঁছে যায় ৫০ শতাংশে। ট্রাম্প এর ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেন ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (১৯৭৭)। এই আইনে জরুরি অবস্থায় প্রেসিডেন্টকে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হলেও, আদালতের পর্যবেক্ষণ— কোথাও শুল্ক আরোপের বিশেষ ক্ষমতার উল্লেখ নেই। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ আইনসঙ্গত নয় বলেই মনে করছে আপিল আদালত।
তবে আদালত এখনও শুল্ক কার্যকর করার উপর কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি। বরং ট্রাম্পকে (Donald Trump) সময় দিয়েছে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সুযোগে প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে রায়ের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে।
সলিসিটর জেনারেলের আবেদন (US Tariff War)
মার্কিন সলিসিটর জেনারেল জন সওয়ার আদালতে নথি জমা দিয়ে দ্রুত শুনানির দাবি জানিয়েছেন(US Tariff War)। তাঁর বক্তব্য, শুল্কনীতির বৈধতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় সমস্যা তৈরি হবে। প্রেসিডেন্টের নীতি নিয়ে বিদেশি নেতাদের প্রশ্নের জেরে আলোচনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুন : Flight Incident : বিজয়ওয়াড়া বিমানবন্দরে বিমানে আতঙ্ক!
রাজস্বসচিবের সতর্কবার্তা (US Tariff War)
আমেরিকার রাজস্বসচিব স্কট বেসান্ত আদালতে দেওয়া বিবৃতিতে সতর্ক করেছেন, আপিল আদালতের রায়ের কারণে অনেক দেশ বাণিজ্যিক আলোচনা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে বা সময়ক্ষেপণ করছে। কেউ কেউ নিজেদের মতো করে নতুন শর্ত বসাচ্ছে(US Tariff War)। তাঁর মতে, শুল্ক বাতিল হলে আমেরিকার অর্থনীতিতে বড়সড় বিঘ্ন ঘটতে পারে।
আরও পড়ুন : PM Modi On GST : জিএসটি কাঠামোর সংস্কারকে “ডাবল ডোজ অফ সাপোর্ট অ্যান্ড গ্রোথ” বললেন প্রধানমন্ত্রী
বেসান্ত জানান, ইতিমধ্যেই শুল্কের মাধ্যমে ৭৫ হাজার কোটি থেকে ১ লক্ষ কোটি ডলার রাজস্ব আদায় করেছে মার্কিন প্রশাসন। হঠাৎ এই রাজস্ব বন্ধ হয়ে গেলে অর্থনৈতিক ‘অস্থিরতা’ দেখা দেবে এবং একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, শুল্ক নীতি না থাকলে আমেরিকার অর্থনৈতিক শক্তি দুর্বল হবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠবে(US Tariff War)। তবে আদালতের দৃষ্টিতে এই নীতি আইনসঙ্গত কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে সুপ্রিম কোর্ট। এখন নজর সেদিকেই।


