Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: লক্ষ্মীপুজোর দিন তাই ব্যস্ততা কয়েক গুণ বেড়ে যায় দেবলীনা কুমারের (Uttam Kumar)। একদিকে তিনি মহানায়ক উত্তম কুমারের নাতবউ, অন্যদিকে দেবাশিস কুমারের একমাত্র সন্তান। ফলে দুই বাড়ির পুজোর আয়োজনেই তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হয়। পাশাপাশি নিজের নাচের স্কুলেও নিয়ম মেনে লক্ষ্মীপুজো করেন অভিনেত্রী। তিন জায়গাতেই পরম যত্নে পুজোর আয়োজন সম্পূর্ণ করেন তিনি।

১৯৫০ থেকে শুরু ঐতিহ্যের পথচলা (Uttam Kumar)
ভবানীপুরের গিরিশ মুখার্জি রোডের চট্টোপাধ্যায় পরিবারের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর ইতিহাস প্রায় সাত দশকেরও বেশি পুরনো। ১৯৫০ সালে ছেলে গৌতমের জন্মের বছর মহানায়ক উত্তম কুমারের ইচ্ছেতেই এই পুজোর সূচনা। কথিত আছে, অভিনেতা ছবি বিশ্বাসের বাড়ির লক্ষ্মীপুজো দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন মহানায়ক। সেই থেকেই নিজের বাড়িতেও ধনদেবীর আরাধনা শুরু করার ইচ্ছে তৈরি হয় তাঁর।
গৌরীদেবীর মুখেই যেন দেবী লক্ষ্মী (Uttam Kumar)
এই বাড়ির লক্ষ্মীপ্রতিমার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এক অপূর্ব গল্প। ‘যদুভট্ট’ ছবির শুটিংয়ের সময় শিল্পী নিরঞ্জন পালকে বাড়িতে ডেকেছিলেন উত্তমকুমার। শিল্পী বাড়িতে গিয়ে গৌরীদেবীকে ঘর পরিষ্কার করতে দেখেন। ঘোমটার ফাঁক দিয়ে তাঁর মুখের এক ঝলক দেখেই নাকি শিল্পীর মনে লক্ষ্মীর মুখচ্ছবি তৈরি হয়। পরে গৌরীদেবীর মুখের আদলেই তৈরি করেন প্রতিমা। আজও সেই চেনা মুখের ছাপ বহন করে দেবী।
গঙ্গাজল থেকে ভোগ—সবেতেই প্রাচীন রীতি (Uttam Kumar)
পুজোর দিন ভোরে গঙ্গায় স্নান করে ঘট ভরে আনার রীতিও আজও অটুট। উত্তমকুমারের আমল থেকে প্রতিমার সামনে বসানো হয় বড় রুপোর ঘট। ভোগ তৈরির অধিকারও ঐতিহ্য মেনে দীক্ষিত পরিবারের মেয়ে বা পুত্রবধূদের হাতেই থাকে। পোলাও, লুচি, ছোলার ডাল, পাঁচরকম ভাজা, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও পায়েসের পাশাপাশি একসময় বাড়িতেই তৈরি হত পান্তুয়া ও গজা।
পাত পেড়ে খেতেন টালিগঞ্জের তারকারা (Uttam Kumar)
উত্তমকুমারের বাড়ির লক্ষ্মীপুজোর ভোগ ছিল একসময় টালিগঞ্জের অন্যতম আকর্ষণ। প্রযোজক, গায়ক, অভিনেতা-সহ বহু বিশিষ্ট মানুষ পাত পেড়ে বসতেন। মহানায়ক নিজে দাঁড়িয়ে অতিথিদের খাওয়াতেন, সবাই খাওয়া শেষ করার পরেই বসতেন নিজের খাবার নিয়ে। শোনা যায়, বিশেষ মানত পূরণ হওয়ায় তিনি কাঙালি ভোজনও করাতেন। গৌরীদেবীর সঙ্গে নিজে হাতে অতিথিদের পরিবেশন করতেন উত্তমকুমার।

আরও পড়ুন: Jogen Chowdhury: গুরুতর অসুস্থ যোগেন চৌধুরী, ভেন্টিলেশনে প্রখ্যাত শিল্পী
নতুন প্রজন্মেও অটুট সেই নিষ্ঠা
সময় বদলেছে, কমেছে আয়োজনের জাঁকজমক। কিন্তু ভক্তি ও নিষ্ঠায় কোনও ছেদ পড়েনি। একসময় সারাদিন নির্জলা উপবাস করে পুজোয় বসতেন মহানায়ক নিজেই। এখন সেই দায়িত্ব পালন করেন নাতি গৌরব চট্টোপাধ্যায়। গৌরব, নবমিতা, মৌমিতা-সহ পরিবারের নতুন প্রজন্ম নিজেরাই দালানজুড়ে আলপনা দেন। দেবলীনা ও গৌরবদের হাত ধরে তাই উত্তম কুমারের বাড়ির লক্ষ্মীপুজো আজও হয়ে উঠেছে স্মৃতি, ঐতিহ্য ও পারিবারিক ভালোবাসার এক জীবন্ত উত্তরাধিকার।



