Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নিউ জিল্যান্ডের পাহাড় প্রমাণ রানের জবাবে ভারতের একা কুম্ভ বিরাট। শেষ পর্যন্ত কাজে এলো না বিরাটের লড়াই। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিলো নিউ জিল্যান্ড (Virat Kohli)। প্রথমবার ভারতের মাটিতে সিরিজ জয় নিউ জিল্যান্ডের।
সিরিজ জয় নিউ জিল্যান্ডের (Virat Kohli)
ক্রিকেটের ইতিহাসে ধারাবাহিকতা মানেই বিরাট কোহলি তবে এই ম্যাচে সেই খাতায় নাম লেখালেন ড্যারিল মিচেলও। দ্বিতীয় ম্যাচের পর এই ম্যাচেও সেঞ্চুরি। দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি করে যেমন দলকে জিতিয়েছিলেন এই ম্যাচেও সেঞ্চুরি করে দলকে পৌঁছে দিয়েছিলেন পাহাড় প্রমাণ রানে (Virat Kohli)। কিন্তু…
চিকু থেকে চেজ মাস্টার হওয়ার লড়াই সহজ না হলেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সেরার সিংহাসনে। বারবার দলের কঠিন সময়ে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন কোহলি। অফ সাইড, লেগ সাইড, লং অন সবদিকেই রান এলো বিরাটের ব্যাট থেকে। পুরো মাঠ তাঁর কাছে নিরপেক্ষ আর তিনি সেই মাঠের একছত্র অধিপতি। তাঁর সাথে যোগ্য সঙ্গত করলেন হর্ষিত রানা। ঝোড়ো ইনিংসে অনেকটাই প্রেসার কমিয়ে দিলেন চেজ মাস্টারের উপর থেকে। কিন্তু তাঁর উইকেটের পরেই খেলা ঘুরে যায় নিউ জিল্যান্ডের দিকে।
৩৩৮ রান তাড়া করতে নেমে রোহিত ফেরেন ১১ রান করে। এই দিন রান পাননি গিলও। তিনিও ফেরেন ২৩ রান করে। পরপর উইকেট হারিয়ে যখন ভারত চাপে সেই সময় থেকে দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন কোহলি। প্রথমে কিছুটা হাত খুলে খেললেও কেএল রাহুল আউট হওয়ার পর নিজেকে সংযত ভূমিকায় নিয়ে আসেন কোহলি। তবে তাঁর গাড়ি যে তাঁর ইচ্ছেমতো গিয়ার পাল্টাতে পারে সেটা আবারও প্রমাণ করে দিলেন তিনি। কিছুটা সঙ্গ দেন নীতিশ কুমার রেড্ডি। ৫৭ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি (Virat Kohli)।
সিরিজ নির্ণায়ক ম্যাচে বিরাটের সঙ্গে খেলার হাল ধরেন হর্ষিত রানা। ৪২ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলার গতিমুখ অনেকটাই ঘুরিয়ে দেয়। কিন্তু তারপর আবার খেলার রাশ চলে যায় নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে। পরপর দুই উইকেট পড়ে ভারত ব্যাকফুটে চলে আসে। সেই সময় আবার খেলার পুরো ভার পড়ে যায় বিরাটের কাঁধে। সেখান থেকে চেষ্টা করেও ম্যাচ জেতাতে পারলেন না বিরাট। তাঁর উইকেটের সাথে ভারতের জয়ের স্বপ্নও শেষ হয়ে যায়। ১০৮ বলে ১২৪ রানের ইনিংস খেলেন বিরাট। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১০টি চার ও ৩টি ছয়।
ওয়ানডে ক্রিকেটে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সর্বাধিক শতরান করা ব্যাটসম্যান হয়ে উঠলেন কোহলি। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি কোহলির ৫৪তম সেঞ্চুরি, আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি তাঁর ৮৫তম শতরান। শচীনের রেকর্ড ভাঙলেও উদযাপন করলেন না বিরাট। তবে তিনি যে আজও দলের জন্য অপরিহার্য সেটাই বুঝিয়ে দিলেন কোচ, নির্বাচক ও সমালোচকদের। তাঁর রানের খিদে ও ফিটনেস আজও বহু তরুণ ক্রিকেটারের থেকে যে বেশি সেটারই সাক্ষী থাকল ক্রিকেটবিশ্ব (Virat Kohli)।
আরও পড়ুন: Armaan Malik: হাসপাতালের বিছানায় আরমান! কী হল গায়কের?
Time for a reality check (Virat Kohli)
ভারতের কাছে অনেকগুলো প্রশ্ন থাকবে যার উত্তর এখনও অধরা। একদিকে যেমন রয়েছে ভারতের বোলিং ব্যর্থতা। প্রথম দিকে কিছুটা কার্যকরী হলেও মিডিল ওভারে অত্যাধিক রান দেওয়া এবং উইকেট না পাওয়া। অন্যদিকে নিউ জিল্যান্ড দলের কাছে সেই ভাবে রিস্ট স্পিনার না থাকলেও তাঁরা মিডিল ওভারে যথেষ্ট কার্যকরী প্রমাণ হয়েছে। তুলনামূলক নিউ জিল্যান্ড ভারতের সামনে অনেক কম অভিজ্ঞ কিন্তু তাঁদের খেলা দেখে সেটা বোঝা যায় না। বোলিং হোক বা ফিল্ডিং সব দিক থেকে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের প্লেয়াররা।
ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপ নিয়েও প্রশ্ন থাকবে। বিরাট বা রোহিত রান না পেলে ভারতের একজনও সেই দায়িত্ব নিয়ে রান তাড়া করতে ব্যর্থ। ধোনির নেতৃত্বে হোক বা এখন শুভমন গিলের নেতৃত্ব, বিরাট নিজের ভূমিকা আজও পালন করে যাচ্ছেন কিন্তু বিরাটের সঙ্গে জুটি বেঁধে স্কোর বোর্ড এগিয়ে নিয়ে যেতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন গিল, জাদেজার। ওয়ানডে ফরম্যাটে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন জাদেজা কিন্তু অক্ষর প্যাটেল সুযোগ পাচ্ছেন না দলে। এর উত্তরে কী বলবেন কোচ এবংহ নির্বাচকরা?
অর্শদীপকে কেন প্রথম ম্যাচ থেকে খেলানো হলো না সেই নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যাবে। যেখানে সামি ঘরোয়া ক্রিকেটে এত ভাল ফর্মে রয়েছেন সেখানে কেন তিনি সুযোগ পাবেন না এর উত্তরও স্পষ্ট করে জানা নেই। গম্ভীরের বারবার দল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। যেখানে নিউ জিল্যান্ড খেললো টিম গেম হিসেবে সেখানে ভারতের পুরো দায়িত্ব একাই বয়ে গেলেন বিরাট কোহলি। সুতরাং বিশ্বকাপের আগে অনেক কিছু নিয়ে ভাবনা চিন্তা করতে হবে ভারতীয় দলকে (Virat Kohli)।


