Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান (Voter List)। এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অবশেষে প্রকাশিত হল পশ্চিমবঙ্গের নাম বাদের তালিকা। ২০২৬ সালের ভোটার তালিকা তৈরির প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের নাম এখন অনলাইনে দেখে নেওয়া যাচ্ছে।
নাম বাদ গিয়েছে? (Voter List)
ভোটাররা নিজেদের নাম (Voter List), কিংবা আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের নাম বাদ গিয়েছে কি না, তা জানতে পারবেন নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে লগ ইন করে। সেখানে গিয়ে তালিকা ডাউনলোড করারও সুযোগ রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শুধু নাম নয়- কোন কারণে কার নাম বাদ গিয়েছে, সেটিও আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোট ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জন ভোটারের নাম বাদ (Voter List)
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ার (Voter List) পরে মোট ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই বাদ যাওয়ার পিছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। মৃত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ২৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ। নিখোঁজ ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন প্রায় ১২ লক্ষের কিছু বেশি। স্থানান্তরিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২০ লক্ষের কাছাকাছি। ডুপ্লিকেট বা একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটার প্রায় দেড় লক্ষের মতো। এছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন কারণে প্রায় ৫৭ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও কমিশন জানিয়েছে, প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটার এখনও ‘আনম্যাপড’ অবস্থায় রয়েছেন। অর্থাৎ তাঁদের সঙ্গে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার কোনও যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই ভোটারদের আলাদা করে শুনানিতে ডাকা হবে।

বিভিন্ন ধরনের তথ্যগত অসঙ্গতি
শুধু তাই নয়, প্রায় ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের তথ্যগত অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কোথাও বয়সের গরমিল, কোথাও বাবা-মায়ের বয়সের সঙ্গে মিল না থাকা, আবার কোথাও একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে এক জনের তথ্য যুক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে। এই সব ক্ষেত্রেও ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হতে পারে। কাদের ডাকা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও।
বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের কাজ শুরু
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার থেকেই বুথ লেভেল অফিসাররা বা বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের কাজ শুরু করবেন। একই সঙ্গে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এক মাস ধরে তাঁদের নির্দিষ্ট বুথে বসে থাকতে হবে। ভোটাররা সেখানে গিয়ে নিজেদের অভিযোগ বা আপত্তি জানাতে পারবেন। শুনানির জন্য স্কুলের ঘর ব্যবহারের পরিকল্পনাও করা হয়েছে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: WB SIR: খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নেই? পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ভোটার হতে লাগবে কোন ফর্ম?
সব শুনানি ও যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তাই যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে বা যাঁদের তথ্য নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের দ্রুত ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।


