Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মাঠে তখন ১ গোলে এগিয়ে গেছে স্পেন (WC Champion Spain)গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসে লাফিয়ে উঠেছে সেই ২০১০ সালের স্পেনের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল। মাঝে কেটেছে ১৬ বছর। ২০১০ সালের পর আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার দিশাহীন ফুটবল। একাই দুর্গ আগলে লড়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু কতক্ষণ? স্প্যানিশ আর্মাডারা যেভাবে আক্রমণ করছিলেন। তাতে একা লড়াই করা সম্ভব ছিল না। আর হল তাই।
দুই দেশের লড়াই (WC Champion Spain)
ফুটবল বিশ্বের দুই ভিন্ন মেরুর দেশ স্পেন ও আর্জেন্টিনা। ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ফুটবল দর্শন, তবুও এক অদ্ভুত সেতুবন্ধনে তারা আবদ্ধ, আর তা হলো স্প্যানিশ ভাষা। তবে ফাইনালের মঞ্চে এই ভাষার মিল কেবলই একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল। মাঠের লড়াইয়ে স্প্যানিশ ‘তিকিতাকা’ (WC Champion Spain) আর হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিধারী যোদ্ধারা যেন দিশেহারা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বসেরার মুকুট জয়ের স্বপ্ন নিয়ে নামা মেসিদের অসহায় ভাবে আত্মসমর্পণ। এমন চিত্রনাট্য কোনও পরিচালকই লিখতে চাইবেন না।
নিয়ন্ত্রণ ও হাই-প্রেসিং (WC Champion Spain)
স্পেন ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার মুহূর্ত থেকেই ম্যাচের লাগাম নিজেদের কবজায় নিয়ে নেয় স্পেন। বলের দখল রাখা থেকে শুরু করে নিখুঁত পাসিং পুরো সময় জুড়েই নিয়ন্ত্রণ ছিল স্প্যানিশদের। তবে তাদের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্র ছিল ‘হাই-প্রেসিং’। আর্জেন্টিনা যখনই বল নিজেদের পায়ে নিয়েছে, স্পেনের ফুটবলাররা ঝাঁকের মতো ঘিরে ধরে বল কেড়ে নিয়েছে। এর ফলে রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণে ওঠার স্বাভাবিক ছন্দটাই হারিয়ে ফেলে লিওনেল স্কালোনির ছেলেরা।
মার্টিনেজের লড়াই (WC Champion Spain)
ম্যাচজুড়ে স্পেনের মুহুর্মুহু আক্রমণের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। যে মার্টিনেজ পুরো টুর্নামেন্টে চারটির বেশি সেভ করার সুযোগ পাননি, তিনিই ফাইনালে ৭৫ মিনিটেই সাতবার সেভ করে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখান। ৯০ মিনিট পর্যন্ত ১০টি সেভ করে তিনি প্রমাণ করেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক বলা হয়। কিন্তু দুর্গের পতন লেখা ছিল ভাগ্যেই। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে উইলিয়ামের নিখুঁত পাস থেকে তোরেস যখন লক্ষ্যভেদ করেন, তখন মার্টিনেজের একার লড়াইয়ের ইতি ঘটে।
মেসিকে নিয়ে পরিকল্পনা (WC Champion Spain)
স্পেন পরিকল্পিত ফুটবলই খেলেছে গোটা টুর্নামেন্টজূড়ে। মেসিকে আটকানোর নীল নকশা যে তারা বানিয়ে নিয়ে এসেছিলেন, তা প্রমাণিত। স্পেন কোচ জানতেন, আর্জেন্টিনাকে রুখতে হলে আগে মেসিকে থামানো জরুরি। রড্রি ও লাপোর্তে পুরো ম্যাচে যেন ‘ম্যান মার্কিং’-এর নিখুঁত পাঠ দিলেন। মেসির চারপাশে একটা অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে রেখেছিল স্প্যানিশ রক্ষণ। যখনই তিনি বল পায়ে পেয়েছেন, তখনই স্পেনের দুই স্তম্ভ তাকে ঘিরে ধরেছে। অধিনায়ক যখন আটকা পড়েন, তখন পুরো আর্জেন্টিনার আক্রমণের ধার যে ভোঁতা হয়ে যায়, তা আবারও স্পষ্ট হলো এই ফাইনালে।
আরও পড়ুন: MB Dipendu: সত্যি কি মোহনবাগান ছাড়ছেন দীপেন্দু?
লিসান্দ্রোর চোট (WC Champion Spain)
আর্জেন্টিনার রক্ষণের ওপর চাপ বাড়ছিল শুরু থেকেই। কিন্তু ৪৩ মিনিটে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের মাঠ ছাড়া ছিল এক বড় ধাক্কা। তাঁর জায়গায় নামা অভিজ্ঞ ওটামেন্ডির অভিজ্ঞতা থাকলেও, স্পেনের তরুণ তুর্কিদের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে তিনি বারংবার ব্যর্থ হয়েছেন।
লাল কার্ড সমস্যা (WC Champion Spain
অতিরিক্ত সময়ের ইনজুরি টাইমে এঞ্জো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড আর্জেন্টিনার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর অবশিষ্ট শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলে লা আলবিসেলেস্তেরা।
তরুণ ইয়ামালের ঝলক ও ব্যর্থ প্রতি-আক্রমণ
স্পেনের জয়ের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন তরুণ তুর্কি ইয়ামাল। ডান প্রান্ত দিয়ে তার গতি, ড্রিবলিং আর স্কিলের সামনে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা বারবার পর্যুদস্ত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে কুকুরেয়ার ওভারল্যাপিং দৌড় স্পেনের আক্রমণের ধার বাড়িয়েছিল বহুগুণ।
অন্যদিকে, পাল্টা আক্রমণের জন্য মুখিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা গোটা ম্যাচে একটাও গোলমুখী শট নিতে পারেনি যা তাদের ব্যর্থতার এক বড় দলিল। ফাইনালের এই লড়াইটি ছিল আধুনিক ফুটবল দর্শনের সঙ্গে পুরোনো শক্তির সংঘাত। স্পেন প্রমাণ করল যে, সঠিক পরিকল্পনা, গতি এবং সম্মিলিত ফুটবলই ট্রফি জয়ের একমাত্র চাবিকাঠি। অন্যদিকে, স্বপ্নভঙ্গ হওয়া আর্জেন্টিনা হয়তো এখন নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নতুন করে পথ খোঁজার সময় পেয়েছে। ফুটবলের রাজমুকুট এবার স্পেনের দখলে বিশ্ব দেখল এক নতুন ইউরোপীয় দাপট।



