Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলায় শক্তিশালী হচ্ছে বিজেপি। আর তাতেই ভোট কমেছে বামেদের (CPIM)। দীর্ঘদিন দলে থেকেও পদোন্নতি হচ্ছে না নেতা-কর্মীদের। আশঙ্কা, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে সিপিআইএম থেকে তরুণ মুখ যোগ দিতে পারে পদ্মশিবিরে। তাই এখন থেকেই বিজেপির হিন্দুত্বের রাজনীতির বিরুদ্ধে জেলাস্তরে পাঠচক্র শুরু সিপিআইএমের।
বিজেপি-বিরোধিতায় পাঠচক্র শুরু দলের নিচুতলায় (CPIM)
নিচুতলায় শুধু ভোট হারানোই নয়, সিপিআইএমের (CPIM) কর্মী-সমর্থকরাও এখন বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে এই প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কিত সিপিআইএম। দলের তরফে নিচুতলার নেতাদের পাঠচক্রের মাধ্যমে সচেতন করার চেষ্টা চলছে, যাতে ধর্মীয় বিভাজনে বিভ্রান্ত না হন সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা। সিপিআইএমের দাবি, বিজেপি ধর্মকে হাতিয়ার করে হিন্দুত্বের রাজনীতি চালাচ্ছে এবং দলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। ২০১৯ সালের পর থেকে বামের ভোটের ধস লক্ষ্যণীয়, আর সে ভোট এখন পদ্মফুলে চলে যাচ্ছে। নীচুতলার কর্মীদের মাঝে বিজেপির প্রভাব বাড়ছে। পর পর ভোটের ফলাফলই তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন:Mamata Banerjee: ভুটানের জলে ক্ষতি, ক্ষতিপূরণ দাবি মুখ্যমন্ত্রীর!
যদিও বাংলায় বিজেপির ভোটবৃদ্ধি রুখে দিচ্ছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটকে বিজেপি-বিরোধিতায় আরও মনোনিবেশ করতে বলা হয়েছে সিপিআইএমের (CPIM) দলিলেই। আর তা করতে গিয়ে ভোট বাঁচানোর পাশাপাশি এখন পদ্ম শিবিরের হাত থেকে নিচুতলায় নিজেদের ঘর বাঁচানোও লক্ষ্য সিপিএমের।
তরুণদের মধ্যে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী বাম কর্মীদের বিজেপিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, জেলায় জেলায় বিজেপির তরফ থেকে এলাকার তরুণ সিপিআইএম নেতাদের কাছে দলবদলের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। দলবদল করলে গেরুয়া শিবিরে ভাল পদ দেওয়ার অফারও করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে তৃণমূলের বিকল্প বিজেপিই। বামেরা নয়। দীর্ঘদিন ধরে সিপিআইএমের দলে থাকলেও পার্টির অভ্যন্তরে পদোন্নতির সুযোগ না পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বেড়ে চলেছে। জেলায় জেলায় ছড়িয়ে আছে এমন উদাহরণ।
বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ, শঙ্কর ঘোষ এবং সাংসদ খগেন মুর্মু সিপিআইএম (CPIM) ছেড়ে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের বিধায়ক ও সাংসদ নেই। তরুণ নেতারা পদ লাভের লোভে বিজেপির প্রলোভনে পড়তে পারেন বলে শঙ্কিত সিপিআইএম। ছাব্বিশের ভোটের আগে অনেক কর্মী-সমর্থক বিজেপির প্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে নাম লেখাতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজ্যে বামের ভোট কমে যাওয়ায় বিজেপির ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে তৃণমূলের ভোট অটুট তো বটেই বরং বেড়েছে। যেখানে বিজেপির শক্তি কম, সেই জেলাগুলোতে বাম নেতাদের টানে বিজেপি বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, বীরভূম, বর্ধমান ও কলকাতা এসব জায়গা বিজেপির প্রধান লক্ষ্যক্ষেত্র। ফলে প্রচলিত কথা ‘রাম-বাম ঐক্য’ আরও জোরদার হচ্ছে। বামের কাছ থেকেই অক্সিজেন পেয়ে রাজ্যে বিজেপির শক্তি বাড়ছে, বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।


