Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুকৃতি ভট্টাচার্য: ভারতীয় রাজনীতিতে প্রতীকের ব্যবহার নতুন নয়। কখনও ফুল, কখনও পতাকা, কখনও পোশাক, আবার কখনও কোনও সাধারণ ব্যবহার্য বস্তু সবই রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক সভা-মিছিলের ভিড়ে একটি ব্যানার, একটি পোস্টার কিংবা একটি বিশেষ প্রতীক অনেক সময় দীর্ঘ বক্তৃতার থেকেও বেশি প্রভাব ফেলে। এবারের ২১ জুলাইয়ের জনসভাতেও তেমনই এক ব্যতিক্রমী ছবি সামনে এল। হাজার হাজার মানুষের ভিড়ের মধ্যে এক তৃণমূল কর্মীর হাতে দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি আঁকা একটি ছাতা। সাধারণ একটি ছাতা মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হল রাজনৈতিক প্রতীক ও আলোচনার কেন্দ্রে (21 July TMC)।
দলীয় টানাপোড়েনের মাঝেই নতুন বার্তা (21 July TMC)
বর্তমান সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যথেষ্ট আলোচনার বিষয়। দলের মধ্যে মতপার্থক্য ও নেতৃত্বকে ঘিরে বিভিন্ন শিবিরের অস্তিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর আলোচনা চলছে। একদিকে ঋতব্রত-পন্থী গোষ্ঠী, অন্যদিকে কালীঘাট-পন্থী গোষ্ঠী—এই দুই ধারার রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। এই পরিস্থিতিতে ২১ জুলাইয়ের জনসভা শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, বরং দলের শক্তি, ঐক্য এবং কর্মীদের মনোভাব যাচাইয়ের অন্যতম মঞ্চও ছিল। আর সেই আবহেই একটি ছাতা হয়ে উঠল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ছাতা কেন? প্রতীকের অন্তর্নিহিত অর্থ (21 July TMC)
ছাতা মূলত সুরক্ষার প্রতীক। রোদ, বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে মানুষকে রক্ষা করাই তার কাজ। সেই কারণেই রাজনৈতিক অর্থেও ছাতার ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওই কর্মীর বক্তব্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট, “যেমন ছাতা আমাদের রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে, তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের কাছে আশ্রয়, নিরাপত্তা ও ভরসার প্রতীক।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, দলের অভ্যন্তরে যত মতপার্থক্যই থাকুক না কেন, কর্মীদের কাছে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের প্রতিই আস্থা অটুট রয়েছে।

নেত্রী নয়, ‘অভিভাবক’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা
রাজনীতিতে নেতা এবং অভিভাবকের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নেতা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন, আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। কিন্তু অভিভাবক এমন একজন, যাঁর কাছে কর্মীরা নিজেদের নিরাপদ বলে মনে করেন। ছাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তার মূল সুর ছিল—তিনি কেবল দলের প্রধান নন, বরং একজন অভিভাবক, যিনি সব পরিস্থিতিতে কর্মীদের পাশে থাকেন। এই ভাবনাকে আরও জোরালো করতে অনেকেই তাঁকে ‘বটবৃক্ষ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। ভারতীয় সংস্কৃতিতে বটগাছ দীর্ঘদিন ধরেই আশ্রয়, স্থায়িত্ব এবং সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তাই ‘ছাতা’ এবং ‘বটবৃক্ষ’—দুটি প্রতীক একই বার্তাকেই শক্তিশালী করে।
আবেগের রাজনীতির নতুন অধ্যায় (21 July TMC)
ভারতের রাজনীতিতে আবেগের গুরুত্ব সবসময়ই ছিল। শুধুমাত্র উন্নয়ন, প্রশাসন বা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, মানুষের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক তৈরি করাও রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছাতার এই প্রতীকও সেই আবেগকেই সামনে আনে। এতে নেত্রীর সঙ্গে কর্মীদের সম্পর্ককে পারিবারিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট। ‘দল’ নয়, ‘পরিবার’ এই ধারণা রাজনৈতিক সংগঠনকে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
দুই শিবিরের লড়াইয়ের মাঝেও একতার বার্তা?
বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় বিভাজনের আলোচনা যতই থাকুক না কেন, সাধারণ কর্মীদের একাংশ যে এখনও সর্বোচ্চ নেতৃত্বকেই কেন্দ্র করে নিজেদের পরিচয় খুঁজে পান, সেই ইঙ্গিতও এই প্রতীকী উপস্থাপনায় উঠে এসেছে। ছাতাটি যেন নীরবে বলছে, গোষ্ঠী বদলাতে পারে, নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু কর্মীদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় এখনও দল এবং সেই দলের মুখ। এ কারণেই একটি সাধারণ ছাতা রাজনৈতিকভাবে এত বড় বার্তা বহন করতে সক্ষম হয়েছে (21 July TMC)।
.jpg)
আরও পড়ুন: July21 Mamata: রাতভর ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে পাহারায় ছিল মমতা-অভিষেক!
রাজনীতিতে প্রতীকের শক্তি কেন এত বেশি?
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে অসংখ্য প্রতীক মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। কারণ প্রতীক এমন এক ভাষা, যা পড়াশোনা, ভাষা বা দীর্ঘ বক্তৃতার উপর নির্ভর করে না। একটি ছবি বা একটি সাধারণ বস্তু মুহূর্তের মধ্যেই মানুষের মনে নির্দিষ্ট অনুভূতি তৈরি করতে পারে। ছাতা এখানে শুধু একটি ব্যবহার্য বস্তু নয়। এটি নিরাপত্তা, আশ্রয়, নির্ভরতা এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতীক হিসেবেই সামনে এসেছে।



