Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কালীঘাট তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের সভাস্থলে হামলা। সভাস্থলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশকে নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের(Kalighat TMC HC)। তারামণ্ডলের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শহিদ সমাবেশের অনুষ্ঠানকে ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা! কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপিকে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নির্দেশ দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
রাজ্যের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন বিচারপতির (Kalighat TMC HC)
‘আদালতের নির্দেশে সবকিছু হলেও অশান্তির আশঙ্কা কেন তৈরি হবে? কী করে এমনটা হয়? অ্যাডভোকেট জেনারেলের সামনে গত ১৫ জুলাই নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। তারপরেও কী করে এমনটা হয়? জয়েন্ট কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আদালত আগেই আশঙ্কা করেছিল, এমন কোনও গন্ডগোল হতে পারে। তাই সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পুলিশকে। এটা আদালতের জন্যও যথেষ্ট বিড়ম্বনার।’ অভিযোগে বিরক্ত হয়ে রাজ্যের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন বিচারপতি। তারপরই, কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনারকে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। পুলিশের থেকে জবাব তলব আদালতের।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ‘কালীঘাট’ তৃণমূলের একুশে জুলাই বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে শহিদ স্মরণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গিয়েছিল সোমবার রাতেই। কিন্তু রাতে কে বা কারা ওই মঞ্চে হামলা চালিয়ে সমস্ত তছনছ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাইকে করে এসে ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে এবং সাউন্ড সিস্টেমের তার কেটে দিয়েছে। তাই সোমবার গভীর রাতেই ফের সভাস্থলে পৌঁছন তৃণমূলনেত্রী ও দলের অন্যান্য নেতারা। রাতভর ওই মঞ্চের সামনে বসেই পাহারা দিলেন তাঁরা(Kalighat TMC HC)।
এই ঘটনায় হামলা ও অশান্তির আশঙ্কা করে সোমবার রাতেই কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর কাছে অভিযোগ জানায় তারা।মঙ্গলবার সকালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী অর্ক নাগ। কারণ, কালীঘাট তৃণমূলের আবেদনে সারা দিয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য একাধিক শর্তসাপেক্ষে তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাট তৃণমূলকে শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়েছিল(Kalighat TMC HC)।
মঙ্গলবার সকালে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কথা শুনে চরম ক্ষোভ এবং বিরক্তি প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলে বলেন,, ‘যেখানে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে এ ধরনের হামলা ও বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ধরনের ঘটনা কোনভাবেই আদালত বরদাস্ত করবে না। আদালতের নির্দেশের পরও কী করে এমনটা হয়? অ্যাডভোকেট জেনারেলের সামনে গত ১৫ জুলাই নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। তারপরেও কী করে এমনটা হয়? জয়েন্ট কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আদালত আগেই আশঙ্কা করেছিল, এমন কোনও গন্ডগোল হতে পারে। তাই সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পুলিশকে। এটা আদালতের জন্যও যথেষ্ট বিড়ম্বনার।'(Kalighat TMC HC)
আরও পড়ুন: 21 July TMC: ছাতায় মমতার ছবি! একুশে জুলাইয়ে কী বার্তা দিলেন তৃণমূল কর্মীরা?
তারপরই বিচারপতি ভট্টাচার্য্য এজি-কে নির্দেশ দিয়েছেন, নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য পুলিশ ও আয়োজকদের ওপর বর্তায়। এই ধরনের ঘটনা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করবে। এরপরই পুলিশকে কালীঘাট তৃণমূলের সভাস্থলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দেন বিচারপতি ভট্টাচার্য(Kalighat TMC HC)। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনারকে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন বিচারপতি। সেইসঙ্গে, এই নিয়ে পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্টও তলব করেছে আদালত।



