Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজকের প্রতিযোগিতামূলক সময়ে ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যকে প্রায়ই নম্বর ও পরীক্ষার ফল দিয়ে বিচার করা হয় (Student Wellness Programme)। কিন্তু একজন শিক্ষার্থী মানসিকভাবে স্বস্তিতে না থাকলে তার পড়াশোনা, আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ সবকিছুই প্রভাবিত হতে পারে। তাই শিক্ষার পাশাপাশি মানসিক, শারীরিক ও আবেগগত সুস্থতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যক্তিগত উদ্যোগে এক মানবিক প্রয়াস (Student Wellness Programme)
এই প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে তপন চক্রবর্ত্তী নিজের উদ্যোগে এবং সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য Student Wellness Programme চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিচিতির সূত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, উদ্যোগের গুরুত্ব বোঝানো এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাওয়া তাঁর প্রচেষ্টার উল্লেখযোগ্য দিক।
মানসিক চাপ মোকাবিলার শিক্ষা (Student Wellness Programme)
পরীক্ষা, ভবিষ্যৎ, প্রতিযোগিতা ও পারিবারিক পরিস্থিতি থেকে অনেক ছাত্রছাত্রীর মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি হয়। এই উদ্যোগে তাদের নিজের অনুভূতি বুঝতে, চাপ সামলাতে, মনোযোগ বাড়াতে এবং প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত বড় মানুষ বা পেশাদারের সাহায্য নিতে উৎসাহিত করা হয়।

শরীর ভালো থাকলেই মনও ভালো (Student Wellness Programme)
দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা, মোবাইল ব্যবহার, অপর্যাপ্ত ঘুম ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই নিয়মিত শরীরচর্চা, হাঁটা, stretching, যোগব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্বও এই কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আবেগ ও সম্পর্ক বোঝার পাঠ (Student Wellness Programme)
রাগ, ভয়, দুঃখ, হতাশা কিংবা ব্যর্থতা সবই জীবনের স্বাভাবিক অনুভূতি। এগুলি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, অন্যের অনুভূতিকে কীভাবে সম্মান করতে হয় এবং bullying বা সংঘাতের পরিস্থিতিতে কীভাবে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে হয়, সেই শিক্ষাও একজন ছাত্রের ভবিষ্যৎ জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।

পড়াশোনার চাপ কমিয়ে দক্ষতা বাড়ানো
Wellness Programme পড়াশোনা থেকে দূরে সরিয়ে দেয় না; বরং আরও কার্যকরভাবে পড়তে শেখায়। সময় ব্যবস্থাপনা, study planning, মনোযোগের অনুশীলন, পর্যাপ্ত বিরতি এবং বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে পড়াশোনাকে চাপের বদলে একটি সুসংগঠিত অভ্যাসে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়।
স্কুল ও সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন (Student Wellness Programme)
এ ধরনের উদ্যোগ একজন ব্যক্তির পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যাওয়া কঠিন। স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সমাজের সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে এর পরিধি আরও বাড়তে পারে। প্রতিটি স্কুলে নিরাপদে কথা বলার পরিবেশ, সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

আরও পড়ুন: Teacher Protest: সেনসাসের চাপে শিক্ষকতা! হাইকোর্টের বিকল্প পরামর্শ?
সুস্থ ছাত্রই ভবিষ্যতের শক্তি (Student Wellness Programme)
তপন চক্রবর্ত্তীর উদ্যোগের মূল বার্তা হল, শুধু ভালো ছাত্র নয়, ভালোভাবে বাঁচতে পারে এমন মানুষ তৈরি করাই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য। একজন ছাত্র যখন নিজের মন ও শরীরের যত্ন নিতে শেখে, ব্যর্থতা সামলাতে শেখে এবং প্রয়োজনের সময় সাহায্য চাইতে পারে, তখন তার শিক্ষাও পূর্ণতা পায়। বিনা পারিশ্রমিকে প্রতিকূলতার মধ্যেও চালিয়ে যাওয়া এই উদ্যোগ তাই নিছক ব্যক্তিগত প্রয়াস নয়; এটি সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার এক আন্তরিক সামাজিক দায়িত্ববোধের উদাহরণ।



