Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য ফাঁসির বিকল্প হিসেবে অন্য কোনও কম যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতি চালু করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত(SC Death Penalty)। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আপাতত দেশে ফাঁসিই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বহাল থাকবে।
রিট পিটিশনে কী দাবি করা হয়? (SC Death Penalty)
আইনজীবী ঋষি মালহোত্রা একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে দাবি জানান:
ফাঁসির প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নৃশংস, অমানবিক এবং বেদনাদায়ক।
এর পরিবর্তে বিষাক্ত ইনজেকশন (Lethal Injection), গুলি করা, বৈদ্যুতিক চেয়ার বা গ্যাস চেম্বারের মতো আধুনিক বিকল্প ব্যবহার করা হোক।
ফাঁসি দিলে মৃত্যু ঘোষণা করতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে, যেখানে ইনজেকশন বা গুলিতে মাত্র ৫ মিনিটে মৃত্যু ঘটে।
সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ (SC Death Penalty)
আদালত এই বিষয়ে পূর্বে দেওয়া তিনটি রায়কে বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর আর্জি প্রত্যাখ্যান করে জানায় যে, পুনর্বিবেচনার মতো যথেষ্ট ভিত্তি নেই। তবে সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করেছে যে এটিই শেষ কথা নয়।
ভবিষ্যতে যদি বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত শক্তিশালী প্রমাণ মেলে, তবে এই বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা যেতে পারে।
কেন্দ্র সরকার চাইলে বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি গঠন করে বিকল্প পদ্ধতিগুলি পর্যালোচনা করতে পারে।
আরও পড়ুন: Imran Pak SC: ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ: হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ পাক সুপ্রিম কোর্টের
কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান (SC Death Penalty)
অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি আদালতকে জানান, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। তবে বন্দীদের ফাঁসি বা বিষাক্ত ইনজেকশনের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবটি “ব্যবহারিকভাবে সম্ভব নয়” বলে কেন্দ্র হলফনামায় জানায়। এতে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্তব্য করে যে, সময়ের সাথে পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের অনীহা স্পষ্ট। সব মিলিয়ে, আপাতত আইনি ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাবে মৃত্যুদণ্ডের প্রাচীন ফাঁসি পদ্ধতিই বহাল থাকছে।



