Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ডার্বি জিতে সুখবর দিল সমর্থকদের ইস্টবেঙ্গল (East Bengal Foreigner)। নতুন বিদেশির নাম ঘোষণা করে দিল লাল হলুদ। শোনা যাচ্ছে চলতি সপ্তাহতেই কি আসছেন দিয়েগো জিভুলিচ। ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে নামটা হয়তো এখনও খুব পরিচিত নয়। কিন্তু ইউরোপের ফুটবলে প্রায় দেড় দশকের পথচলায় ৩৩ বছরের এই ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার দেখেছেন উত্থান-পতন, লোনে খেলা, বিদেশের মাটিতে নিজেকে প্রমাণ করা, দেশের বাইরে নতুন ভাষা শেখা আর বারবার নতুন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা। এবার সেই পথের পরবর্তী গন্তব্য কলকাতা, আর ঠিক সেখানেই গল্পটা হয়ে উঠছে ইস্টবেঙ্গলের জন্য বেশ আকর্ষণীয়।
স্থানীয় ক্লাব থেকে রিয়েকা (East Bengal Foreigner)
দিয়েগোর ফুটবলযাত্রা শুরু হয়েছিল নিজের শহর নভিগ্রাদের স্থানীয় ক্লাবে। এরপর তিনি যোগ দেন জাদ্রানের পোরেচে। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তাঁর প্রতিভা নজরে পড়ে ক্রোয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিয়েকার। যুব পর্যায়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেওয়ার পর রিয়েকার হয়ে খেলেন কভার্নেরস্কা রিভিয়েরা টুর্নামেন্টে। সেখানেই সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু সিনিয়র দলে জায়গা পাওয়ার পথটা সহজ ছিল না।
পেশাদার ফুটবলে পদার্পণ (East Bengal Foreigner)
২০১০ সালে তাঁকে লোনে পাঠানো হয় তৃতীয় ডিভিশনের ক্লাব ওরিয়েন্টে। পরে খেলেন দ্বিতীয় ডিভিশনের পোমোরাচে। এই সময়টাতেই ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছিলেন দিয়েগো। শুধু একজন ফুটবলার হিসেবে নয়, একজন পেশাদার হিসেবে। রিয়েকা হয়ে ২০১১-১২ মরশুমে তাঁর প্রথম পেশাদার অধ্যায় শুরু হয়। সেই মরশুমে নয়টি ম্যাচ খেলেন তিনি। এরপর আবার পোমোরাচে ফিরে যান এবং ২০১৪ সালে রিয়েকার সঙ্গে তাঁর অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
চেক প্রজাতন্ত্রে নতুন অধ্যায় (East Bengal Foreigner)
২০১৪ সালে দিয়েগো পাড়ি দেন চেক প্রজাতন্ত্রে। যোগ দেন দ্বিতীয় ডিভিশনের ফাস্টাভ জ্লিনে। সেখানে পৌঁছে খুব দ্রুতই সমর্থকদের মন জয় করে নেন এবং প্রথম মরশুমেই করেন চারটি গোল। তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের হাত ধরে জ্লিন উঠে আসে চেক ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে। এই জায়গাতেই লুকিয়ে আছে তাঁর চরিত্রের একটি অসাধারণ দিক—তিনি শুধু ফুটবল খেলেননি, শিখেছেন ভাষাও। ক্রোয়েশিয়ান, ইতালিয়ান, ইংরেজি, স্প্যানিশ ও জার্মানের পাশাপাশি চেক ভাষাটাও খুব দ্রুত আয়ত্ত করেছিলেন তিনি।
পড়াশোনা ও ফুটবল একসঙ্গে এগিয়ে চলা
দিয়েগো জিভুলিচের গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ সম্ভবত এখানেই। তিনি শুধু ফুটবল খেলেননি, একইসঙ্গে পড়াশোনাও চালিয়ে গিয়েছেন। রিয়েকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অফ ইকোনমিক্সে পড়াশোনা করেছেন তিনি। ফুটবল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা দু’টিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অর্থাৎ, একদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের কঠিন পেশাদার জীবন, অন্যদিকে পরীক্ষার প্রস্তুতি।
জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা
নিজের খেলায় উন্নতি করতে হলে আরও পরিশ্রম করতে হবে—এই সোজাসাপটা মূল্যায়নই তাঁকে এতদিন ধরে টিকিয়ে রেখেছে। ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় দলের যুব পর্যায়েও খেলেছেন দিয়েগো। অনূর্ধ্ব-১৮ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ মিলিয়ে পেয়েছেন ২০টি ক্যাপ। ২০১৪ সালে জ্লিনে যাওয়ার পর তাঁর ইউরোপীয় যাত্রা আরও বিস্তৃত হয়। পরে ২০১৯ সালে যোগ দেন পোল্যান্ডের শ্লাস্ক ভ্রোৎসওয়াফে। চেকিয়া ও পোল্যান্ডের ফুটবল সংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে খেলে আসা এই ফুটবলারের অভিজ্ঞতার ঝুলি তাই যথেষ্ট সমৃদ্ধ।
আরও পড়ুন: East Bengal CFL: ফের জয় ইস্টবেঙ্গলের! কালীঘাট মিলন সংঘকে হারিয়ে সুপার সিক্সের দোরগোড়ায় লাল-হলুদ
ইস্টবেঙ্গলের নতুন বিদেশি (East Bengal Foreigner)
কলকাতায় আসছেন এমন একজন ফুটবলার, যিনি ইউরোপের ফুটবল থেকে উঠে এসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেছেন, একাধিক দেশে মানিয়ে নিয়েছেন এবং ভিন্ন ভিন্ন ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। লাল-হলুদ (East Bengal Foreigner) শিবিরের রক্ষণ ও মাঝমাঠে এই অভিজ্ঞতা কতটা তফাৎ গড়ে দিতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।



