Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারত-মার্কিন প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের একপাক্ষিক নীতি ও কঠোর বাণিজ্য শর্তের মুখে নয়াদিল্লি তাড়াহুড়ো না করে ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করছে(US Canada)। বিশ্লেষকদের মতে, একটি অসম বা ক্ষতিকর চুক্তিতে সই করার চেয়ে চুক্তি না হওয়া বা বিলম্ব হওয়া ভারতের জন্য অনেক বেশি লাভজনক।
কানাডার পদক্ষেপে শিক্ষা ভারতের (US Canada)
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন শুল্ক ও শর্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে চুক্তি থেকে সরে এসেছেন। আমেরিকার অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের জবাবে কানাডা নিজেদের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সোচ্চার হয়েছে। এই ঘটনা থেকে ভারতের জন্য তিনটি স্পষ্ট শিক্ষা রয়েছে:
স্থায়ী ও বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি: চুক্তিতে সই করার পর যুক্তরাষ্ট্রের হুটহাট নতুন করে শুল্ক বসানোর প্রবণতা আটকানো প্রয়োজন। নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা ছাড়া কেবল সাময়িক শুল্ক ছাড়ের আশায় কোনো দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো দেওয়া ঠিক হবে না।
সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নীতির সুরক্ষা: যুক্তরাষ্ট্র প্রায়শই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ আইন, কৃষি খাত বা ডাটা সম্পর্কিত নিয়মগুলোকে ‘বাণিজ্যিক বাধা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে। ভারতের কৃষকদের স্বার্থ, ডাটা সুরক্ষার নিয়ম এবং আত্মনির্ভর ভারতের নীতিতে কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া যাবে না(US Canada)।
কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন রক্ষা: তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক সম্পর্ক কেমন হবে, সে বিষয়ে মার্কিন ভেটো বা বিধিনিষেধের চেষ্টা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল না হয়ে ভারত সফলভাবে অন্যান্য বিশ্ববাজারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ার চিত্র দেখা গেছে(US Canada)। ফলে ওয়াশিংটনের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ভারতের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয়, তবে তা কোনো অবস্থাতেই জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে নয়।



