Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে না বেরোনোর পরামর্শ বা ‘নিদান’ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক আখতারুজ্জামান। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন মন্তব্য একেবারেই প্রত্যাশিত ছিল না (Akhruzzaman)।

‘সরকার আসবে, সরকার যাবে’ (Akhruzzaman)
আখরুজামানের বক্তব্যে উঠে এসেছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মৌলিক দিক। তাঁর কথায়, সরকার পরিবর্তন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বাংলার মানুষ রায় দিয়েছেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু সরকারে থাকা মানেই যে তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ সঠিক হবে, এমনটা নয়। কোথাও ভুল, ত্রুটি বা অন্যায় হলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দায়িত্ব সেই বিষয়গুলি জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং তার প্রতিবাদ করা।
১৫ বছর বাংলার নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Akhruzzaman)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন তৃণমূলের এই নেতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ ১৫ বছর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর পাশাপাশি একাধিকবার সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ফলে বাংলার রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলেই দাবি আখতারুজ্জামানের।
‘রাস্তায় নামা তাঁর সাংবিধানিক অধিকার’ (Akhruzzaman)
আখরুজামানের মতে, একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের কোনও সিদ্ধান্তে ভুলত্রুটি দেখলে তার প্রতিবাদ করতেই পারেন। প্রয়োজনে রাজপথে নেমে রাজনৈতিক আন্দোলন করাও তাঁর সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। সেই অধিকারকে প্রশ্ন করা বা তাঁকে রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার বার্তা দেওয়া কাঙ্ক্ষিত নয় বলেই মত তাঁর।
আরও পড়ুন: Amit Shah: ভারত-নেপাল ও ভারত-ভুটান সীমান্ত নিয়ে বৈঠক, উত্তরবঙ্গে অমিত শাহের বিশেষ নজরে ‘চিকেনস নেক’
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক
এই বক্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শাসক-বিরোধী সম্পর্ক, রাজনৈতিক আন্দোলনের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক পরিসর নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আখতারুজ্জামানের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংঘাতও গণতন্ত্রের অংশ। কিন্তু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মতো একজন প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেত্রীকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া রাজনৈতিক সৌজন্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আনছে তৃণমূল কংগ্রেস।



