Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুমন পন্ডিত, ঝাড়গ্রাম: অবৈধ বালি কারবারের ‘মান্থলি’ টাকা (Illegal Sand Trade) নেওয়ার অভিযোগে ঝাড়গ্রাম থানার কনস্টেবল রতন প্রামাণিককে গ্রেফতার করল রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা (এসিবি)। একইসঙ্গে রতনকে টাকা দিতে আসা বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত তিন ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
পরকিল্পনা করে ফাঁদ পাতা হয় (Illegal Sand Trade)
ধৃতরা হলেন শান্তনু বারিক, দীপঙ্কর (Illegal Sand Trade) বারিক ও রবি বারিক। তাঁদের বাড়ি বাঁধগোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্যামসুন্দরপুর এলাকায়।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বালি গাড়ির ‘মান্থলি’ টাকা রতন প্রামাণিকের হাতে তুলে দিতে ওই তিনজন আসবেন-এই খবর কোনওভাবে দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকদের কাছে পৌঁছয়। খবর পাওয়ার পর তাঁদের ধরতে পরিকল্পনা করে ফাঁদ পাতে এসিবি।
তথ্য পাওয়ার চেষ্টা (Illegal Sand Trade)
অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ে বালি কারবারের (Illegal Sand Trade) সঙ্গে যুক্ত ওই তিনজন টাকা নিয়ে আসার সময় তাঁদের গাড়ি আটকান এসিবি আধিকারিকরা। এরপর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তাঁদের মোবাইল ফোনও পরীক্ষা করেন তদন্তকারীরা।
সেখানেই তদন্তকারীদের হাতে আসে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তাঁদের ফোনে ‘ঝাড়গ্রাম থানা ম্যানেজার’ নামে একটি নম্বর সেভ করা ছিল বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই নম্বরটি ঝাড়গ্রাম থানার কনস্টেবল রতন প্রামাণিকের। এরপর ওই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রতনের সঙ্গে টাকা লেনদেনের বিষয়টি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেন এসিবি আধিকারিকরা।
জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রেফতার
অভিযোগ, ওই তিনজন রতন প্রামাণিককে ‘মান্থলি’ টাকা দিতে ঝাড়গ্রাম থানায় আসছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই কনস্টেবল রতন প্রামাণিকের ভূমিকা সামনে আসে। এরপর রতনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁকে গ্রেফতার করে দুর্নীতি দমন শাখা।
সূত্র মারফত আরও জানা গিয়েছে, পুরো ঘটনায় মোট ৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। ওই টাকা অবৈধ বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত গাড়ি থেকে নিয়মিত আদায় করা ‘মান্থলি’ বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।
ধৃত কনস্টেবল রতন প্রামাণিক দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়গ্রাম থানায় কর্মরত। জানা গিয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে তিনি ঝাড়গ্রাম থানায় দায়িত্বে থাকা আইসিদের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমানে ঝাড়গ্রাম থানার আইসির নিরাপত্তার দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। সেই কারণে আইসির নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে তাঁকে নিয়মিত ঝাড়গ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলাফেরা করতে দেখা যায়।
ঘটনার পর ঝাড়গ্রাম থানার চাইল্ড ফ্রেন্ডলি কর্নারে ধৃতদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ চালায় এসিবি। পরে রতন প্রামাণিক-সহ চারজনকেই গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কলকাতার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অবৈধ বালি কারবারের ‘মান্থলি’ টাকা আদায়ের অভিযোগের সূত্র ধরে একজন পুলিশকর্মীর গ্রেফতারের ঘটনায় ঝাড়গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুরো ঘটনায় আর কারো যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন শাখা।


