Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: “মিলন হবে কত দিনে? আমার মনের মানুষের সনে!”- লালন ফকির এই গান হয়ত লিখেছিলেন যাদের লাভস্টোরি কাঁটা তারের সীমন্তে (PAK-IND Marriage) না আটকে পেরিয়ে গিয়েছে প্রতিবেশী দেশে। ভারত ও পাকিস্তানের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানা যতই দেওয়াল তুলুক না কেন, মন তো সীমানা মানে না—ঠিক যেমনটা রূপোলি পর্দার ‘বীর-জারা’ কিংবা ‘গদর’ ছবির সুচিত্রিত গল্পে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। রাজনৈতিক বৈরিতা এবং উত্তেজনার মাঝেও দুই দেশের মানুষের আত্মিক টান বারবার রূপকথার মতো জীবন্ত হয়ে উঠেছে। গত বছর ভারত-পাক উত্তেজনার আবহে সেই চিরন্তন প্রেমের গল্পই ফের থমকে গিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তব জীবনের ‘তারা সিং’ বা ‘বীর প্রতাপ সিংহ’দের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতে এসে পৌঁছলেন প্রায় ১৫০ জন পাকিস্তানি-সিন্ধি কনে।
‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং স্বপ্নভঙ্গের বেদনা (PAK-IND Marriage)
কয়েক দশক ধরেই অটারী-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত করে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের বহু পরিবার ভারতে তাঁদের সন্তানদের বিয়ে দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর সমস্ত সমীকরণ বদলে যায়। ওই হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর কড়া পদক্ষেপ করে ভারত সরকার। অটারী-ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জারি হয় কড়াকড়ি।
এর পরই ৭ মে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি শিবিরগুলির ওপর ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায়। এই সামরিক উত্তেজনার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। যাঁদের বিয়ের পাকা কথা হয়েছিল, সরকারের তরফে তাঁদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। চোখের জলে ভেসে যায় বহু তরুণীর বিয়ের স্বপ্ন—যেন মনে করিয়ে দিচ্ছিল সেলুলয়েডের সেই বুকভাঙা বেদনা।
ট্রানজিট রুটে ভারতে আগমন (PAK-IND Marriage)
অস্থির এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সিন্ধি অভিবাসীদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন নাগপুরের রাজেশ ঝাম্বিয়া এবং পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের ঘোটকির ‘শাদানি দরবার’-এর আধ্যাত্মিক প্রধান সন্ত যুধিষ্ঠিরলাল শাদানি। নাগপুর, রায়পুর, জোধপুর এবং পুণের মতো শহরে যাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, এমন প্রায় ১৫০ জন কনের একটি তালিকা তৈরি করে তা ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: Piyush Goyal Message: বিনিয়োগের নিরাপদ ঠিকানা ভারত : টোকিওতে বার্তা পীযূষ গোয়েলের
কেন্দ্রীয় সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে শর্তসাপেক্ষে তাঁদের ভিসা মঞ্জুর করে। তবে অটারী সীমান্ত বন্ধ থাকায় তাঁদের জন্য স্থলপথের পরিবর্তে আকাশপথ এবং ট্রানজিট রুট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে ওমান (মাস্কাট), দুবাই, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মতো দেশের ট্রানজিট রুট হয়ে একে একে ভারতে এসে পৌঁছন এই পাকিস্তানি কনেরা। এর মধ্যে শুধুমাত্র নাগপুরেই ১৫টি জমজমাট বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
আরও ৩০০ তরুণীর অপেক্ষার পালা (PAK-IND Marriage)
রিল লাইফের চেয়ে রিয়েল লাইফের টান অনেক সময় আরও গভীর হয় (PAK-IND Marriage) । ‘বীর-জারা’-র জারা বা ‘গদর’-এর সাকিনার মতো এই পাক তরুণীরাও সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে নতুন সংসারে পা রাখছেন। নাগপুরের রাজেশ ঝাম্বিয়া জানিয়েছেন, এই ১৫০ জনের সফল আগমনের পর, পাকিস্তানে আরও প্রায় ৩০০ জন তরুণী ভারতে বিয়ে করতে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের জন্যও দ্রুত ভিসা বরাদ্দ করার জন্য ভারত সরকারের কাছে নতুন করে আবেদন জানানো হয়েছে। ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কালো মেঘ কাটিয়ে এই বিয়েগুলি যেন দুই দেশের সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক মেলবন্ধনের এক অনন্য বার্তা বহন করছে।



