Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর লাগাতার মূল্যবৃদ্ধিতে রীতিমতো নাজেহাল মধ্যবিত্ত। চিনি থেকে শাক-সবজি, পেঁয়াজ থেকে ফলমূল—বাজারের প্রায় প্রতিটি প্রয়োজনীয় পণ্যের দামেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে সংসারের মাসিক বাজেট সামলাতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অনেক ক্রেতারই অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ আগেও যে পরিমাণ বাজার করতেন, এখন একই টাকায় তার তুলনায় অনেক কম জিনিস পাওয়া যাচ্ছে (Market Price)।
পেঁয়াজের দামে বড় ধাক্কা (Market Price)
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে পেঁয়াজের দাম। বাংলার বাজারে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আসে নাসিক থেকে। ফলে সেখানে পাইকারি দর বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে কলকাতার বাজারে। গত জুলাইয়ের শেষদিকে নাসিকে প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজের দর ছিল প্রায় ২,০০০ থেকে ২,১০০ টাকা। গত এক সপ্তাহে সেই দর বেড়ে ৩,৬০০ টাকা ছাড়িয়েছে বলে বাজার সূত্রে খবর।
কলকাতার শিয়ালদা কোলে মার্কেটেও তার প্রভাব স্পষ্ট। মাসখানেক আগে যেখানে পেঁয়াজের পাইকারি দর ছিল প্রায় ১৫-২০ টাকা কেজি, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০-৪৫ টাকা। খুচরো বাজারে দাম আরও বেশি। বুধবার সকালে যদুবাবুর বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে।
সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই (Market Price)
শুধু পেঁয়াজ নয়, অন্যান্য সবজির দামও মধ্যবিত্তের চিন্তা বাড়াচ্ছে। শসা প্রায় ৬০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, দেশি পটল ৮০ টাকা, করলা ও ঝিঙে প্রায় ৮০ টাকা কেজি। ঢ্যাঁড়শ ৬০-৭০ টাকা, ফুলকপি ৭০-৮০ টাকা পিস এবং বিন্সের দাম পৌঁছেছে প্রায় ১৫০ টাকা কেজিতে। ক্যাপসিকামও বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে। সরষের তেলের দাম ২০০-২৫০ টাকা লিটার এবং চিকেনের দাম প্রায় ২২০ টাকা কেজি। ডিমের দামও রয়েছে প্রায় ৮ টাকা পিস।
কমছে বাজারের পরিমাণ, বাড়ছে চিন্তা (Market Price)
দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ক্রেতাদের কেনাকাটায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, আগের তুলনায় অনেকেই কম পরিমাণে বাজার করছেন। এক কেজির বদলে আধ কেজি, এমনকী প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কম পরিমাণে পণ্য কিনে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন অনেকে। ফলে একইসঙ্গে ক্রেতার পকেটে চাপ বাড়ছে এবং বাজারে বিক্রির পরিমাণেও প্রভাব পড়ছে।
প্রশাসনের নজরদারি (Market Price)
মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম টানতে প্রশাসনও সক্রিয় হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর কলকাতার বিভিন্ন বাজারে টাস্ক ফোর্স ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা অভিযান চালাচ্ছেন। কোলে মার্কেট, যদুবাবুর বাজার, পোস্তা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে আচমকা পরিদর্শন করা হয়েছে। জেলার বাজারগুলিতেও নজরদারি চলছে।

আরও পড়ুন: Perfume: গন্ধকে সত্যিই বন্দি করা যায়! ‘পারফিউম’- সিনেমায় রয়েছে সেই রহস্য
তবে প্রশ্ন উঠছে, অভিযানের পরেও কি বাজারদরে কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে? নাকি কোথাও কোথাও দাম আরও বেড়েছে? আপাতত সেই উত্তর খুঁজছেন সাধারণ মানুষ। কারণ উৎসবের মরশুম সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যবিত্তের সংসারে চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কাই করছেন ক্রেতারা।



