Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুকৃতি ভট্টচার্য্য: কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের (Weather Update) একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ তীব্র বৃষ্টির পূর্বাভাস, জারি কমলা সতর্কতা – ৩০-৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের আশঙ্কা, কলকাতায় জারি সতর্কবার্তা।
জারি কমলা সতর্কতা (Weather Update)
দুর্যোগ পিছু ছাড়ছে না, রাজ্যবাসীর (Weather Update)। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের ফের একাধিক জেলায় জারি হয়েছে কমলা সর্তকতা বার্তা।
সরছে নিম্নচাপ (Weather Update)
নিম্নচাপ সরেছে (Weather Update) মধ্যপ্রদেশে। মৌসুমী অক্ষরেখা এবং নিম্নচাপ অক্ষরেখা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপরে রয়েছে। মৌসুমী অক্ষরেখা দীঘার উপর দিয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। নিম্নচাপ অক্ষরেখা উত্তর প্রদেশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত যা ঝাড়খন্ড এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে গিয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া (Weather Update)
দক্ষিণবঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার সকালে (Weather Update) ৬ জেলায় কমলা সতর্কতা। বৃহস্পতিবার বিকেল বা সন্ধ্যে থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে দক্ষিণবঙ্গে। দক্ষিণবঙ্গে সোমবার থেকে ফের বৃষ্টি বাড়বে। মঙ্গলবার ফের ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে বীরভূম মুর্শিদাবাদ এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলাতে। কলকাতায় আপাতত বৃষ্টি চলবে। বিকেলের পর বৃষ্টির পরিমাণ কমবে। শুক্রবার আরও কিছুটা কমবে। একই অবস্থা চলতে পারে সপ্তাহান্তে শনি এবং রবিবার।
বৃষ্টি বাড়বে কলকাতায়
সোম মঙ্গলবার ফের বৃষ্টি বাড়তে পারে কলকাতায়। ৯টি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেই জেলাগুলি হল, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটির আজকের মধ্যে শক্তিক্ষয় হবে ও সেটি সম্পূর্ণভাবে বাংলা থেকে সরে উত্তরপ্রদেশের পশ্চিম অংশে পৌঁছে যাবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, বাতাসের নিম্নস্তরে উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ অবধি একটি নিম্নচাপ রেখা রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে মৌসুমি অক্ষরেখা। এর প্রভাবে অন্তত আগামী ২ দিন দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূমে ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা। রাত থেকেই অনেক জায়গায় বৃষ্টি চলছে। সঙ্গে অতি ঘন বজ্রপাত হয়েছে। দুপুরের পর কিছু জেলায় সাময়িক ভাবে রোদ উঠলেও উঠতে পারে। ডিভিসি জল ছাড়ছে। বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দামোদর, মুণ্ডেশ্বরীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের।
জল ছাড়ছে ডিভিসি
এদিক, মাইথন-পাঞ্চেত থেকে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ছে ডিভিসি। পরিস্থিতির দিকে নজর নবান্নের। সেই জল ইতিমধ্যই ছাড়তে শুরু করেছে দুর্গাপুর বারেজ। ডিভিসির চেয়ারম্যানকে ফোন মুখ্যসচিবের, জল ছাড়ার পরিমাণ কমানোর অনুরোধ—চার জেলাকে সতর্ক থাকার নির্দেশ। মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে ডিভিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিস্তারিত কথা মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের। কেন একসঙ্গে এত পরিমাণ জল ছাড়া হচ্ছে, ডিভিসির চেয়ারম্যানের কাছে সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান মুখ্যসচিব।
কলকাতার আবহাওয়া
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টা কলকাতার আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে কয়েক পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই সকাল ৮টা বেজে ৭ মিনিট নাগাদ একটি তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা জারি করে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কলকাতা ছাড়াও দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং বীরভূমে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ তীব্র বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাস বইতে পারে।
আরও পড়ুন: RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে ফের বড় মোড়! ভিনরাজ্য থেকে গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান
বজ্রপাতের ঝুঁকি এবং নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে দুর্যোগ চলাকালীন নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। খোলা মাঠ, গাছপালা ও জলাশয়ের ধারে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় ৭৮.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করবে ২৬ ডিগ্রির আশেপাশে। বাতাসে সর্বোচ্চ আর্দ্রতার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৯ শতাংশ, যা বৃষ্টির মধ্যেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি কিছুটা বজায় রাখবে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া
উত্তরবঙ্গে পরশু শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা থাকবে জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলাতে। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টিপাত চলছে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার অবধি উত্তরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে ঝেঁপে বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
আরও পড়ুন: Ghatal Flood: নিম্নচাপের বৃষ্টি আর ব্যারেজের জলে ডুবল ঘাটাল, ‘মাস্টার প্ল্যান’ কি এখনও কাগজেই?
সব মিলিয়ে, রাজ্য জুড়ে এখনই দুর্যোগ থামছে না। আগামী কয়েকদিনে আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে বলে হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস। তবে মোটামুটি সপ্তাহান্ত অবধি বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।


