Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যে পালাবদলের পর এবার প্রথম দুর্গাপুজো (Suvendu Adhikari)। স্বাভাবিকভাবেই পুজো কমিটিগুলির অনুদান, উদ্বোধনের সময়, বিদ্যুৎ ও দমকলের খরচ এবং বহুচর্চিত দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যাল—সবকিছু নিয়েই ছিল প্রবল কৌতূহল। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি।
অনুদান ১ লক্ষ টাকা, বদল এল নিয়মে (Suvendu Adhikari)
এবার রাজ্যের সমস্ত পুজো কমিটিকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে ১ লক্ষ টাকা। তবে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে এই আর্থিক সাহায্য না নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা বড় আকারে পুজো আয়োজন করতে সক্ষম, তাঁরা সরকারি অনুদান ছাড়লে সরকার তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।
বিদ্যুৎ ও দমকলের খরচে বড় স্বস্তি (Suvendu Adhikari)
পুজো কমিটিগুলির জন্য আরও একটি বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার দুর্গাপুজোয় বিদ্যুৎ এবং দমকলের জন্য কোনও খরচ দিতে হবে না বলে জানানো হয়েছে। ফলে পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে ক্লাবগুলির আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি বাজেটের পুজো কমিটিগুলির কাছে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মহালয়ার আগে নয় কোনও উদ্বোধন (Suvendu Adhikari)
গত কয়েক বছর ধরে মহালয়ার আগেই একাধিক পুজোর উদ্বোধন হতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু এবার সেই ধারায় ছেদ পড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মাতৃপক্ষ শুরু হওয়ার আগে কোনও দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করা যাবে না। অর্থাৎ মহালয়ার পর থেকেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। এর ফলে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পুজোর সময়সূচিকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাই দেওয়া হয়েছে।
ইডেনে মহালয়ার দিন মেগা শো (Suvendu Adhikari)
এবারের দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনাও হতে চলেছে অন্যরকমভাবে। মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেনে মেগা শোয়ের মাধ্যমে পুজোর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে মহালয়ার দিন থেকেই রাজ্যজুড়ে পুজোর আবহ আরও জমজমাট হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
থাকছে না বহু আলোচিত কার্নিভ্যাল (Suvendu Adhikari)
তৃণমূল সরকারের আমলে কলকাতার রেড রোডে দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যাল ছিল অন্যতম বড় আকর্ষণ। দেশ-বিদেশের মানুষের নজর কেড়েছিল সেই আয়োজন। কিন্তু এবার সেই কার্নিভ্যাল আয়োজন করা হবে না। তার পরিবর্তে সরকারের পক্ষ থেকে শারদ সম্মানের আয়োজন করা হবে। ফলে পুজোর সরকারি উদযাপনের ধরনেও এবার বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
অনুদানের ইতিহাসেও পালাবদল (Suvendu Adhikari)
তৃণমূল সরকারের আমলে পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান দেওয়ার প্রথা শুরু হয়েছিল। প্রথমদিকে প্রতিটি ক্লাবকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হলেও ধীরে ধীরে সেই অর্থের পরিমাণ বাড়ে। ২০২৫ সালে প্রতিটি পুজো কমিটি পেয়েছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। এবার নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে সেই অনুদান কমে হয়েছে ১ লক্ষ টাকা। একইসঙ্গে বড় বাজেটের পুজোগুলিকে অনুদান না নেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Annapurna Yojana Helpline: অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে অভিযোগ? চালু হেল্পলাইন নম্বর
২৪ অক্টোবরের মধ্যে বিসর্জন, ক্রেনে নিষেধাজ্ঞা
শুধু পুজোর উদ্বোধন বা অনুদান নয়, বিসর্জন নিয়েও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৪ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত বিসর্জন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিসর্জনের সময় ক্রেন ব্যবহার করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পালাবদলের পর বাংলার প্রথম দুর্গাপুজোয় একাধিক নতুন নিয়ম ও সিদ্ধান্ত সামনে এল। এখন দেখার, নতুন এই আয়োজন এবং পরিবর্তিত রীতিনীতি বাঙালির দুর্গোৎসবকে কতটা নতুন মাত্রা দেয়।



