Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রসঙ্গ বাগেশ্বর বাবার আমিষ নিয়ে (BJP Ankan Dutta) মন্তব্য। যারা আমিষ খান তারা পাখণ্ডি। সনাতনী সমাবেশে এই কথা বলেছিলেন তিনি। তারপর থেকেই একই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসছে, এবারের পালাবদলের পুজোয় কী বাঙালির পাতে শুধুই নিরামিষ?
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন নবমীতে পাঁঠার (BJP Ankan Dutta) মাংস খাবার কথা। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষেরও আমিষেই ভোট। এই সম্পর্কে কে টিভি বাংলাকে কী জানলেন বিজেপি মুখপাত্র অঙ্কন দত্ত?
মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ (BJP Ankan Dutta)
প্রথমেই তিনি স্পষ্ট করে জানান, বাগেশ্বর বাবার (BJP Ankan Dutta) এই মন্তব্যের প্রতিবাদ তিনি করেছেন। ‘পাখণ্ডি’ মন্তব্যকে তিনি একেবারেই সমর্থন করেন না। তিনি বলেন, “বাগেশ্বর ধামের যিনি শাস্ত্রী রয়েছেন, ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী, তাঁর বক্তব্যে যাদের আপত্তিজনক মনে হয়েছে (এবং তার মধ্যে আমিও আছি)-বিজেপির মধ্যেও যাদের মনে হয়েছে যে উনি “পাষণ্ডী” শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যদিও এটি একটি সাধুসুলভ তিরস্কার… অর্থাৎ সাধু-সন্ন্যাসীরা হিন্দুশাস্ত্রে বা হিন্দু ধর্মমতে তাঁদের বিচার অনুযায়ী, যাঁরা তাঁদের দেখানো পথ বা অনুসরণ করা পথ মানেন না, তাঁদেরকে পাষণ্ডী বা অধার্মিক ইত্যাদি বলে তিরস্কার করে থাকেন। তবে আমরা যারা মনে করেছি যে এই শব্দটি ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নয়, আমরা সকলেই তার বিরোধিতা করেছি। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক থেকে শুরু করে দলীয় মুখপাত্র-সবাই এর প্রতিবাদ করেছেন। এমন নয় যে প্রতিবাদ করেননি।”

সনাতনী সমাবেশ (BJP Ankan Dutta)
তাঁর মতে, “কিন্তু যে অনুষ্ঠানটি হয়েছিল, সেটি একটি সনাতনী সমাবেশ ছিল। সেই সনাতনী সমাবেশে একজন গর্বিত হিন্দু হিসেবে-কোনও সরকারের প্রতিনিধি বা দলের প্রতিনিধি নয়-একজন সনাতনী হিসেবে সমস্ত মানুষ গেছেন। রাজনীতির রং নির্বিশেষে বহু মানুষ ওখানে সমবেত হয়েছিলেন। তো সেখানে শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে আরও যারা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সবাই সনাতনী পরিচয়ে গেছেন। আমরা যখন মন্দিরে পুজো দিতে যাই বা ঠাকুর প্রণাম করতে যাই, আমরা তো বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম বা কংগ্রেসের পরিচয় নিয়ে যাই না; হিন্দু পরিচয়ে যাই।”
আইনি পদক্ষেপের প্রসঙ্গ
আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, “আর আপনি যে আইনি পদক্ষেপের কথা বলছেন, আজই তো দেখলাম কংগ্রেসের নেতারা বেশ কিছু জায়গায় এফআইআর করেছেন। ভবানীপুর থানায় তারা এফআইআর করেছেন। কিন্তু বিষয়টা হচ্ছে, এখন এফআইআর করা যায়। একজন গেরুয়া বসনধারী কোনও শব্দবন্ধ প্রয়োগ করলে, সেটাতে আপত্তি থাকলে তাঁরা এফআইআর করেছেন; আইনের শাসন রয়েছে এখন পশ্চিমবঙ্গে।
আরও পড়ুন: Eiffel Tower Strike: অতিথিদের ‘শর্তে’ মহিলা কর্মীদের সরানো! ধর্মঘটে বন্ধ আইফেল টাওয়ার
কিন্তু এই বিভিন্ন ধর্মীয় জলসায়-ইসলামিক জলসায় যখন গত বছর পর্যন্ত আমরা শুনেছিলাম যে মেয়েরা জিন্স পরলে সেই মেয়েরা সমাজচ্যুত হবে, সেই মেয়েদের জিন্স-টপ পরার স্বাধীনতা নেই, কিংবা কোথাও আমরা শুনেছিলাম যে গান-বাজনা গাওয়া হারাম বলে তা নিষিদ্ধ করে দেওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছিল-তখন এই সব কংগ্রেসের মনে হয়নি যে এগুলো বন্ধ করি বা এদের বিরুদ্ধে এফআইআর করি। এদের সমস্ত প্রতিক্রিয়া শুধুই হিন্দু ধর্ম, হিন্দু শাস্ত্র বা হিন্দু সাধু-সন্ন্যাসীদের ওপর দিতে হবে!”

নিছক হিন্দু টার্গেট!
“আমি আবারও বলছি, ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী যে কথাটা বলেছেন, সে কথাটা বলা অনুচিত। উনি ওনার মতে বিশ্বাস করেন-গৌড়ীয় বৈষ্ণব মত, যে মত নিরামিষ খাওয়ার বা নিরামিষাশী হওয়ার কথা বলে, সেই মতটা তো পশ্চিমবঙ্গ থেকেই তৈরি হয়েছে, এই মাটি থেকেই তৈরি হয়েছে। আমাদের নতুন করে আমিষ-নিরামিষ শেখানোর প্রয়োজনীয়তা নেই। তাঁর মতের সাথে আমরা কেউ সহমত নই। কিন্তু কংগ্রেস বা তথাকথিত বামপন্থীদের এই যে অতি-সক্রিয়তা, এটা নিছকই হিন্দুকে টার্গেট করা, আর কিছু নয়।”


