Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বলা এবং আমিষ খাওয়ার বিরোধিতা করার মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ড. দেবব্রত নাথ ভৈরবী (Dr Debobroto Nath Bhiravi)। তাঁর বক্তব্য, মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এভাবে মন্তব্য করা উচিত নয়। আমিষ খেলে মানুষ ‘পাখণ্ডী’ হয়ে যায়, এই ধারণার সঙ্গে তিনি সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করেন এবং বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

দুর্গাপুজোয় আমিষ ভোগের প্রসঙ্গ (Dr Debobroto Nath Bhiravi)
ড. ভিরাভির যুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে বাঙালির দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যকে ঘিরে। তাঁর মতে, বাঙালির দুর্গাপুজোয় আমিষ ভোগ দেওয়ার প্রচলন রয়েছে এবং সেই ভোগ অনেক ক্ষেত্রে প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ফলে বাঙালির দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতিকে সরাসরি ‘পাখণ্ড’ বলে দাগিয়ে দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্নই তিনি তুলেছেন।
শাস্ত্র ও দেবদেবীর উপাসনার বৈচিত্র্য (Dr Debobroto Nath Bhiravi)
শুধু সামাজিক রীতির কথা নয়, নিজের বক্তব্যের পক্ষে হিন্দু শাস্ত্রের বিভিন্ন দৃষ্টান্তও তুলে ধরেছেন ড. ভৈরবী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেবতার উপাসনায় বিভিন্ন ধরনের নিবেদন বা উৎসর্গের বিধান রয়েছে। বিষ্ণুর ক্ষেত্রে হবি, গণেশের ক্ষেত্রে মোদক এবং শিবের ক্ষেত্রে জলাভিষেকের মতো আচার প্রচলিত রয়েছে। অন্যদিকে, শক্তি উপাসনায় বলিদানের প্রথার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
দুর্গাপুজোর চারটি প্রধান কর্ম (Dr Debobroto Nath Bhiravi)
ড. ভিরাভির ব্যাখ্যায় দুর্গাপুজো একটি ‘চতুষ্কর্মময়ী’ পুজো। তাঁর মতে, এই পুজোর প্রধান চারটি কর্ম হল মহাস্নান, যথাবিধি পূজা, হোম এবং বলিদান। বিশেষত মহাশক্তির উপাসনার ক্ষেত্রে বলিদানকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আচার হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
তিন পুরাণের প্রসঙ্গ তুলে যুক্তি (Dr Debobroto Nath Bhiravi)
দুর্গাপুজোর শাস্ত্রীয় ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দেবীপুরাণ, কালিকাপুরাণ এবং বৃহন্নন্দীকেশ্বর পুরাণের উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই তিনটি পুরাণমত অনুসারেই দুর্গাপুজোয় বলিদানকে কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই বাঙালির দুর্গোৎসবের সঙ্গে যুক্ত দীর্ঘদিনের আচার-অনুষ্ঠান না জেনে আমিষভোজনকে ধর্মবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয় বলেই তাঁর মত।

আরও পড়ুন: Dr. Aditya Mukhopadhyay: বহুরূপী কি সত্যিই চোর-ডাকাত! কী বললেন সাহিত্যিক ড: আদিত্য মুখোপাধ্যায়
“ঠিক না জেনে বলা হচ্ছে”, দাবি ড. ভৈরবী
সবশেষে ড. দেবব্রত নাথ ভৈরবীর বক্তব্য, বাগেশ্বর বাবা হয়তো বাংলা ও বাঙালির ধর্মীয় সংস্কৃতি এবং দুর্গাপুজোর শাস্ত্রীয় রীতিগুলি যথেষ্ট না জেনেই এমন মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোনও একটি নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসকে কেন্দ্র করে একটি গোটা সম্প্রদায় বা সংস্কৃতিকে বিচার করা উচিত নয়। বাঙালির ধর্মীয় ঐতিহ্য, শাক্ত সংস্কৃতি এবং দুর্গাপুজোর বহুমাত্রিক রীতিকে সামনে রেখেই এই বিতর্ককে দেখা প্রয়োজন।



