Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘কেটিভি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেখক ঋজুরেখ চক্রবর্তী স্পষ্ট জানালেন, বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও বিশেষ প্রতিক্রিয়া নেই (Rejurekh Chakroborti)। তাঁর বক্তব্য, একজন ব্যক্তি নিজের রুচি, সংস্কৃতি ও পারিবারিক শিক্ষার ভিত্তিতে কোনও নির্দিষ্ট ধারণা পোষণ করতেই পারেন। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত ধারণাকেই সম্পূর্ণ হিন্দু ধর্মের একমাত্র সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা নিয়েই তাঁর আপত্তি।
হিন্দু ধর্মের বৈচিত্র্য সম্পর্কে প্রশ্ন (Rejurekh Chakroborti)
ঋজুরেখের মতে, হিন্দু ধর্মের পরিসর অত্যন্ত বিস্তৃত এবং বহুমাত্রিক। শাক্ত, বৈষ্ণব, শৈব-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আচার, বিশ্বাস ও ধর্মাচরণে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ফলে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের খাদ্যাভ্যাস বা আচারকে গোটা হিন্দু সমাজের জন্য বাধ্যতামূলক বলে দাবি করা ধর্মীয় বৈচিত্র্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই জায়গা থেকেই তিনি বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের জ্ঞানভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
‘পাখণ্ডী’ শব্দ নিয়েও তীব্র আপত্তি (Rejurekh Chakroborti)
সাক্ষাৎকারে ‘পাখণ্ডী’ শব্দটির অর্থ নিয়েও আলোচনা করেন ঋজুরেখ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শব্দটি ‘পাষণ্ড’ বা ‘ভণ্ড’ অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে। তাঁর প্রশ্ন, বাঙালি হিন্দুদের উদ্দেশে এমন শব্দ ব্যবহারের পরেও কেন ব্যাপক প্রতিবাদ দেখা গেল না? বিশেষ করে অন্য কোনও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে যে ধরনের আইনি পদক্ষেপ বা ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ সামনে আসে, এখানে তার তুলনায় নীরবতা তাঁকে ভাবিয়েছে।

ধর্মীয় ভাবাবেগ কি বেছে বেছে কাজ করে? (Rejurekh Chakroborti)
ঋজুরেখ চক্রবর্তীর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ধর্মীয় ভাবাবেগের দ্বৈত মানদণ্ডের প্রশ্ন। তাঁর মতে, কখনও সামান্য রসিকতা বা কবিতার বক্তব্য নিয়েও অনেকে তীব্রভাবে আহত হন। কিন্তু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বলার মতো মন্তব্যে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। এই বৈপরীত্যকেই তিনি একই সঙ্গে ‘মজার’ এবং উদ্বেগজনক বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
সরকারি আতিথ্য নিয়েও প্রশ্ন (Rejurekh Chakroborti)
বাগেশ্বর বাবা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছে মূল ইস্যু নন—এ কথা বারবার স্পষ্ট করেছেন ঋজুরেখ। তাঁর আসল প্রশ্ন, এমন মন্তব্য করা একজন ব্যক্তি কীভাবে সরকারি স্বীকৃতি ও সরকারি আতিথ্য পাচ্ছেন? শুধু তা-ই নয়, আরও বৃহত্তর সরকারি সহযোগিতা বা আতিথ্যের আবেদন-নিবেদন কেন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তিনি তুলেছেন।
প্রতিবাদে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা কেন? (Rejurekh Chakroborti)
ঋজুরেখের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় এফআইআর করেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। এখানেই তাঁর আরেকটি প্রশ্ন—ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব কি শেষ পর্যন্ত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলিকেই নিতে হবে? ধর্মীয় ভাবাবেগের প্রশ্নে যাঁরা অন্য সময়ে সরব হন, তাঁরা এবার কেন একইভাবে প্রতিবাদে সামনে এলেন না—এই প্রশ্ন তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।

আরও পড়ুন: Avik Sarkar: বাগেশ্বর বাবাকে এবার শাস্ত্রের পাঠ পড়ালেন লেখক অভীক সরকার
‘মজার মধ্যে উদ্বেগ’, নাকি উদ্বেগের মধ্যেই মজা?
সব মিলিয়ে ঋজুরেখ চক্রবর্তীর বক্তব্যের মূল সুর ব্যক্তি বাগেশ্বর বাবাকে আক্রমণ নয়; বরং তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে সমাজের প্রতিক্রিয়া, ধর্মীয় বৈচিত্র্য, সরকারি ভূমিকা এবং প্রতিবাদের দ্বৈত মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি একদিকে তাঁর কাছে মজার, আবার একই সঙ্গে উদ্বেগেরও। অর্থাৎ, ধর্মীয় অনুভূতির প্রকাশ যদি পরিস্থিতি ও পক্ষভেদে বদলে যায়, তাহলে সেই প্রবণতা ভবিষ্যতের সামাজিক পরিবেশ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।



