Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গত বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ (AISA)। বিরোধীশূন্য বিধানসভায় বিলটি পাশ হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস্ অ্যাসোসিয়েশন বা AISA-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি। সংগঠনের সভাপতি ঋতম মাজির দাবি, এই বিল কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, গবেষণা এবং শিক্ষার মান, তিন ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্ততায় আঘাত? (AISA)
AISA-র অভিযোগ, প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির বিধান যুক্ত করে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে সংকুচিত করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রয়োজন ও শিক্ষকের দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও প্রশাসনিক বদলির মাধ্যমে সেই কাঠামোয় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি সংগঠনের(AISA)।
বিকেন্দ্রীকরণের আড়ালে রাজনৈতিক চাপ? (AISA)
সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চমানের শিক্ষাকে আরও বিস্তৃত করার যুক্তি দেওয়া হলেও AISA-র বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে বিলটির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সংগঠনের অভিযোগ, সরকারবিরোধী মতকে নিয়ন্ত্রণ করার পথ আরও প্রশস্ত হতে পারে।
গবেষণায় পড়তে পারে বড় প্রভাব (AISA)
এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করা হলে তাঁর নিজস্ব গবেষণার পাশাপাশি তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকা গবেষকদের কাজও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো সমান নয়—ফলে এমন বদলি গবেষণার ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত AISA-র।
র্যাঙ্কিংয়ে ক্ষতির আশঙ্কা (AISA)
যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান সীমিত অর্থ ও পরিকাঠামোর মধ্যেও জাতীয় স্তরে সাফল্য অর্জন করেছে। AISA-র মতে, দীর্ঘদিনের শিক্ষক, গবেষক ও পড়ুয়াদের সম্মিলিত পরিশ্রমই এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। প্রশাসনিক রদবদল সেই ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কারা? (AISA)
সংগঠনের বক্তব্য, এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের উপর। শিক্ষক বদলির ফলে ক্লাস, গবেষণা এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তৈরি হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তাও।
বেসরকারি শিক্ষার বাজার কি আরও বাড়বে?
AISA-র দাবি, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামোগত দুর্বলতা না মিটিয়ে শিক্ষক বদলির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলে ধীরে ধীরে সরকারি উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তার সুযোগ নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ব্যবসা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা সংগঠনের।
আরও পড়ুন: Sukanta Majumder: দেবের বাড়িতে মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার
অনুদান বাড়ানোই কি প্রকৃত সমাধান?
AISA-র মতে, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও পরিকাঠামোর অভাবে সমস্যায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, শিক্ষক নিয়োগ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নই হওয়া উচিত ছিল সরকারের অগ্রাধিকার। বদলির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করে উচ্চশিক্ষার মান রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে সংগঠন। একইসঙ্গে বিল প্রত্যাহারের দাবিতে বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক ছাত্র-গবেষক-শিক্ষক সংগঠনগুলিকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস্ অ্যাসোসিয়েশনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি।



